- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ৯, ২০২৫
‘ঘাতক’ কাফ সিরাপে শিশু মৃত্যু, স্রেসান ফার্মার বিরুদ্ধে ৩৬৪টি অনিয়মের অভিযোগ
মধ্যপ্রদেশে কাফ সিরাপ খেয়ে একের পর এক শিশুমৃত্যু। এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২০। তদন্তে নেমে বিস্ফোরক তথ্য দিল কেন্দ্রীয় ও রাজ্য তদন্তকারী সংস্থাগুলি। জানা গিয়েছে, ওই সিরাপ তৈরি করছিল তামিলনাড়ুর ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা স্রেসান ফার্মা। আর সেখানে চাঞ্চল্যকর তথ্য— মোট ৩৬৪টি নিয়মভঙ্গ হয়েছে ওষুধ নির্মাণে, যার মধ্যে ৩৮টি ‘গুরুতর’ মাত্রার।
সূত্রের খবর, কোনও রকম পরীক্ষানিরীক্ষা ছাড়াই বাজারে পাঠানো হচ্ছিল সিরাপ গুলি। ব্যবহার করা হচ্ছিল এমন কাঁচামাল, যার উৎস সন্দেহজনক। অনুমোদনহীন সেসব উপাদানে থাকা বিষাক্ত রাসায়নিকই শিশুদের শরীরে ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছিল। সিরাপে বিষাক্ত উপাদানের মাত্রা ছিল অনুমোদিত সীমার বহু গুণ বেশি, দাবি তদন্তকারী অফিসারদের। মূল অভিযুক্ত, স্রেসান ফার্মার কর্ণধার রঙ্গনাথন গোবিন্দন ও তাঁর স্ত্রী প্রথম থেকেই পলাতক ছিলেন। শেষপর্যন্ত বৃহস্পতিবার রাত দেড়টা নাগাদ তাঁকে গ্রেফতার করা হয় চেন্নাইয়ের উপকণ্ঠ থেকে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে তামিলনাড়ু ও মধ্যপ্রদেশ পুলিশ যৌথভাবে হেফাজতে নিয়েছে।
২০১১ সালে তামিলনাড়ু ফুড অ্যান্ড ড্রাগস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তরফে স্রেসান ফার্মাকে ওষুধ তৈরির লাইসেন্স দেওয়া হয়। ২০১৬ সালে সেই লাইসেন্স নবায়নও হয়। কিন্তু গোটা প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় ওষুধ মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বা সিডিএসসিও-র কোনো ভূমিকাই ছিল না। অর্থাৎ, কেন্দ্রীয় স্তরে এ সংস্থার কার্যকলাপ সম্পর্কে কোনো রকম তথ্য ছিল না সরকারের বলে দাবি করা হচ্ছে। এখনই অবশ্য চুপ করে বসে নেই সিডিএসসিও। সূত্র বলছে, তারা ইতিমধ্যেই দেশের সমস্ত রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে কাফ সিরাপ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির তালিকা পাঠাতে। আগামী এক মাসের মধ্যে সকল কাশির সিরাপের পরীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশ করবে সিডিএসসিও।
মর্মান্তিক ঘটনার পরেই সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা হিসেবে কেন্দ্রীয় সংস্থা সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে, যেন প্রতিটি ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থায় হঠাৎ হানা দিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। ওষুধ বাজারে ছাড়ার আগে প্রতিটি ব্যাচ পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একইসঙ্গে কাঁচামাল যেন শুধু অনুমোদিত ও বিশ্বস্ত সরবরাহকারীর কাছ থেকে আনা হয়, তাও নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে সিডিএসসিও। ঘটনার জেরে স্রেসান ফার্মার সব ধরনের পণ্যের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তামিলনাড়ু সরকার। গোটা কারখানাই সিল করে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহেই রাজস্থানে শিশু মৃত্যুর আর এক ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। প্রাথমিক ভাবে সন্দেহ হয়েছিল কাশির সিরাপকে ঘিরেই। তবে কেন্দ্রীয় সূত্রের দাবি, রাজস্থানের ঘটনায় সিরাপ দায়ী নয়। সেখানে মৃত্যুর কারণ ছিল অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম এবং জাপানিজ এনসেফেলাইটিস। বিভিন্ন রাজ্যে একাধিক শিশুমৃত্যুর ঘটনায় সতর্ক হয়েছে একাধিক রাজ্য। কেরালা সরকার ঘোষণা করেছে, এখন থেকে ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনও কাশির সিরাপ বিক্রি করা যাবে না। একইসঙ্গে, ইন্ডিয়ান ফার্মাসিস্টস অ্যাসোসিয়েশন দেশের সমস্ত কেমিস্টদের অনুরোধ করেছে, দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের কাশির সিরাপ না দেওয়ার জন্য।
❤ Support Us







