- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ২৫, ২০২৩
সীমান্তে সন্ত্রাস চালালে প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক অসম্ভব। পানামা সফরে ইসলামাবাদকে জয়শঙ্করের কড়া বার্তা
চিত্র: সংবাদ সংস্থা
পানামা সফরে গিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সমালোচনায় সরব হলেন এস জয়শংঙ্কর। তিনি বলেছেন, এমন কোনো প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা অত্যন্ত কঠিন যে প্রতিনয়ত ভারতের সীমান্তে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে মদত দিয়ে চলেছে। সামনের মাসে বিলাবল ভুট্টোর এসসিও-র বৈঠকে ভারতে আসার কথা। তার আগে সীমান্ত সমস্যা নিয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রীর মন্তব্য ইন্দো-পাক সম্পর্ককে আরো জটিল করে তুলল।
দুদিনের পানামা সফরে গিয়েছেন এস জয়শংঙ্কর। সোমবার সেখানকার বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করেছেন। দুদেশের বিদেশমন্ত্রকের আয়োজিত আয়োজিত বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচিত হয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্ত সন্ত্রাস প্রসঙ্গে পাকিস্তানকে তীব্র আক্রমণ করেন। তাঁর মতে, সীমান্তে সন্ত্রাস চালালে প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা যায় না। এ ব্যাপারে ইসলামাবাদকে বার বার বলা হয়েছে যেন কোনোমতেই জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষকতা না করা হয়, উৎসাহ না দেওয়া হয়। তাঁরা কথা রাখেনি। আমরা আশা করি পরিস্থিতি একদিন না একদিন পাল্টাবে। যদিও সে সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদের বিতর্ক সভায় পাকিস্তান কাশ্মীর প্রসঙ্গ নিয়ে আবার ভারতকে আক্রমণ করে। স্থায়ী প্রতিনিধি রুচিরা কম্বোজ অবশ্য আর এ নিয়ে অতিরিক্ত কথা বলে পরিষদের সময় নষ্ট করতে চাননি।
ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের বৈরিতা সম্পর্কের অবসানে প্রয়োজন দুদেশের আন্তরিকতা ও একে অপরের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য থেকে নিজেদের বিরত রাখা। কয়েকমাস আগে পাক বিদেশমন্ত্রী বিলাবল ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অসম্মানজনক মন্তব্য করেছিলেন। পাল্টা জবাব দিয়েছিল ভারত। শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক মঞ্চেও কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতকে বার বার তীব্র আক্রমণ করেছে ইসলামাবাদ। থামায়নি সীমান্তে সামরিক তৎপরতা। এমতাবস্থায় শান্তি ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ গড়ে তোলা অত্যন্ত কঠিন। অতীতে অটল বিহারি বাজপেয়ী যখন বাসযাত্রার সূচনার মধ্যে দিয়ে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব হ্রাস করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন, তখন জেনারেল নওয়াজ শরিফও পিছিয়ে থাকেননি। কারগিল যুদ্ধ মৈত্রী প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটালেও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ভারতের বর্তমান শাসক দল দেশের একটি নির্দিষ্ট ধর্মাবলম্বী মানুষকে তাদের বিশ্বাসের ভিত্তিতে কোণঠাসা করতে উদগ্রীব। বিষয়টি লাহোরের নজর এড়ায়নি। এব্যাপারে বার বার তারা কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। চুপ থাকেনি দিল্লিও। বালুচিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অমুসলমানদের শোচনীয় পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে। নিজেদের ক্ষুদ্র গণ্ডী থেকে না বেরিয়ে এলে সীমান্ত সমস্যা যে তিমিরে সেই তিমিরেই থেকে যাবে। সৌহার্দ্য ও মৈত্রীর সম্পর্ক নিয়ে বাড়বে অনিশচয়তার কালো মেঘ।
❤ Support Us








