Advertisement
  • ধা | রা | বা | হি | ক
  • আগস্ট ৭, ২০২১

আমার ছেলেবেলা

নির্মলেন্দু গুণ
আমার ছেলেবেলা

চিত্র: সংগৃহীত

আমাদের পাশের বাড়িতে এক জ্যাঠামশাই ছিলেন। আমরা তাঁকে সাধু জ্যাঠামশাই বলে ডাকতাম। তিনি গৌরীপুরের জমিদার বাড়িতে কাজ করতেন। সপ্তাহান্তে বাড়িতে আসতেন। পরে একসময় তাঁর চাকরি চলে যায় এবং তিনি গ্রামের বাড়িতে এসে বসবাস করতে শুরু করেন। তাঁর এক কন্যা এবং দুই পুত্র ভারতে চলে গিয়েছিল। বাড়িতে শুধু জ্যাঠামশাই এবং জ্যেঠিমা থাকতেন। জমির আয় প্রচুর উদ্বৃত্ত হতো, হুন্ডি করে ভারতে ছেলেদের কাছে টাকা পাঠাতেন। তিনি নবদ্বীপ থেকে মন্ত্র নিয়েছিলেন। কপালে তিলক কাটতেন; গায়ে নামাবলী পরিধান করতেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ। প্রতি সন্ধ্যায় বাড়িতে ভাগবত গীতা পাঠের আসর করতেন। সেসব আসরে এলাকার অনেকেই আসতেন। আমিও আমার নতুন মায়ের সঙ্গে গীতা পাঠ শুনতে যেতাম। বাবা কখনো যেতেন না। তিনি বাড়িতে নিজেই একা একা কখনো কখনো গীতা পাঠ করতেন। দেশের সম্পদ ভারতে পাচার করার অপরাধ মোচনের জন্যই কিনা জানি না, তিনি প্রায়ই বাড়িতে মহোৎবের আয়োজন করতেন। সেই সব মহোৎসবে প্রচুর প্রচুর লোকসমাগম হতো। শত শত লোক মহাপ্রভুর প্রসাদ পেতো। অষ্টপ্রহরব্যাপী হরিনাম চলতো গীতা পাঠের পাশাপাশি। হ্যাজাক-লাইটের আলোয় সারাবাড়ি ঝলমল করতো। আমার ভালো লাগতো দুপুরের সেই মহাভোজ-উৎসবটি। কলার পাত বিছিয়ে শত শত লোক বসে যেতো লাবরা খিচুড়ির আশায়। আমাদের গ্রামের হদী সম্প্রদায়ের সবাই মহাপ্রভুর ভক্ত। এরা প্রসাদ মুখে তোলার আগে মহাপ্রভুর নামে একটা ছড়া কাটতো। ঐ ছড়া কাটাকে ধর্মীয় পরিভাষায় বলা হতো লাচাড়ী। একজন উচ্চকন্ঠে সুর করে বলতো:

‘ডাইল খাইলাম খিচুড়ি খাইলাম
আরো খাইলাম ভাজি—‘
সমস্বরে সবাই তখন বলতো : ‘আহ্ হা হা’
‘মহাপ্রভুর প্রসাদ খাইয়া মন করলাম রাজি।’
সমস্বরে সবাই তখন : ‘হরি বোল, হরি বোল।’  

ঐ গণভোজে আমাদের অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হতো না। এলাকার ভদ্রলোকদের জন্য ভেতর বাড়িতে পূথক বন্দোবস্ত থাকতো। সেখানে ঐ লাচাড়ী পাঠের ব্যবস্থা থাকতো না। এলাকার নিম্নবর্ণের হিন্দুদের সঙ্গে মিলে ঐ লাচাড়ী পাঠে অংশ নেয়ার জন্যই আমি কলার পাঠ বিছিয়ে হদীদের ভিতরে চুপ করে বসে যেতাম। আমাকে তুলে আনার জন্য তখন চেষ্টা চলতো, আমি কিছুতেই উঠতে রাজি হতাম না। আমার বিদ্রোহী আচরণে হদীরা খুশি হতো। আমার ভাই  বোনরা আমাকে হদী বলে ক্ষেপাতো; কিন্তু আমার বাবা আমাকে কখনো বকাবকি করতেন না। তিনি আমার কান্ডকারখানা দেখে শুধু হাসতেন। আমি জানতাম, বাবা আমার পক্ষেই আছেন।

