Advertisement
  • দে । শ ভা | ই | রা | ল
  • মার্চ ১৩, ২০২৬

চাবি খুঁজতে গাছের মগডালে নবতিপর, উদ্ধারে দমকল

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
চাবি খুঁজতে গাছের মগডালে নবতিপর, উদ্ধারে দমকল

সাতসকালে দরজায় কড়া নাড়া। পরিচারিকার চিল-চিৎকার, চাবিটা দ্যান গো দাদু। ঘুম ভেঙে নবতিপর যুধিষ্ঠির চক্কোত্তি চোখ রগড়াতে রগড়াতে ভাবতে থাকেন, চাবিটা কোথায় রাখলাম! কিছুতেই মনে করতে পারছেন না। সিঁড়ির মুখে দরজার তালাটা না খুললে কাজের মেয়েতো ঘরেই ঢুকতে পারবে না। তার আবার আরো ৫ বাড়ি কাজ। বুড়ো ভাবেন, তাহলে চাবিটা নিশ্চিত নিচে কোথাও পড়ে গিয়েছে। কিন্তু নিচে নামতে গেলে তো সেই সিঁড়ির দরজার তালাটাই খুলতে হবে। এদিকে চিৎকার বাড়িয়েছে পরিচারিকা। কী হলো গো দাদু। চাবিটা ছোড়ো না কি!

একটা হেস্তনেস্ত করতে হবে ভেবে ঝেড়েমেড়ে বিছানা ছাড়েন বুড়ো। পাজামার গিঁটটা কষে বেঁধে তরতরিয়ে সিঁড়ি বেয়ে ছাদে। ছাদের কার্নিসের গায়েই ধাক্কা দিচ্ছে বিশাল আমলকির ডাল। কার্নিস ডিঙিয়ে উঠে বসেন সেই ডালে। পরিকল্পনা, এ ডাল ও ডাল করে নিচে নেমে চাবি খুঁজবেন। বিপত্তিটা ঘটল উপরের ডাল থেকে নিচের ডালে পা রাখতেই। ছোটবেলায় আম-জাম-পেয়ারা গাছে ওঠা ছিল জলভাত। কিন্তু নব্বই পেরনো শরীরে কি সেই তাকত থাকে ? গোটা শরীর তখন থরহরি কম্পমান যুধিষ্ঠিরের। হাত-পা অবশ। ছাদেও যেতে পারেন না, নিচেও নামতে পারেন না। যুধিষ্ঠিরকে মগডালে ওই অবস্থায় দেখে হতবাক পড়শিরা। কী করতে হবে বুঝতে পারছেন না কেউ। বছর তিনেক আগে স্ত্রী গায়ত্রীর মৃত্যুর পর কাটোয়া শহরের ৫নং ওয়ার্ডের দোতলা বাড়িতে একাই থাকতেন পশু হাসপাতালের অবসৃত কর্মী যুধিষ্ঠির। বার্ধক্যজনিত সামান্য অসুখ-বিসুখ ছাড়া তেমন শারীরিক সমস্যা নেই। সমস্যা একটাই, খুব ভুলে যান। সংসারের কাজ ও দেখভালের জন্য ২ জন পরিচারিকা রেখে দিয়েছেন। ৩ মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ২ ছেলে চাকরি করেন। সবাই আশেপাশেই থাকেন। খবর পেয়ে তারাও বাড়ির দরজায় এসে দাঁড়িয়েছেন। ছাদে ওঠারওতো জো নেই। সিঁড়ির দরজাটাতেই যে তালা।

এদিকে আমলকির ডালে বসে যুধিষ্ঠির নিচে থাকা লোকজনের কাছে আর্তি জানাচ্ছেন, ওরে আমাকে কেউ নামা। আমি যে আর পারছি না। দম আটকে আসছে। শেষমেশ খবর দেওয়া হয় দমকলকে। ঘন্টি বাজিয়ে হাজির হয় দমকল। লম্বা মই লাগিয়ে উঠে দড়ি দিয়ে বুড়োকে বেঁধে ঘন্টাখানেকের কসরতে নিচে নামান দমকল কর্মীরা।

ছোটো বউমা জ্যোৎস্না চক্রবর্তী নুন-চিনি-জল গুলে শ্বশুরকে খাওয়াতে খানিকটা ধাতস্থ হন যুধিষ্ঠির। এদিকে বাবার পিঠে হাত বোলাতে বোলাতে মল্লিকা হাজরা বলেন, ‘যদি পড়ে যেতে, কী যে হত!’ ঘন্টা ছয়েকেরও বেশিক্ষণ ধরে এত কাণ্ডের পর তখনও মীমাংসা হয় নি, সিঁড়ির গেটের চাবিটা তাহলে কোথায়। শুরু হল তন্নতন্ন করে খোঁজাখুঁজি। রহস্য ভেদ করল যুধিষ্ঠিরের পুঁচকে নাতি। সিঁড়ির গেটের চাবিখানা নিয়ে যুধিষ্ঠিরের মুখের সামনে দোলাতে দোলাতে বলে,  ও দাদু, চাবিটাতো তুমি বালিশের তলাতেই রেখেছিলে। মুচকি হেসে বুড়ো বলেন, ওই দেখেছিস— বেমালুম ভুলে গিয়েছিলাম।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!