- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ৯, ২০২৩
বাংলাদেশের ‘পুলকিত আশ্রমে’ বীভৎসের হামলা। দুষ্কৃতীদের উসকানির নেপথ্যে কোন্ অঙ্কের খসড়া ?
দেশজুড়ে সুশীল সমাজের নিন্দা। ঐক্যবদ্ধ বাউল কণ্ঠ অপরাধীদের অবিলম্ব শাস্তি চায়
নরসিংন্দিতে লালন আখড়ায় হামলা । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বরে মানববন্ধন চিত্র সৌজন্য: ঢাকা ট্রিবিউন
বাউল শিল্পী কিংবা তাঁদের আখড়ায় মৌলবাদীদের হামলা নতুন কোনো ঘটনা নয়। লালন সাঁই-এর সমকালে আক্রান্ত হয়েছে, কুষ্ঠিয়ায় তাঁর আস্তানা। পরে নানা সময়ে, বাউল-ফকিররা অনুশাসিত সমাজের লক্ষ্য হয়ে ওঠেন, প্রধানত অবিভক্ত উত্তর আর পশ্চিমবঙ্গে। মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, রাজশাহীতে বাউলদের একঘরে করে রাখা কিংবা তাঁদের আখড়া গুঁড়িয়ে দেওয়ার দৃষ্টান্ত ভুরি ভুরি। অচলায়তনের সমাজ তাঁদের বেশরা (‘শরিয়তহীন’, ‘শরিয়ত বিরোধী’) বলে চিহ্নিত করেছে। প্রশাসন কখনো বাউলদের পাশে দাঁড়ায়, কখনো তাঁরা আক্রান্ত হলেও দুষ্কৃতীরা রেহাই পেয়ে যায়।
বাংলাদেশের চিত্র খানিকটা আলাদা। বাউল সঙ্গীতের নানা ধারা আর লৌকিক ঐতিহ্যকে শেখ হাসিনার সরকার গুরুত্ব দেয়। এটা তাঁদের জাতীয় অঙ্গীকার। বাংলাদেশে সঙ্গীত চর্চা প্রধানত তিন স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুল গীতি আর বাউল ঘরানার লোক সঙ্গীত। মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে জাতিসত্তার রাজনীতি এই ত্রিশক্তি নিয়ে লড়াই করতে সংকল্পবদ্ধ। সম্ভবত এ সংকল্পে আঘাত দিতেই রবীন্দ্রজয়ন্তীর প্রাক্কালে, নরসিংন্দি জেলায়, পাটুলি ইউনিয়নের অন্তর্ভূক্ত লালন সঙ্গীতের পুলকিত আশ্রমে হামলা চালায় মৌলবাদ-আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। দিনেই হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিন জন বাউল শিল্পী আহত হয়েছেন। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় তাঁদের বাদ্যযন্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রী।
সোমবার অপঘাতের খবর ছড়িয়ে পড়লে তীব্র ধিক্কার জানান সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। পুলকিত আশ্রমে হামলা হতে পারে,আন্দাজ করেছিলেন লালন ভক্তরা। আগেই তাঁরা আশ্রমে এসে জড়ো হন। রবিবার দুপুরে শেখ জাহাঙ্গীর ও শাহিনের নেতৃত্বে এক সশস্ত্র দুষ্কৃতী আশ্রমে হামলা চালায়। বাউলরা তাদের রুখতে পারেননি। হামলায় জখম হয়েছেন লালন সঙ্গীতের শিল্পী রিয়াদ ভুঁইয়া, মিন্টু ফকির আর রাকিব ফকির। বাউল শিল্পীরা বলেছেন, লালন সঙ্গীতের চর্চা রুখতেই আশ্রমে হামলা হয়েছে। হামলার বিচার চেয়েছেন তাঁরা। প্রশাসন সতর্ক। পাকড়াও করেছে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর ও শাহীনকে।
শাহিন জানিয়েছে, আখড়ার লোকেরা জাহাঙ্গীরকে মারধর করে। তখনই বাধ্য হয়ে হামলা চালায় তারা। আমরা তাদের বাদ্যযন্ত্র ভাঙচুর করিনি। আখড়ার সাধুরা নেশা করে অনেক সময় বেসামাল হয়ে পড়ে। এখন পাল্টা আমাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।
পাটুলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইরফানুল হক ভুঁইয়া জামান বলেছেন, অঘটনের খবর পেয়ে আমি পুলকিত আশ্রমে ছুটে যাই। হামলাকারীরা অন্যায় করেছে। আমরা সবাইকে নিয়ে বসব। কথা বলে সমস্যার উৎস খুঁজে বের করব। নিকটস্থ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক তানভীর আহমেদ জানিয়েছেন, হামলার ঘটনা নিয়ে এখনও থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বরে, উনমুক্ত লাইব্রেরির উদ্দ্যোগে মানবশৃঙ্খল তৈরি করে ঘটনার প্রতিবাদ করেছেন ছাত্র ছাত্রীরা। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
সামনে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন। সাম্প্রদায়িক জোটের উস্কানি শুরু হয়েছে। ভোটের আগে , বাউলদের আখড়ায় হামলা অশান্তি তৈরির পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হতে পারে। দণ্ডিত মৌলবাদীদের উত্তরসূরীরা চুপ করে বসে নেই। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বহুরকমের ফন্দী ও ফাঁদ তৈরি করবে। শাসকও চুপ করে বসে থাকবে না। সাম্প্রদায়িকতার সুড়সুড়িতে লাগাম পরানোর আপ্রাণ চেষ্টা করবে।
❤ Support Us






