- এই মুহূর্তে দে । শ
- জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
২৬-এর নির্বাচনে আবারও বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোট! বাংলা বাঁচাতে সবাইকে এক হবার বার্তা সেলিমের
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে জোট-জল্পনা ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে এককাট্টা লড়াইয়ের বার্তা দিয়ে ইতিমধ্যেই নিজেদের মধ্যে দরজা খোলা রেখেছেন দুই বিধায়ক— আইএসএফ নেতা নৌশাদ সিদ্দিকি ও সদ্য নতুন দল গড়া হুমায়ুন কবীর। এ আবহেই এবার প্রকাশ্যে একসঙ্গে লড়াইয়ের ডাক দিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। একই সঙ্গে কৌশলে জোট-প্রশ্নের বল ঠেলে দিলেন কংগ্রেসের কোর্টে।
বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদে দাঁড়িয়ে মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গকে বাঁচাতে হলে আসুন আমরা একসঙ্গে হই। আমরা ইতিমধ্যেই কথাবার্তা শুরু করেছি। যাঁরা যাঁরা আলোচনায় আছেন, তাঁদের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। মালদা, মুর্শিদাবাদ, বীরভূমে কংগ্রেসকেও সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মানুষের ঐক্যের ভাবনাকে মর্যাদা দিতে হবে। কংগ্রেসকেও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে জোট বেঁধে লড়াই করেছিল সিপিএম ও কংগ্রেস। ব্রিগেডের মঞ্চে ৩ দল একসঙ্গে থাকলেও, শুরু থেকেই কংগ্রেস নওশাদ-আব্বাসদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে চলেছিল। সে নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত সিপিএমের সমর্থনে জয়ী হন আইএসএফ প্রার্থী নৌশাদ সিদ্দিকি। ২৬-এর নির্বাচনেও নৌশাদ সিদ্দিকি ও হুমায়ুন কবীর— দু’জনেই বাম ও কংগ্রেসের জন্য জোটের দরজা খোলা রাখার বার্তা দিয়েছেন।
নৌশাদ সিদ্দিকির বক্তব্য, ‘বিজেপি-তৃণমূলকে হারানোর জন্য, যাতে সহজে হারানো যায়, কম কষ্টে বেশি ফল পাওয়া যায়—সে জন্য জাতীয় কংগ্রেস, বামফ্রন্ট এবং অন্যান্য সেকুলার ফ্রন্টগুলিকে আমরা জানিয়েছি।’ অন্যদিকে, সাসপেন্ডেড তৃণমূল নেতা ও জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর বলেছেন, ‘সেলিম সাহেবরা বসুন, সুজন বাবুরা বসুন, নৌশাদ সাহেব বসুন, আব্বাস ভাইজান বসুন, কংগ্রেসের অধীর বাবু আর ঈশা খান—সবাই বসে কথা বলুন।’ এ পরিস্থিতিতে কংগ্রেস কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড়ো প্রশ্ন। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ‘আমরা আলোচনার মধ্য দিয়েই আগামী দিনে সিদ্ধান্ত নেব। ঐক্যবদ্ধ লড়াই মানে আদর্শগত ও নীতিগত দিক থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে যে পথ রাস্তাই রাস্তা দেখায়, সেই পথকেই অবলম্বন করতে হবে।’
সব মিলিয়ে, যদি বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ এবং হুমায়ুন কবীর একসঙ্গে ভোটের ময়দানে নামে, তবে কি তাতে তৃণমূলের উপর চাপ বাড়বে? সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে কি ভাঙন ধরতে পারে? এ প্রশ্নে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কুণাল ঘোষের কটাক্ষ, ‘ওরা ধর্মের নামে ভাঙাতে চাইছে। দু-চারজন মুখোশধারীকে দিয়ে পুতুলনাচ করানো হচ্ছে। দেখলে মনে হচ্ছে বিজেপি-বিরোধী, কিন্তু আসলে বিজেপি-বিরোধী ভোট কেটে বিজেপিরই সুবিধা করে দেবে।’ ভোটমুখী বাংলায় ইতিমধ্যে চড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা, আর মাত্র কয়েক মাস পরেই বিধানসভা নির্বাচন। শেষ পর্যন্ত কে কার হাত ধরবে, কোন জোট বাস্তব রূপ নেবে, তা স্পষ্ট হয়ে যাবে খুব শিগগিরই।
❤ Support Us








