- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- আগস্ট ২০, ২০২৬
ইথানল উৎপাদনের চাপে চিনির সংকট, এক দশক পর ১০ লক্ষ টন আমদানির পথে ভারত
দেশের বাজারে ক্রমবর্ধমান চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় এক দশক পর ফের চিনি আমদানির কথা ভাবছে ভারত সরকার। সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০ লক্ষ টন চিনি শুল্কমুক্তভাবে আমদানির পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারের মূল লক্ষ্য, উৎসবের মরশুমের আগে দেশের বাজারে চিনির সরবরাহ স্বাভাবিক রেখে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা।
এতদিন চিনি উৎপাদনে ভারত শুধু স্বনির্ভরই ছিল না, বরং প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চিনি বিদেশে রপ্তানিও করত। কিন্তু এবার পরিস্থিতি বদলেছে। একদিকে অনিয়মিত বর্ষার কারণে আখের উৎপাদন কিছুটা কমেছে, অন্যদিকে কেন্দ্রের ইথানল উৎপাদন বাড়ানোর নীতির ফলে আখের রসের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই দুইয়ের সম্মিলিত প্রভাবেই দেশে চিনির উৎপাদন ও সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।
গত কয়েক বছরে দেশে ইথানলের সরবরাহ বাড়াতে সরকার এই খাতে বিনিয়োগ ও কারখানা স্থাপনে উৎসাহ দিয়েছে। ইথানল তৈরিতে বিপুল পরিমাণ আখের রস প্রয়োজন হয়। ফলে ইথানল উৎপাদনকারী সংস্থাগুলি কৃষকদের কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি দামে আখ কিনছে। এর জেরে চিনি কলগুলিতে আখের সরবরাহ কমছে এবং স্বাভাবিকভাবেই চিনির উৎপাদনও চাপের মুখে পড়ছে।
এদিকে দেশের বাজারে চিনির চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। সামনে দুর্গাপুজো, দিওয়ালি-সহ একাধিক উৎসব। এই সময় মিষ্টি ও বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে চিনির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে না রাখা গেলে তার প্রভাব মিষ্টি-সহ একাধিক খাদ্যপণ্যের দামে পড়তে পারে। সমস্যায় পড়তে পারেন মিষ্টি ব্যবসায়ীরাও।
ইতিমধ্যেই দেশের অন্যতম প্রধান চিনি উৎপাদন কেন্দ্র মহারাষ্ট্রের কোলহাপুরে চিনির দাম চলতি মরশুমে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। মঙ্গলবার সেখানে প্রতি কুইন্টাল চিনির দাম ৫,৪০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। গোটা দেশে পাইকারি বাজারে গড়ে চিনির দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫২.৩ টাকা প্রতি কেজি। খুচরো বাজারে পরিস্থিতি আরও কঠিন। দেশের বিভিন্ন শহরে চিনির দাম ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা প্রতি কেজি পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে দাম কমানোর লক্ষ্যেই আমদানির পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে ১০ লক্ষ টন চিনি আমদানি করলেও দাম খুব বেশি কমবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে প্রতি কুইন্টালে সর্বোচ্চ প্রায় ৫০০ টাকা পর্যন্ত দাম কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত চিনি আমদানির সিদ্ধান্তও নিতে পারে সরকার।
ভারতের মতো বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চিনি ভোক্তা দেশের আমদানির পথে হাঁটার খবর আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলেছে। কারণ সাধারণত বিশ্বের মোট চিনির চাহিদার প্রায় ৮-১২ শতাংশ সরবরাহ করে ভারত। ফলে এতদিন যে দেশটি বড় রপ্তানিকারক হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, সেই ভারত এবার আমদানিকারক হতে পারে—এই সম্ভাবনায় ব্রিটেন ও আমেরিকার মতো আন্তর্জাতিক বাজারেও চিনির দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ইথানল উৎপাদন বাড়ানোর নীতি, আখের উৎপাদনে ঘাটতি এবং উৎসবের মরশুমে বাড়তে চলা চাহিদা—এই তিন কারণেই ভারতের চিনির বাজারে বড়সড় চাপ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রায় এক দশক পর চিনি আমদানির সিদ্ধান্ত নিতে হলে তা দেশের খাদ্যবাজার ও আন্তর্জাতিক চিনির বাজার—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
❤ Support Us





