- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ২০, ২০২৬
ছাত্র-যুবদের মন বুঝতে নয়া কৌশল! ‘এক দিন, এক বিশ্ববিদ্যালয়’ কর্মসূচির পরিকল্পনা মোদি সরকারের
দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র-যুবদের বিক্ষোভের পর তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছতে নতুন উদ্যোগ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ছাত্র-যুবদের সমস্যা, উদ্বেগ ও বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের মতামত সরাসরি জানার লক্ষ্যেই চালু হতে চলেছে ‘এক দিন, এক বিশ্ববিদ্যালয়’ কর্মসূচি। এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন একটি করে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা। সেখানে পড়ুয়াদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার পাশাপাশি তাঁদের মতামত ও সমস্যার কথা শুনবেন তাঁরা।
বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকেই ‘এক দিন, এক বিশ্ববিদ্যালয়’ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এক এক দিনে এক এক জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে পড়ুয়াদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। তরুণদের বিভিন্ন সমস্যা ও উদ্বেগ বোঝার চেষ্টা করার পাশাপাশি ছাত্র-যুবদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প ও উদ্যোগ সম্পর্কেও তাঁদের অবহিত করা হবে। কোন মন্ত্রী কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন এবং কবে যাবেন, সে পরিকল্পনা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী এবং যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডবীয়কে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের মধ্যে সমন্বয়ের কাজও করবেন তাঁরা।
ঘটনাচক্রে, দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র-যুবদের বিক্ষোভের পর থেকেই তরুণদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা আরও জোরদার করেছে মোদি সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও একাধিক কর্মসূচিতে তরুণদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করতে দেখা গিয়েছে। কখনো ইনস্টাগ্রাম রিলের মাধ্যমে, কখনো প্রকাশ্য সভায় যুবসমাজকে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। এমনকি স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার অনুষ্ঠানেও দেশের যুবশক্তির প্রসঙ্গ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। যন্তর মন্তরের আন্দোলন কেন্দ্রকে রাজনৈতিক ভাবে যথেষ্ট চাপে ফেলেছে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। ওই আন্দোলনের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ইস্তফা দিতে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। মোদি সরকারের আমলে কোনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এ ভাবে আন্দোলনের চাপে পদত্যাগ করার ঘটনা নজিরবিহীন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে শুধু শাসক শিবিরই নয়, তরুণদের সমর্থন ও আস্থা অর্জনের দৌড়ে বিরোধীরাও সক্রিয় হয়েছে। কংগ্রেস দেশের প্রায় ৮০০টি ছোট ও মাঝারি শহরে রাহুল গান্ধির ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। বুধবার কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে এই কর্মসূচির পরিধি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এর ফলে বড়ো শহরের পাশাপাশি ছোটো ও মাঝারি শহরগুলিতেও ছাত্র-সম্মেলনের আয়োজন করা হবে এবং রাহুল গান্ধি তরুণদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করবেন। তবে, যন্তর মন্তরের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে কংগ্রেসের ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচি নিয়ে দলের ভিতরে প্রশ্ন উঠেছে। একটি অরাজনৈতিক মঞ্চ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র ডাকে যন্তর মন্তরে যে ভাবে ছাত্র-যুবদের জমায়েত হয়েছিল, তাতে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তুলনামূলক ভাবে ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ তরুণদের মধ্যে কতটা প্রভাব ফেলতে পেরেছে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে কংগ্রেসের অন্দরে।
রাহুল গান্ধি যন্তর মন্তরের জমায়েতের আগে রাজস্থানের কোটায় ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। কিন্তু কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের মতে, ‘সিজেপি’ যে ধরনের সাড়া ছাত্র-যুবদের মধ্যে তৈরি করতে পেরেছে, রাহুলের কর্মসূচি এখনো সে মাত্রায় পৌঁছতে পারেনি। কেন ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ তরুণদের মধ্যে প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়েছে, তা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি। এ পরিস্থিতিতেই কংগ্রেস কর্মসূচিটির পরিধি আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রও ‘এক দিন, এক বিশ্ববিদ্যালয়’-এর মাধ্যমে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৌঁছতে চাইছে। ফলে ছাত্র-যুবদের আস্থা ও সমর্থন অর্জনকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী— দুই শিবিরের তৎপরতাই এখন বাড়ছে।
যন্তর মন্তরের ছাত্রবিক্ষোভ যে দেশের রাজনৈতিক পরিসরে ছাত্র-যুবদের গুরুত্বকে নতুন করে সামনে এনেছে, তা স্পষ্ট। এখন দেখার বিষয়, ক্যাম্পাসে গিয়ে তরুণদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের কেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্যোগ কতটা সাড়া ফেলে এবং কংগ্রেসের ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচি কতটা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারে। ছাত্র-যুবদের আস্থা অর্জনের এই রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় শেষ পর্যন্ত কোন শিবির কতটা লাভবান হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।
❤ Support Us







