Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ১৭, ২০২৩

বিস্ময়ের শিরোনামে আবার ইমরান খান।অভিযোগ, লাহোরের বাসভবনে লুকিয়ে রেখেছেন অন্তত ৪০ জঙ্গিকে।সরেজমিনে সেনারক্ষীরা।সরকারি নির্দেশ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সন্ত্রাসবাদীদের হস্তান্তর করতে হবে রক্ষী বাহিনীর হাতে

সঙ্কট বাড়ছে। সামরিক নেতৃত্ব কি চুপ করে বসে থাকবে ? ভারত সতর্ক।

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিস্ময়ের  শিরোনামে আবার ইমরান খান।অভিযোগ, লাহোরের বাসভবনে লুকিয়ে রেখেছেন অন্তত ৪০ জঙ্গিকে।সরেজমিনে সেনারক্ষীরা।সরকারি নির্দেশ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সন্ত্রাসবাদীদের হস্তান্তর করতে হবে রক্ষী বাহিনীর হাতে

ভূতপূর্ব পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, তাঁর লাহোরের জামান পার্কের বাসভবনে আশ্রয় নিয়েছে ৩০-৪০ জন জঙ্গি। ইমরানের দল তহরিক-এ-ইনসাফ তাদের লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করেছে। পাঞ্জাবের তথ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী আমির মীর জানিয়েছেন, ‘অবিলম্বে জঙ্গিদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া দরকার। নাহলে সঙ্কট বাড়বে। গোয়েন্দা সংস্থা ইমরানের বাড়িতে জঙ্গিদের আশ্রয় নেওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে।’ আমির মীরের অভিযোগ, ইমরান গভীর ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। তাঁর পরিকল্পনা ছিল, গ্রেফতার হওয়ার আগে জঙ্গি হামলা ঘটিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করে তুলবেন। পরিকল্পনামাফিক সেনার ওপর হামলা হয়েছে।

পাকিস্তানি সংবাদ সংস্থার খবর, জঙ্গিদের খুঁজে বের করতে ইমরানের বাসভবনের দিকে সেনা জওয়ানেরা ছুটে গেছেন। প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি ঘিরে রেখেছেন তাঁরা। জঙ্গিরা বাসভবন চত্বরে কোথায় অবস্থান করছে, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইমরানের বাড়িতে জঙ্গিদের আস্তানা, এরকম খবর চাউওর হতেই দেশ জুড়ে শোরগোল শুরু হয়েছে। সরকার ইনসাফ পার্টির লোকজনদের সতর্ক করে বলেছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জঙ্গিদের পুলিশ বা সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে। নাহলে, সেনা-পুলিশের অ্যাকশন ফোর্স ইমরান খানের বাড়িতে প্রবেশ করতে বাধ্য হবে। ইনসাফের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। নীরব প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী। পরিস্থিতি যে দিকে মোড় নিচ্ছে তা পাক রাজনীতিতে নতুন সঙ্কট ডেকে আনবে। বাড়তে পারে পুলিশ-ইনসাফের সংঘর্ষ। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে জঙ্গিদের আস্তানা ! এরকম খবর পাকিস্তানের ইতিহাসে অভূতপূর্ব।

জিয়াউল হকের নেতৃত্বে নিরক্ত সামরিক অভ্যুত্থানের পর সেনা সরাসরি রাজনীতিতে নাক গলায়নি। পারভেজ মুশারফ নওয়াজ শরিফকে সরিয়ে সেনার সাহায্যে ক্ষমতা দখল করেছিলেন, এটা যেমন সত্যের এক পিঠ, তার আর এক পিঠ সেনাবাহিনী সরাসরি ক্ষমতার অলিন্দ থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকার চেষ্টা করেছে। গত কয়েকবছরে নির্বাচিত ক্ষমতার রদবদলে সামরিক নেতৃত্বের ভূমিকা আড়ালে ছিল, কখনও প্রকাশ্যে আসেনি। এখন পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে তাতে তিন সেনাবাহিণীর প্রধান কতটা নিশ্চিত থাকতে পারবেন, বলা কঠিন। রাজনৈতিক সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে উঠলে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ অনিবার্য। ইমরানের বাসভবনে জঙ্গিদের অবস্থানের খবর যদি সত্য হয়য়, তাহলে বলতে হবে পাক সেনার হস্তক্ষেপ অবশ্যম্ভাবী।

পাকিস্তানে রাজনীতিকে বরাবর নিয়ন্ত্রণ করেছে অভিজাত শ্রেণির স্বার্থ, আমলাতন্ত্র আর সেনাতন্ত্র। এই তিন তন্ত্রের অবস্থিতি পাকিস্তানকে স্থির হতে দেয়নি। শ্রেণিস্বার্থে তাঁরা সবসময় কাশ্মীরকে ব্যবহার করেছেন, ভারত জুজুর ভয় দেখিয়েছেন এবং সন্ত্রাস দমনের নামে বিদেশি অর্থ নিয়ে সন্ত্রাসকেই প্রশ্রয় দিয়েছেন। প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে জঙ্গিদের অবস্থানের অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বুঝতে হবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরমাণু অস্ত্রে সমৃদ্ধ এবং স্পর্শকাতর দেশটির অপ্রতিরোধ্য অসুখের হাত থেকে রেহাই নেই। ইমরান খান নানারকম অভিযোগে বিদ্ধ। প্রশাসন তার বিরুদ্ধে খড়গহস্ত। তাঁকে যথাসম্ভব বাঁচাতে চেষ্টা করছে পাকিস্তানী আদালতের ঐতিহ্যবাহী নিরপেক্ষতা। কিন্তু তাঁর বাসভবনে জঙ্গিদের লুকিয়ে থাকার খবর, সে সত্য হোক বা মিথ্যা হোক, তাঁকে বড়ো সঙ্কটের দিকে ঠেলে দেবে। তার সমর্থনের সামাজিক ভিতে ফাটল ধরাবে। বিদেশেরও সহানুভূতি তিনি হারাবেন।

ভারত এতদিন পাকিস্তানের ঘরোয়া রাজনীতির টালমাটাল অবস্থা নিয়ে নিশ্চুপ ছিল। এবার দিল্লির বিদেশ মন্ত্রক নড়ে বসেছে। প্রতিবেশী দেশের নৃত্যরত ঘটনার দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!