- এই মুহূর্তে স | হ | জ | পা | ঠ
- আগস্ট ২৮, ২০২৫
অ্যাটলান্টিকের তলায় তেজস্ক্রিয় ‘টাইম বোমা’ ! ১৩ হাজার ফুট গভীরে মিলল ২ লক্ষ ব্যারেল পারমাণবিক বর্জ্য, আতঙ্কে বিজ্ঞানী মহল
অ্যাটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশে ঘুমোচ্ছে মানব সভ্যতা ধবংসকারী এক ‘টাইম বোমা’। সম্প্রতি ফরাসি বিজ্ঞানীদের একটি দল মহাসমুদ্রের ১৩ হাজার ফুট গভীরে খুঁজে পেয়েছেন অন্তত ৩,৩৫৫টি তেজস্ক্রিয় বর্জ্যভর্তি ব্যারেল। যদিও বিজ্ঞানীদের দাবি, এ সংখ্যা আসলে আসল হিমশৈল্যের চূড়া মাত্র। বিজ্ঞানীদের অনুমান, ১৯৪৬ থেকে ১৯৯০, দীর্ঘ ৪ দশকেরও বেশি সময় ধরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ প্রায় ২ লক্ষেরও বেশি ব্যারেল পারমাণবিক বর্জ্য ফেলেছে জলের তলায়। উদ্দেশ্য একটাই, স্থলভাগের মানুষকে ‘সুরক্ষিত’ রাখা। কিন্তু সে ‘সুরক্ষা’ই এখন ভয়াবহ বিপদের কারণ হয়ে উঠছে। জানা যাচ্ছে, বিপুল ওই বর্জ্য নিঃসরণের দায়িত্বে ছিল আন্তর্জাতিক সংস্থা নিউক্লিয়ার এনার্জি এজেন্সি, বর্তমানে যার সদস্য ৩৪টি দেশ।
বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, সমুদ্র তলদেশে থাকা তেজস্ক্রিয় উপাদানগুলি ধীরে ধীরে সামুদ্রিক জীবের শরীরে মিশে যেতে পারে। আর সেই জীব খাদ্য শৃঙ্খলের হাত ধরে সরাসরি মানুষের পাতে পৌঁছে গেলে, ঘটতে পারে মারাত্মক বিপর্যয়। দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা, কোষ ক্ষয়, এমনকি ক্যানসারের সম্ভাবনাও রয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, ওই ব্যারেলগুলি এমনভাবে নকশা করা হয়েছিল যাতে, সেগুলি ধীরে ধীরে তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছাড়ে। এই প্রক্রিয়া কার্যকাল ছিল ২০ থেকে ২৬ বছর। অর্থাৎ, যেটুকু ‘নিরাপত্তার’ সময়সীমা ছিল, তা বহু আগেই ফুরিয়েছে। ফলে যা ঘটবে, তা অনিশ্চিত এবং উদ্বেগজনক।
ফরাসি বিজ্ঞানীরা প্রথম ধাপে ‘ইউএলওয়াইএক্স’ নামক একটি স্বয়ংক্রিয় ডুবো রোবট দিয়ে অ্যাটলান্টিক মহাসাগরের ওই অঞ্চলটি স্ক্যান করে মানচিত্র তৈরি করেছেন। তাঁদের দাবি, আপাতত এই তেজস্ক্রিয় বস্তু মানুষের জন্য ততটা বিপজ্জনক নয়, কারণ সেগুলি রয়েছে অনেক জলতলের গভীরে। কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই। এই ব্যারেলগুলির মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ ছিল ট্রিটিয়াম, যা তুলনামূলকভাবে ক্ষীণ তেজস্ক্রিয়। কিন্তু বাকিরা? সেগুলির মধ্যে রয়েছে বিটা ও গামা রশ্মি নিঃসরণকারী পদার্থ এবং প্রায় ২ শতাংশ আলফা রশ্মি-ও আছে, যা অনেক বেশি ক্ষতিকর। বিজ্ঞানীদের বিশেষ চিন্তার কারণ ‘স্ট্রনটিয়াম-৯০’। এই তেজস্ক্রিয় মৌল শরীরে ঢুকলে ক্যালসিয়ামের মতো আচরণ করে, ফলে হাড়ে জমে যেতে পারে। এর সঙ্গে রয়েছে ‘সিজিয়াম-১৩৭’, ‘প্লুটোনিয়াম-২৪১’ এমনকি ইউরেনিয়াম-২৩৮ মতো মারাত্মক ধ্বংসকারী বস্তু। ২০২৬ সালে গবেষণার পরের পর্যায়ে বিজ্ঞানীরা মাপজোক করে দেখবেন সমুদ্রের জলের, তলদেশের পলিমাটি এবং সামুদ্রিক প্রাণীর মধ্যে এইসব তেজস্ক্রিয়তা কতটা ঢুকে পড়েছে। তবে, এখনো অবধি যা জানা যাচ্ছে, তাতেই পরিষ্কার — ওই পারমাণবিক বর্জ্যের ব্যারেলগুলো শুধু অতীতের ভুল নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য ‘টাইম বোমা’!
❤ Support Us