কাউকে না জানিয়ে, একদিন হঠাৎ করেই জ্যাঠামশাই ভারতে চলে যান। মহোৎসবের আসরে লাচাড়ী পাঠের ব্যাপারটা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। জ্যাঠামশাই চলে যাবার পর আমাদের গ্রামে আর কখন  কোনো মহোৎসব হয় নি।

♦ ♦ ♦

আমার লেখাপড়ার হাতে-খড়ি হয় আমার নতুন মায়ের হাতে। আমার এই মা আমার ঐ মায়ের মতো এতোটা শিক্ষিত ও সংস্কৃতিবান পরিবার থেকে আসেন নি—কিন্তু পড়াশোনার ব্যাপারে তিনি ছিলেন দারুণ উৎসাহী। শুধু স্নেহ দিয়ে নয়, প্রয়োজনীয় শাসনের মাধ্যমে সন্তানদের শিক্ষিত করার নীতিই তিনি গ্রহণ করেছিলেন। আমাদের জন্য তাঁর এই নীতিটা শেষবিচারে খুবই কাজের হয়েছিল। তাঁর শাসনটা যে স্নেহ বা বাৎসল্যের অভাবহেতু—তা আমাদের কখনোই মনে হতো না। মায়ের আগ্রহে এবং কিছুটা নিজের মেধা ও স্মৃতিশক্তির  জোরে অল্পদিনের মধ্যেই আমি বাংলা ও ইংরেজী বর্ণমালাগুলি শিখে ফেলি। আমাদের বাড়ির  সামনের স্কুলটি ঝড়ে ভেঙে পড়েছিল। বেশ ক’বছর ধরেই ওটা ভাঙা-অবস্থায় মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। ওটাকে পুনরায় দাঁড় করিয়ে চালু করার  ব্যাপারে কেউই কোনো উদ্যোগ নিচ্ছিল না। আমরা ওটাকে খেলাঘরের মতো ব্যবহার করতাম। গ্রামে তো শহরের মতো পার্ক নেই—ওখানে ছোটদের পিছল খাওয়ারও ব্যবস্থা নেই, কিন্তু গ্রামের ছেলেমেয়েরা পিছল খেতে ভালবাসে। পরিত্যক্ত স্কুলঘরটি আমাদের সেই অভাব পূরণ করে দিয়েছিল। আমরা হামাগুড়ি দিয়ে ঐ স্কুলঘরের টুই পর্যন্ত উঠে যেতাম এবং  টুই থেকে পিছল খেয়ে সবুজ ঘাসের মধ্যে নেমে আসতাম। নাটবল্টুর ঘষা লেগে পশ্চাৎদেশে যে ব্যথাটা পেতাম, আনন্দের আতিশয্যে তা ভুলে যেতে মোটেও সময় লাগতো না।

