Advertisement
  • দে । শ
  • মে ২, ২০২৩

গান্ধি ঘাতকের পরিচয় বাতিল ! তীব্র নিন্দা রোমিলা থাপারের । কালানুক্রমিক ধারাবাহিকতা ছাড়া ইতিহাস রচনা অন্যায়

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠ্যক্রমেও এনসিইআরটির ছোরা, বিস্মিত বিশ্ববরেণ্য ঐতিহাসিক

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
গান্ধি ঘাতকের পরিচয় বাতিল ! তীব্র নিন্দা রোমিলা থাপারের । কালানুক্রমিক ধারাবাহিকতা ছাড়া ইতিহাস রচনা অন্যায়

এনসিইআরটির পাঠ্য পুস্তক পরিবর্তন নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করলেন প্রবীণ ইতিহাসবিদ রোমিলা থাপার। সম্প্রতি নিউজ ওয়েব পোর্টাল ‘দ্য ওয়্যার’ প্রকাশিত প্রবন্ধে, ইতিহাসবেত্তা পাঠ্য বই প্রকৃতপক্ষে কী, তার প্রয়োজনীয়তা কোথায় তা নিয়ে নিজের মত জানিয়েছেন। জওহরলাল নেহেরু বিশবিদ্যালয়ের এমিরেটাস প্রফেসর এ প্রসঙ্গে পাঠ্যপুস্তকে যুক্তিসঙ্গত কাটছাটের নামে ইতিহাসের কোনো অংশ পাঠ্যবই থেকে বাতিল করে দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ।

প্রকাশিত প্রবন্ধে্র প্রথমেই পাঠ্যপুস্তকের সংজ্ঞা ও তা প্রস্তুত করবার উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা করেন । তার কথায় তিনটে মূল উদ্দেশ্য নিয়ে পাঠ্য বই লেখা হয়,কোন বিষয় সম্পর্কে ধারণা গড়ে তুলতে প্রাথমিক তথ্যগুলোকে এক জায়গায় আনা। আর এক্ষেত্রে ক্লাস ভেদে তারতম্য থাকবে সেটাই স্বাভবিক। দুই, পড়ুয়াদের প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন তৈরিতে ও তা উত্থাপন করতে উৎসাহিত করা। যাতে জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্র আরো সম্প্রসারিত হয়। তিন, প্রচলিত সামাজিক -সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বিষয়টির তাৎপর্য শিক্ষার্থীদের বোঝাতে যাতে শিক্ষক সক্ষম হন, সে জন্য উন্নত মানের পাঠ্য পুস্তক প্রয়োজন হয়।

রোমিলার কথায়, যখন কোনো সংস্থার তত্ত্বাবধানে বই লেখা হবে তখন এ উদ্দেশ্যগুলো পূরণ হচ্ছে কিনা তা দেখা প্রয়োজন। প্রবীণ ইতিহাসবেত্তার মতে, শিক্ষার লক্ষ্য শুধুমাত্র শিশুর অক্ষরজ্ঞান নয়, বরং অধীত বিদ্যাকে হাতিয়ার করে তার চিন্তা-ভাবনার ক্ষেত্র কতটা প্রসারিত হল সে দিকে আলোকপাত করাটাই বেশি প্রয়োজন। এনসিইআরটির বর্তমান কর্মকর্তারা এ লক্ষ্যপূরণে কতটা সচেষ্ট তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান তিনি। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অঙ্গুলিহেলনে চলা স্বশাসিত পর্ষদ যে তাঁদের দৃষ্টিকোণ অনুযায়ী নবীন প্রজন্মের মননকে গড়ে তুলতে চাইবেন তা বলা বাহুল্য।

ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠ্যসূচিতে কাঁচি চালানোর পিছনে স্বশাসিত পর্ষদের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর কথায়,সংগঠনের পদক্ষেপের মধ্যে পুস্তক যুক্তিসংগত করা আর পাঠ্যবিষয় নিয়ন্ত্রণ করার মধ্যে প্রভেদ নির্ণয় করতে অক্ষমতা ধরা পড়েছে। কোনো বিষয় কোনো পদ্ধতিতে পড়ানো হবে তা ঠিক করতে যুক্তিযুক্ত ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়। কিন্তু এনসিইআরটি অধ্যায়ের অংশবিশেষ বাদ দিয়ে যা করছে তা নিছকই পড়ার বিষয়বস্তুর ভার লাঘবের প্রচেষ্টা । এখানেই তিনি প্রশ্ন তুলছেন কোভিডের অজুহাতে মুঘলদের ইতিহাস বাতিল করে দেওয়া অর্থ কী ?

থাপারের মতে, ইতিহাস কালানুক্রমিকতার ভিত্তিতে লেখা হয়। ঘটনার ধারাবাহিকতা না থাকলে সমাজ ও বিকাশের ধারা সম্পর্কে সম্যক ধারণা তৈরি হয় না। তিনি লিখেছেন, দ্বি সহস্রাব্দের আদি পর্বটুকু পড়িয়ে যদি কোনো শিক্ষার্থীকে আধুনিক যুগটুকু আচমকা পড়ানো হয়, স্বাভাবিক কারণেই অতীত ঘটনার পারম্পর্য তার বোধগম্য হবে না। সবথেকে বড়ো কথা,মুঘল আমল সহ সামগ্রিক মধ্যযুগে শিল্প-সাহিত্য, স্থাপত্য-চিত্রকলা, প্রযুক্তিবিদ্যা যে উচ্চতা স্পর্শ করেছিল তা সম্পূর্ণ ভাবে অজ্ঞাত থেকে যাবে  বড় অংশের এক পড়ুয়াদের কাছে থেকে। অতীত চর্চায় এ খণ্ডিত দর্শন আদৌ কাম্য কিনা তা নিয়ে পর্ষদকে  কাঠগড়াকে তুললেন বর্ষীয়ান ইতিহাসবিদ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!