- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ১৮, ২০২৩
ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে বিধ্বস্ত সুদান।গৃহযুদ্ধে মৃত ২০০। আহত ১৮০০। ব্যাহত চিকিৎসা পরিষেবা, উদ্বিগ্ন হু
দুই সেনা প্রধানের নেতৃত্বে যুদ্ধ, থামার লক্ষণ নেই। দ্রব্যমূল্য উর্ধারোহী
ক্ষমতা দখলের লড়াইকে কেন্দ্র করে গত সপ্তাহ থেকে সুদানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত । শনিবার তা রক্তক্ষয়ী রূপ নেয়। দেশের সেনাপ্রধান আবদেল ফতাহ আল-বুরহান এবং আধা সামরিক বাহিনীর জেনারেল মহম্মদ হামদান ডাগলোর বাহিনী র্যাপিড র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে। রাজধানী খার্তুমে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ, রাষ্ট্রীয় দুরদর্শন এবং সেনা সদর দপ্তর কারা নিয়ন্ত্রণ করবেন-তা নিয়ে উভয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। দুই বাহিনী একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিমান হামলা, আর্টিলারি এবং ভারী গোলাগুলির ব্যবহার করে চলেছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সুদানে এধরনের বিশৃঙ্খল অবস্থা আগে কখনও দেখা যায়নি। এ লড়াই আরো বহু দিন চলবে। তাঁদের ধারণা, পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তনের এখন কোনো সম্ভাবনা নেই ।
আধা আমরিক ও সামরিক বাহিনীর লড়াইয়ে এখনও পর্যন্ত ২০০ জন মারা গিয়েছেন। আহত ১৮০০। জখম হওয়া ব্যক্তিদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিন দিনের সংঘর্ষে বহু হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাই সোমবার থেকে সেদেশে খাবার ও জীবনদায়ী ওষুধের সংকট তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকদের কথায়, এত মানুষ জখম অবস্থায় ভর্তি হচ্ছেন যে প্রয়োজনীয় পরিষেবা ও ওষুধপত্রের ব্যবস্থা করতে তাঁরা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। অসহায় মানুষ সুচিকিৎসার আশায় এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় ছুটে চলেছেন। কিন্তু সেনা সংঘর্ষের কোনো বিরাম নেই ।
জাতিসংঘের মহাসচিব ইতিমধ্যে দুপক্ষের সেনাকে ‘অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ করার’ আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, লড়াইয়ের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেলে তা দেশ ও অঞ্চলের জন্য ধ্বংসাত্মক হতে পারে। আন্তর্জাতিক স্তরেও বিভিন দেশের কূটনীতিবিদরা যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। মিশর ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে সৌদি আরব সহ সুদানের যত মিত্র দেশ রয়েছে তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তাঁরা, সসুদানে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় তাঁরাও আন্তরিক। যে কোনো রকম সহযোগিতা করতে তাঁরা প্রস্তুত।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সুদান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন । তাদের একটি রিপোর্টে জানা গিয়েছে সে দেশের বহু হাসপাতালের পরিকাঠামো বিপর্যস্ত, সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত। আপতকালীন চিকিৎসা পরিষেবা ব্যহত বেশীরভাগ হাসপাতালে। পাশাপাশি ব্লাড ব্যাঙ্কে পর্যাপ্ত রক্তের যোগান নেই। অভাব রয়েছে চিকিৎসা সরঞ্জামের । বহু স্বাস্থ্যকেন্দ্র গৃহযুদ্ধে কাজ করাই বন্ধ করে দিয়েছে। বিপদে পড়েছেন সাধারণ নাগরিকরা।সংঘর্ষের প্রথম দুদিনে সময়মতো উপযুক্ত চিকিৎসা না পেয়ে ১১ জন মারা গিয়েছেন।
সোমবার সেনা বাহিনী জানিয়েছে, আরএসএফ-কে ভেঙে দেওয়ার হবে। গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভারতীয় নাগরিকরা আটকে পড়ে রয়েছেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন দিল্লি। খার্টুমে ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রবাসী ভারতীয়দের বাড়ির বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে রবিবার যুদ্ধের মধ্যে পড়ে গিয়ে কেরলের বাসিন্দা অ্যালবার্ট অগাস্টাইন মারা গিয়েছেন।
অসামরিক সরকার গঠনে জন্য আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আর এই বিষয়টি নিয়েই সেনাবাহিনী এবং আরএসএফের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বলা প্রয়োজন, ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছিল সেনাবাহিনী। তারপর ‘স্বাধীন কাউন্সিল’-এর নামে দেশ পরিচালনা করছিলেন জেনারেলরা। প্রধান ছিলেন ভাইস-প্রেসিডেন্ট হলেন জেনারেল মোহামেদ হামদান দাগালো, আর একজন ছিলেন জেনারেল আব্দেল ফাতাহ আল-বুরহান। এখন আবার পুরাতন ব্যবস্থায় ফিরতে গিয়ে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন দুই সেনা প্রধান। যা কবে থামবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
❤ Support Us







