- দে । শ
- মার্চ ২৫, ২০২৬
ভারী বৃষ্টিতে সিকিমে ফের দুর্যোগ! চুংথাং, লাচেনের ভূমিধসে আটকে প্রায় ২০০ পর্যটক, অনিশ্চিত আবহাওয়ায় স্থগিত যাতায়াত
পাহাড়ে আবারও প্রকৃতির রুদ্ররূপ। একটানা ভারী বৃষ্টিপাতে উত্তর সিকিমের বিস্তীর্ণ এলাকা বিপর্যস্ত। গ্যাংটক থেকে লাচেন এবং চুংথাং থেকে লাচেন— এই দুই গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথের একাধিক অংশে ধস নেমে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। তার জেরেই চুংথাংয়ে আটকে পড়েছেন শতাধিক পর্যটক। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত লাচেনমুখী সমস্ত যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
মঙ্গন জেলার জেলাশাসক অনন্ত জৈন জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত থেকেই পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে। গ্যাংটক-লাচেন এবং চুংথাং-লাচেন রুটের বিভিন্ন জায়গায় ধস নামায় লাচেনগামী পর্যটকেরা মাঝপথেই থমকে যান। অনেক গাড়ি রাস্তায় আটকে পড়ে। শেষ পর্যন্ত তাঁদের চুংথাংয়ে নিরাপদে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে শতাধিক পর্যটক সেখানে আটকে রয়েছেন। প্রশাসনের তরফে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে আটকে পড়া পর্যটকদের থাকার জন্য ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (আইটিবিপি)-র শিবির এবং একটি গুরুদুয়ারে অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। খাবার ও প্রাথমিক প্রয়োজনীয়তারও ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে লাচেন যাওয়ার পথ কার্যত স্তব্ধ হয়ে থাকায় উদ্বেগ কাটছে না পর্যটকদের একাংশের মধ্যে।
এ দিকে, বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন (বিআরও) ধস সরানোর কাজে ইতিমধ্যেই নেমেছে। একাধিক জায়গায় মাটি ও পাথর সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কারের চেষ্টা চলছে। তবে মাঝেমধ্যেই বৃষ্টি নামায় সেই কাজ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আবহাওয়ার সামান্য উন্নতি হলেই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ধাপে ধাপে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে। তার আগে কোনও রকম ঝুঁকি নেওয়া হবে না। কিছুটা স্বস্তির খবর মিলেছে লাচুং রুটে। মঙ্গলবার রাতেই ওই পথেও ধস নেমে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। তবে দ্রুততার সঙ্গে রাস্তা পরিষ্কার করে বুধবার সকাল থেকেই সে পথে আটকে থাকা পর্যটকদের গ্যাংটকে ফিরিয়ে আনা শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে বলে প্রশাসনের দাবি। পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রেখেছে প্রশাসন। পর্যটকদের জন্য সতর্কবার্তাও জারি করা হয়েছে। পাহাড়ে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ভয়াবহ হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণজনিত বন্যায় (গ্লোফ) মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল লাচেনের রাস্তা। দীর্ঘ মেরামতির পর গত ৯ মার্চ ওই পথ আবার খুলেছিল। কিন্তু তার কিছু দিনের মধ্যেই ফের এই ধস পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে। এরই মধ্যে, টানা তুষারপাতের জেরে ছাঙ্গু লেক এবং নাথুলা পাস এখনো বন্ধ রয়েছে পর্যটকদের জন্য। ফলে উত্তর সিকিমের পর্যটন ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
শুধু সিকিম নয়, উত্তরবঙ্গের আবহাওয়াও ক্রমশ অস্থির হয়ে উঠছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৭ মার্চ দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ২৮ ও ২৯ মার্চ ওই জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। সব মিলিয়ে, পাহাড়জুড়ে এখন অনিশ্চয়তার ছায়া।
❤ Support Us







