- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ১৩, ২০২৫
সোনামুখীতে তৃণমূল নেতা খুনে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জল্পনা, গ্রেফতার প্রাক্তন বুথ সভাপতি ও তাঁর দুই ছেলে
বাঁকুড়ার সোনামুখীতে প্রকাশ্য রাস্তায় হয়েছেন তৃণমূলের বুথ আহ্বায়ক। সেকেন্দার খানের খুনে গ্রেফতার হলেন এক সময়ের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা নাসিম শেখ। খুনের ঠিক ৪৮ ঘণ্টার মাথায় পুরুলিয়ার মানবাজারে এক বন্ধুর বাড়ি থেকে পাকড়াও করা হয় তাঁকে। ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছে তাঁর দুই পুত্র, হাসিম ও ইব্রাহিম শেখ। পুলিশ জানিয়েছে, খুনের পিছনে দীর্ঘদিনের গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব ও পুরনো শত্রুতা আছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
সোমবার রাতে বাঁকুড়ার সোনামুখী থানার চকাই গ্রামে গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হন তৃণমূলের বুথ আহ্বায়ক সেকেন্দার খান ওরফে সায়ন। বাইকে করে বাড়ি ফেরার পথে তাঁর মাথা ও পিঠে গুলি করে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। সেকেন্দারের শরীরে ৩টি গুলির চিহ্ন মিলেছে। উদ্ধার হয়েছে ২টি বুলেট। পুলিশের অনুমান, গুলি ছোড়া হয়েছে ৭.৬৫ এমএম বোরের একটি অটোমেটিক রিভলভার থেকে। খুনের ঠিক পরদিন, মঙ্গলবার দুপুরে, মৃতের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় চকাই গ্রামের দুই ভাই হাসিম ও ইব্রাহিম শেখকে। পুলিশের দাবি, ধৃতেরা প্রাক্তন তৃণমূল নেতা নাসিম শেখের ছেলে। তার কিছু ক্ষণের মধ্যেই বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পৌঁছয় পুলিশের হাতে। আর রাতেই পুরুলিয়ার পাথরকাটা গ্রামে এক বন্ধুর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় নাসিমকে।
তদন্তে উঠে এসেছে, সেকেন্দার খানের সঙ্গে নাসিম শেখের দ্বন্দ্ব বহু পুরনো। পাকা নিকাশি নালা তৈরির একটি সরকারি প্রকল্প ঘিরে চলতি বছরের মার্চ মাসে সংঘর্ষ চরমে ওঠে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে। সে সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেম নাসিম। অভিযোগ ওঠে, গুলি চালিয়েছিলেন সেকেন্দার। সে ঘটনায় জেলও খাটতে হয় তাঁকে। সদ্য জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি ফের দলে সক্রিয় হন। রাজনৈতিক প্রতিপত্তি ফিরে পেতে মরিয়া ছিলেন বলেই, বদলার রাস্তা বেছে নিয়েছিল নাসি, এমনই দাবি পুলিশের। জেলা পুলিশ সুপার মাকসুদ হাসান জানিয়েছেন, ‘প্রথম দিনেই আমরা ২ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছি। কাল রাতে পুরুলিয়ায় অভিযান চালিয়ে ধরা হয়েছে নাসিম শেখকে। তদন্তে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এই খুনের ঘটনায় আরো একাধিক ব্যক্তি জড়িত।’
তৃণমূল নেতার খুনের ঘটনায় রাজনীতির রং জুড়েছে। সেকেন্দারের স্ত্রী আমেনা বিবি দাবি করেছেন, ‘নাসিম এখন বিজেপির কর্মী। তৃণমূলের বুথ সভাপতি পদ হারানোর জেরেই আমার স্বামীকে খুন করেছে।’ যদিও তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক সভাপতি সুব্রত দত্ত বলেন, ‘নাসিম বা তাঁর পরিবারের কেউ তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত নন। দলে কোনো গোষ্ঠীদ্বন্দ্বও নেই। এটা বিজেপি-সিপিএমের ইন্ধনে ঘটে থাকতে পারে।’ তবে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা বুল্টি খাতুন অন্য সুরে বলেন, ‘নাসিম ছিলেন আমাদের বুথ সভাপতি। সেকেন্দার ওঁর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই দ্বন্দ্বে জড়িত ছিলেন। তবে খুনে উনি জড়িত কিনা, সেটা তদন্ত বলবে।’ অন্যদিকে, বিরোধীদের সাফ কথা— ‘তৃণমূলই মারছে, তৃণমূলই মরছে’। বিজেপি বিধায়ক দিবাকর ঘরামির কটাক্ষ, ‘কার হাতে কাটমানির দখল থাকবে, তা নিয়েই এই খুন। মারছে তৃণমূল, মরছেও তৃণমূল।’ সিপিএম নেতা সঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, ‘সরকারি প্রকল্পের টাকা ভাগাভাগি নিয়েই এই রক্তারক্তি। এটা তৃণমূলের গোষ্ঠী রাজনীতিরই ফল।’
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খুনে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রর হদিশ এখনো পর্যন্ত মেলেনি। পুলিশ ধৃতদের জেরা করে অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি, ঘটনাস্থলে নাসিম ও তাঁর দুই ছেলে উপস্থিত ছিলেন কি না, না কি তাঁরা শুধুই ষড়যন্ত্রকারী, সে দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ দিকে, খুনের পরে এলাকায় চরম আতঙ্ক। গোটা চকাই গ্রাম ঘিরে রেখেছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
❤ Support Us