ঐ স্কুলটি দীর্ঘদিন অকেজো পড়ে থাকার কারণে আমার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর পড়াটা আমাকে বাড়িতে মা বাবার কাছেই শিখতে হয়। মা আমাকে রিতীমতো পাঁচালি পাঠের যোগ্য করে তোলেন। এতো অল্পবয়সে আমাদের ভাই বোনদের আর কেউই লক্ষ্ণীর পাঁচালি পাঠ করতে পারতো না। প্রধানত আমার নতুন মায়ের আগ্রহেই পরে আমাকে বারহাট্টা স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমাদের গ্রামের বড় ভাইরা তখন ঐ স্কুলে পড়তেন। ছোটদের বাড়িতে পড়ার নিয়ম ছিল। বারহাট্টার ঐ উচ্চবিদ্যালয়টি কালিকার গুণরা স্থাপন করেছিলেন। স্কুলটির পুরো নাম সিকেপি ইন্সটিটিউশন—করোনেশন কূষ্ণ প্রসাদ ইন্সটিটিউশন। স্কুলের নামকরণের মধ্যে ইংল্যান্ডের রাজশক্তির প্রতি ভক্তিভাব প্রকাশিত হয়েছে। কৃষ্ণপ্রসাদ ছিলেন কালিকার মোহিনী গুণের পিতা।

অনেকটা জায়গা জুড়ে স্কুলের কম্পাউন্ড। উত্তর দক্ষিণে লম্বা-লম্বি পাকাভিটির উপর দুটো লালরঙের টিনের ঘর, ভেতরে লোহার স্ট্রাকচার। পশ্চিমের ভবনটি ছিল প্রাইমারী এবং পূর্বের ভবনটি ছিল সিক্স থেকে টেন পর্যন্ত—হাইস্কুল ভবন। প্রতিটি ভবন টিনের পার্টি শান দিয়ে পাঁচটি শ্রেণীতে ভাগ করা ছিল। প্রতিটি শ্রেণীকক্ষে কাঠের বেঞ্চ এবং দেয়ালে প্রকান্ড কালো ব্ল্যাকবোর্ড টাঙানো; শিক্ষকদের জন্য চকির ওপরে চেয়ার টেবিল। টিচার্সরুম, স্কুলের লাইব্রেরী এবং প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় নিয়ে একটি পৃথক পাকা দালান ছিল স্কুলের দক্ষিণ সীমায়। ঐ ভবনেরলাগোয়া একটি ছোট্ট পুকুর। আমাদের স্যররা ঐ পুকুরের জল দিয়ে নামাজের সময় ওজু করতেন। পরে একসময় স্কুলের ভেতরে একটি টিউবঅয়েল হয়। স্কুলের ভেতরের কম্পাউন্ডটাই ছিল একটা ফুটবলের মাঠ হবার যোগ্য—কিন্তু ঐ কম্পাউন্ডটাকে ফুটবল মাঠ হিসাবে ব্যবহার করা হতো না, পাশেই আমাদের একটা প্রকান্ড মাঠ ছিল। কম্পাউন্ডের ভেতরে ভলিবল, ব্যাডমিন্টর, রিং খেলা এবং দাড়িয়াবান্দা খেলার ব্যবস্থা করা হতো। টিফিন পিরিয়ডে এবং শীতের দিনে স্কুলের ছুটির পর ভলিবল, ব্যাডমিন্টন ইত্যাদি খেলা হতো। বড় মাঠে হতো ফুটবল এবং ক্রিকেট খেলা। এমন চমৎকার স্কুলে ভর্তি হতে কে না গর্ববোধ করে।

প্রকাণ্ড আকৃতির রেইনট্রি-গাছ ভবন দুটোর উপর স্নিগ্ধ ছায়া দিতো এবং বৃষ্টির দিনে রেইনট্রির পাতা থেকে টিনের চালে জল পড়তো মিষ্টি সুরের তাল বাজিয়ে। চৈত্রের দুপুরে রেইনট্রি গাছের পাতার উপর দিয়ে, শুকনো পাতায় মর্মধ্বনি বাজিয়ে আমরা হাঁটতাম।

হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষককে বলা হতো রেক্টর। রেক্টর সাহেবের নাম ছিল আবদুল হেকিম খান। একটু ছোটখাট চেহারা, চমৎকার সুঠাম স্বাস্থ্য, মুখে মোগল বাদশাহদের মতো ঘন পাকা চাপ দাড়ি। তিনি সর্বদা মাথায় সাদা টুপি পরতেন। স্কুলের সামনের রাস্তার ওপারেই ছিল তাঁর বাসভবন। তিনি সবসময় ছাতা মাথায় দিয়ে স্কুলে আসতেন, কী রোদ কী বূষ্টি ; এমনকি রোদ বৃষ্টিহীন শীতের দিনেও তার ব্যতিক্রম ছিল না। কৌতূহলী চোখে আমরা দূর থেকেই তাঁকে দেখতাম।

প্রাইমারী সেকশনের প্রাধান শিক্ষক ছিলেন হিন্দু। তাঁর নাম রাজেন্দ্র সরকার। বারহাট্টা থেকে সাত মাইল দূরে মোহনগঞ্জে তাঁর বাড়ি। ইচ্ছে করলেই স্কুলের কাছে কিন্তু তিনি বাড়ি ভাড়া করে বা ঘর তুলে থাকতে পারতেন ;  কিন্তু তিনি তার প্রয়োজন বোধ করতেন না। তিনি সাত মাইল দূর থেকেই প্রতিদিন পদব্রজে স্কুলে যাতায়াত করতেন। দীর্ঘদেহ, চমৎকার স্বাস্থ্য ছিল তাঁর। তিনি বাবার বন্ধু ছিলেন। বাবা আমাকে স্কুলে ভর্তি করাতে নিয়ে যান এবং ঐ রাজেন্দ্রবাবুর হাতেই আমাকে সপে দিয়ে আসেন।


গ্রামে তো শহরের মতো পার্ক নেই—ওখানে ছোটদের পিছল খাওয়ারও ব্যবস্থা নেই, কিন্তু গ্রামের ছেলেমেয়েরা পিছল খেতে ভালবাসে।


ক্লাস শুরুর পূর্বেই খাতায় আমার নাম উঠানো হয় এবং বেল বাজবার সঙ্গে সঙ্গে রাজেন্দ্র স্যার আমাকে নিয়ে তৃতীয় -শ্রেণীর কক্ষটিতে প্রবেশ করেন। ক্লাসের ছাত্রদের দিকে তাকিয়ে ভয়ে আমার বুক কাঁপে—ছাত্রেরাও ফ্যাল ফ্যাল করে আমাকে দেখতে থাকে। সে এক করুণ অভিজ্ঞতা। আমি আমার বাবার মুখটা স্মরণে এনে, বুকে সাহস সঞ্চয় করতে করতে পশ্চিমের দিকের একটা খোলা জানলার পাশে গিয়ে বসি। রাজেন্দ্র স্যার ছাত্রদের কৌতূহলী দৃষ্টিকে আমার উপর থেকে সরিয়ে টেনে নেন হাজিরা খাতায়। নাম ডাকা শুরু হয়। স্যার একেক জনের নাম ডাকেন, ছেলেরা ‘উপস্থিত’ বলে সাড়া দেয়। বুঝতে পারি, একটু পরেই আমার নামও ডাকা হবে—আমি উপস্থিত বলার জন্য বুকে সাহস সঞ্চয় করার চেষ্টা করতে থাকি। এমন সময় এমনই একটা ঘটনা ঘটে যা আমার দৃষ্টিকে অলৌকিক যাদুবলে টেনে নিয়ে যায় পশ্চিমের খোলা জানলা দিয়ে দৃশ্যমান রেল স্টেশনের দিকে। মোহনগঞ্জগামী সকালের ট্রেনটি তখন স্টেশনে এসে থেমেছে। এতো কাছ থেকে রেলগাড়ি দেখার সুযোগ পূর্বে পাই নি। প্রাকন্ড কালো ইঞ্জিনের চোঙ দিয়ে কালো ধোঁয়া উড়ছে আকাশ কালো করে, বিভিন্ন ছিদ্রপথে  নির্গত হচ্ছে বাষ্প। মাথায় কালো কাপড় বাধা একটা লোক ইঞ্জিনের চুল্লির ভিতরে একটা বিরাট আকৃতির হাতা দিয়ে কয়লা ঠেলছে। ড্রাইভার বসে আছে সীটে। যাত্রীরা কামরা থেকে নামছে-কিছু লোক দৌড়াচ্ছে ট্রেন ধরতে। কী চমৎকার দৃশ্য, ইচ্ছে হচ্ছে জানলা দিয়ে পালাই! ছুটে যাই ওখানে। একটিমাত্র ধানখেত পেরুলেই স্টেশন, খুব কাছ থেকে দেখা যাবে ইঞ্জিনটাকে, ইঞ্জিনের চালক ঐ রহস্যময় মানুষটাকে। বাড়ির কথা ভেবে খারাপ হয়ে যাওয়া মনটা মুহূর্তেই পাল্টে গেলো। আনন্দে ও উত্তেজনায় আমার বুক কাঁপতে থাকলো।

