- স | হ | জ | পা | ঠ
- জুন ৯, ২০২৩
মধুমেহ আর উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত নাগরিকের সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে দেশে।দেশীয় সংস্থার সমীক্ষায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ
মধুমেহ রোগে প্রতি ১০০ জনে আক্রান্ত ১১ ! শুনতে অবাক লাগলেও এমন ভীতিপ্রদ তথ্যই ধরা পড়ল ভারতীয় বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণায় । শুধু রক্তে শর্করার বৃদ্ধি জনিত অসুখ নয়, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তাতেও ভুগছেন বহু মানুষ। শতকরা ৩৫.৫ শতাংশ ভারতীয় কোনো না কোনো সময় উদ্দ্বেগ ও আশঙ্কাকে সঙ্গে নিয়ে জীবন যাপন করছেন। পরিস্থিতি যেদিকে এগিয়ে চলেছে তাতে নিজেকে সুস্থ রাখতে পরিমিত ও পুষ্টিকর আহার, পর্যাপ্ত ঘুম আর শরীরচর্চার কোনো বিকল্প নেই বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
অসংক্রামক রোগ বা নন কমিউনিকেবল ডিজিজ নিয়ে সারা দেশ জুড়ে সমীক্ষা চালিয়েছিল মাদ্রাজ ডায়েবেটিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন। সমগ্র কর্মকাণ্ডে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ বা আইসিএমআর এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। সম্প্রতি, তাঁদের সার্ভের ফলাফল প্রকাশ পেয়েছে আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিজ্ঞান সংক্রান্ত পত্রিকা ল্যান্সেটে। তাতেই ধরা পড়ে ভারতীয়দের স্বাস্থ্যের বাস্তব চিত্র। মধুমেহ, দুশ্চিন্তা জনিত রোগ ছাড়াও ওজনে অত্যধিক বেড়ে যাওয়ার কারণে অসুবিধায় রয়েছেন ২৮.৬ শতাংশ ও পেটের তলদেশে স্থূলত্বে ভুগছেন ৩৯.৫ শতাংশ ভারতীয়।
সমীক্ষকরা আরো জানিয়েছেন, দেশের প্রতি ১০০ জনে ২৪ জন হাইপোকোলেস্টেরোলেমিয়া-তে আক্রান্ত । এ রোগের ক্ষেত্রে ফ্যাট বা স্নেহপদার্থ ক্রমশ ধমনীর প্রাচীরে সঞ্চিত হতে থাকে, যা শরীরে হৃদরোগ বাসা বাধার অশনি সংকেত । ১৫.৩ শতাংশ ভারতীয় নাগরিকের রয়েছে প্রাক-মধুমেহর লক্ষণ। চিকিৎসা সংক্রান্ত একটি ওয়েবসাইট জানাচ্ছে যে, রক্তে শর্করার পরিমাণ স্বাভাবিকের চাইতে বেশি, অথচ ‘টাইপ-২ ডায়াবেটিস’ না হলে তাকে প্রিডায়াবেটিস বলে চিহ্নিত করা হয়।
সংখ্যার বিচারে সমীক্ষকদের অনুমান, ২০২১ সালে দেশে ১০ কোটি মধুমেহ, ১৩.৬ কোটি প্রাক-মধুমেহ রোগে আক্রান্ত ছিলেন। উচ্চ-রক্তচাপজনিত সমস্যার শিকার ৩১.৫ কোটি ভারতবাসী। স্বাভাবিকের তুলনায় দেহের ওজন অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় ভুগেছেন ২৫.৪ কোটি মানুষ। তলপেটের স্থূলত্বের সমস্যায় আক্রান্ত ছিলেন ৩৫.৪ কোটি নাগরিক ।
২০০৮ থেকে ২০২০ প্রায় ১২ বছর ধরে ভারতের ১,১৩,০৪৩ জন নাগরিকের ওপর এই সমীক্ষা চালিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। তার মধ্যে গ্রামবাসী ছিলেন ৭৯,৫০৬ জন। ও শহরাঞ্চল থেকে বাছা হয়েছিল ৩৩,৫৩৭ জনকে । সমীক্ষকদের পক্ষ থেকে ডাঃ আর এম অঞ্জনা বলেছেন, এই রিপোর্টেই পরিষ্কার, দেশে অ-সংক্রামিত রোগ কী বিপুল হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে! খুব তাড়াতাড়ি এই নিয়ে বিস্তারিত পদক্ষেপ করা দরকার।
দেশের নাগরিকদের স্বাস্থ্য মন নিয়ে এমন সমীক্ষা এ প্রথম নয়। পূর্বেও এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছি। জাতীয় পরিবার-স্বাস্থ্য সমীক্ষা বা ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভের রিপোর্টেও পাওয়া গিয়েছইল যে ১৫ বছরের বেশি বয়সীদের ২১ শতাংশ মেয়ে ও ২৪ শতাংশ পুরুষ হাইপারটেনশনে ভোগেন। মধুমেহ নিয়ে হুর সতর্কতা তো ছিলই । এবার তাঁর সরাসরি প্রমাণ মিল দেশীয় সংস্থার সমীক্ষায়। তবে, দেশবাসী কতটা সচেতন হবেন বা দেশের সরকার সচেতনতা গড়ে তুলতে কতটা প্রয়াসী হবেন, সে প্রশ্নের উত্তর আগামী কয়েক বছর অমীমাংসিতই থেকে যাবে।
❤ Support Us








