- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মার্চ ২১, ২০২৬
অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ সোমবার, নাম বাদ পড়লে নতুন ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার সুযোগ
সোমবার, ২৩ মার্চ প্রথম অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। এসআইআরে বিচারাধীন ভোটারদের নিষ্পত্তির পর এই তালিকা প্রকাশ করা হবে। উল্লেখ্য, এর ঠিক একমাস পর অর্থাৎ ২৩ এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বিচারাধীন প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ইতিমধ্যে ২৭ লক্ষ ২৩ হাজার জনের নাম যাচাই ও নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এই তালিকাভুক্ত ভোটারদের নামই প্রথম অতিরিক্ত ভোটার তালিকায় প্রকাশিত হবে।
এছাড়াও, আগামী সপ্তাহের শুক্রবার দ্বিতীয় অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। কমিশনের ইঙ্গিত অনুযায়ী, এরপর থেকে প্রতি শুক্রবারই ধারাবাহিকভাবে অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে।
এর পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। অতিরিক্ত ভোটার তালিকায় কারও নাম না থাকলে বা নাম বাদ পড়লে, তার বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য একটি নতুন ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। এই ট্রাইব্যুনালে ২৩টি জেলার জন্য মোট ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতিকে নিযুক্ত করা হয়েছে।
এই ট্রাইব্যুনালে রয়েছেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম, প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু, রঞ্জিতকুমার বাগ এবং সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়-সহ অন্যান্য বিচারপতিরা।
ভোটার তালিকায় নাম না থাকা বা নাম কেটে দেওয়া হলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এই ট্রাইব্যুনালে আবেদন করে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। অতিরিক্ত বা সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশের পর থেকেই এই আবেদন করা যাবে।
আবেদন করার পদ্ধতি:
অনলাইন ও অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই আবেদন করা যাবে : অনলাইনে আবেদন করতে হলে ECI NET মোবাইল অ্যাপ বা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে হবে, অফলাইনে আবেদন জমা দেওয়া যাবে জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক বা মহকুমাশাসকের দফতরে জানা গেছে, এই ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করতে পারবে এবং সমস্ত আবেদন নিষ্পত্তি হওয়ার পর এটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
অন্যদিকে শুক্রবার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, পর্যবেক্ষক এবং মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেন।
ভোটগ্রহণের পাঁচ দিন আগে থেকেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব মূলত আধা-সামরিক বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে রাজ্য পুলিশ শুধুমাত্র আইনি প্রক্রিয়া ও কেস ডায়েরি রক্ষণাবেক্ষণের কাজেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। ভোটের দিনেও পুলিশকে তুলনামূলকভাবে নিষ্ক্রিয় রেখে বুথ পরিচালনার দায়িত্ব বিএলও এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই এই পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র আমলে দেশে ‘অঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন’ চলছে। এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-ও।
কমিশন আরও জানিয়েছে, ভোটের আগে সমাজমাধ্যম বা ইন্টারনেটে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে মিডিয়া সার্টিফিকেশন অ্যান্ড মনিটরিং কমিটি (MCMC)-র অনুমোদন নিতে হবে। অনুমতি ছাড়া কোনও বিজ্ঞাপন প্রচার করলে তা নিয়মভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
❤ Support Us