হঠাৎ অনুভব করলাম আমার চুলের মুঠো ধরে হ্যাচকা টানে কে যেন আমাকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ইঞ্জিনের শব্দকে  অতিক্রম করে আমার কানে এলো ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রীদের অট্টহাস্য। আমি প্রতিদিন চৌদ্দ  মাইল হাঁটা, বাবার বন্ধু, স্বাস্থ্যবান রাজেন্দ্র স্যারের বজ্রমুঠির ভিতরে প্রায় ঝুলন্ত অবস্থায়  নিজেকে আবিষ্কার করলাম। আত্ম-আবিষ্কার বুঝি একেই বলে।  বুঝলাম একটু আগে রাজেন্দ্র স্যারের হাতে বাবা আমাকে একেবারে যাথার্থ অর্থেই সপে দিয়ে গেছেন। লজ্জায় এবং ব্যথায় আমার চোখে জল এসে গেলো।
রাজেন্দ্র স্যার বললেন: ‘মনটা কোথায় ছিল?’

আমার তখন মনে পড়লো, স্যার নাম ডাকছিলেন এবং ছাত্ররা উপস্থিত বলে সাড়া দিচ্ছিল। ব্যাপারটাতে আমি মজাই পাচ্ছিলাম, কিন্তু দুর্ভাগ্য আমার, তার  চেয়ে অনেক বেশি মজার  ব্যাপার হয়ে ট্রেনটা কেন যে তখন স্টেশনে এলো। আমি কোনো কথাই বলতে পারলাম না। স্যার আমাকে কান ধরে ব্ল্যাকবোর্ডের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার নির্দেশ দিলেন। আমার স্কুলজীবনের প্রথম দিনটাই এমন হবে, কে জানতো?

যথাসময়ে আমার আত্মভোলা আচরণে কথা বাবার কানে পৌঁছনো। হলো। বাবা আমাকে জানালার পাশে না বসে ফার্স্ট বেঞ্চে বসার নির্দেশ দিলেন। এখানেই ভালোছেলেদের বসার নিয়ম। কিন্তু অল্প-দিনের মধ্যেই আমি অনুভব করলাম শিক্ষকের নাকের ডগায় মাছির মতো লেগে থাকাটা মোটেও শোভন নয়। শিক্ষকদের চোখ থেকে যতদূরে থাকা যায় ততই মঙ্গল। কিন্তু আমি চাইলে কী হবে? আমি যতই তাঁদের দৃষ্টির আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে চাই, শিক্ষকরা বাবার বন্ধুস্থানীয় হওয়ায় আমার পুরো স্কুলজীবনটাই প্রবল অশান্তিতে কাটে। তাঁদের ফাঁকি দেয়ার জন্য বাধ্য হয়েই আমাকে নিত্য নব কৌশলের সন্ধান করতে হয়। অচিরেই আমি সাফল্যের মুখ দেখতে পাই। চেষ্টা থাকলে উপায় হয়, কথাটা মিথ্যে নয়।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!