- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- মার্চ ২৫, ২০২৬
যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ট্রাম্পের, কটাক্ষ তেহরানের
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের শুরুতে আমেরিকার হাবভাব ছিল, ‘এলাম, দেখলাম, জয় করলাম’ গোছের। কিন্তু সময় যত এগিয়েছে, পরিস্থিতি যে এত সরল নয়, ইরান যে ভেনেজুয়েলা নয়, তা হাড়েহাড়ে বুঝেছে ওয়াশিংটন। ইরানের ধারাবাহিক আক্রমণ, হার না মানার একরোখা মনোভাব আর ‘ডি-সেন্ট্রালাইজ’ হামলা পদ্ধতিতে গভীর চিন্তার ভাঁজ পড়েছে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর কপালে। এ উত্তাপের মধ্যেই কূটনৈতিক পরিসরে নয়া নাটকীয়তা। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে, যুদ্ধ শেষ হবে এইবার। অন্যদিকে তেহরানের সাফ জবাব— ‘কোনো আলোচনা হচ্ছে না, আমেরিকা নিজের সঙ্গে নিজেই কথা বলছে।’ এই পরস্পরবিরোধী অবস্থানের মাঝেই সামনে এসেছে ট্রাম্প প্রশাসনের ১৫ দফা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব, যা পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের হাতে পৌঁছেছে বলে খবর।
মঙ্গলবার পরপর দ্বিতীয় দিনের মতো ট্রাম্প দাবি করেন, ‘আমরা সঠিক লোকদের সঙ্গে কথা বলছি। তারা চুক্তি করতে চায়।’ যদিও তিনি স্পষ্ট করেননি, তেহরানে কার সঙ্গে এই কথাবার্তা চলছে। একইসঙ্গে ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইসলামাবাদ হতে পারে সম্ভাব্য আলোচনার মঞ্চ। ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলে মধ্যস্থতার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এই কূটনৈতিক তৎপরতার মাঝেই ইরানের প্রতিক্রিয়া তীব্র। ইরানি সেনাবাহিনীর খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে প্রচারিত এক বার্তায় সরাসরি কটাক্ষ করেন, ‘যে দেশ নিজেকে সুপারপাওয়ার বলে দাবি করে, সে যদি পারত, অনেক আগেই এই জটিলতা থেকে বেরিয়ে আসত। পরাজয়কে চুক্তির মোড়কে ঢাকতে চাইছে তারা।’ তাঁর আরও মন্তব্য, ‘তোমাদের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি কি এতটাই খারাপ যে নিজেদের সঙ্গে নিজেই আলোচনা করে এ ধরনের ভ্রান্ত মন্তব্য করতে হচ্ছে ?’ তেহরানের স্পষ্ট বার্তা, ‘এখন নয়, কোনো দিনই নয়— তোমাদের মতো কারও সঙ্গে ইরান সমঝোতায় যাবে না।’
এদিকে, দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ থামার বদলে তীব্র হয়ে ডালপালা ছড়াচ্ছে সংঘর্ষ। দক্ষিণ তেহরানে মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রের খবর। অন্যদিকে লেবাননের রাজধানী বেইরুতের দক্ষিণাংশে ইজরায়েলের ধারাবাহিক আক্রমণে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। গত ২ মার্চ থেকে সে দেশে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই হাজার ছাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন। ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন থেকে অন্তত ১,০০০ অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি ২টি ‘মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট’ মোতায়েনের প্রক্রিয়া চলছে, যা যুক্ত করবে আরও প্রায় ৫,০০০ মেরিন এবং বিপুল সংখ্যক নাবিক। ইতিমধ্যেই ওই অঞ্চলে প্রায় ৫০,০০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। তাই একথা স্পষ্ট, কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা জোরালো হলেও বাস্তবে যুদ্ধক্ষেত্রে উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ আপাতত নেই। বরং বোমা ও বারুদের শব্দের মাঝেই চলেছে ‘আলোচনা’।
যুদ্ধের এই টানাপোড়েনের মাঝেই নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ট্রাম্পের এক রহস্যময় মন্তব্য ঘিরে। তাঁর দাবি, ইরান আমেরিকাকে একটি ‘অত্যন্ত মূল্যবান উপহার’ দিয়েছে, যা তেল ও গ্যাস সংক্রান্ত এবং হরমুজ প্রণালীর সঙ্গে যুক্ত। ‘ওরা এমন কিছু করেছে, যা সত্যিই অবিশ্বাস্য… এক বিশাল উপহার, যার মূল্য অপরিসীম’— বলেন ট্রাম্প। যদিও তিনি সেই ‘উপহার’-এর প্রকৃতি স্পষ্ট করেননি, শুধু ইঙ্গিত দিয়েছেন, তা হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাস চলাচলের সঙ্গে সম্পর্কিত। উল্লেখ্য, বিশ্ব তেল সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে। যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলি হামলার পর ইরানের পাল্টা পদক্ষেপে প্রায় থমকে গিয়েছে জাহাজ চলাচল। তবে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার মাধ্যমে ইরান জানিয়েছে, ‘অ-শত্রুভাবাপন্ন’ জাহাজগুলির জন্য পথ নিরাপদ রাখা হবে।
❤ Support Us







