Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ২০, ২০২৬

অরুণাচলের ৬০ কিমি লাল ফৌজের দখলে ? দাবি খারিজ রিজিজুর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
অরুণাচলের ৬০ কিমি লাল ফৌজের দখলে ? দাবি খারিজ রিজিজুর

অরুণাচল প্রদেশে চিনা সেনার অনুপ্রবেশ নিয়ে জল্পনার মধ্যেই ৬০ কিলোমিটার ভিতরে ঢুকে পড়ার দাবি খারিজ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তাঁর দাবি, ‘চিন ভারতের ৬০ কিলোমিটার ভিতরে ঢুকে পড়েছেএমন দাবি করা সম্পূর্ণ ভুল।’ তবে একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যভারত-চিন সীমান্তের বড়ো অংশ এখনো অত্যন্ত সংবেদনশীল। ফলে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে অসতর্ক মন্তব্য বা যাচাই না করা ভিডিয়ো ছড়ানোয় বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবনসিরি জেলার তাকসিং এলাকায় চিনা সেনার গতিবিধি নিয়ে সম্প্রতি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগপ্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) পেরিয়ে ভারতের ভূখণ্ডের কিছু এলাকায় ঢুকে পড়েছে লাল ফৌজ।  আবহেই এক সাক্ষাৎকারে রিজিজু বলেনবিষয়টিকে হালকা ভাবে দেখার কোনো প্রশ্ন নেই। তবে ৬০ কিলোমিটার ভিতরে চিনা সেনা ঢুকে পড়েছে’— এ ধরনের দাবি সঠিক নয়।

রিজিজুর ব্যাখ্যাঅরুণাচলে ভারত ও চিনের মধ্যে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। সীমান্তের সর্বত্র স্পষ্ট ভাবে চিহ্নিতকরণ হয়নি। ফলে কোন এলাকার উপর কার দাবিতা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতপার্থক্য রয়েছে।  তবে তার অর্থ এই নয় যে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও মেনে নিয়েছেন, অরুণাচলের কয়েকটি এলাকায় চিনা তৎপরতা বেড়েছে। তবে, সীমান্তবর্তী গ্রামের মানুষের উদ্বেগকে কেন্দ্র সরকার গুরুত্ব দিয়েই দেখছে। ওই এলাকায় ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ বা আইটিবিপি-র টহলদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

একই সঙ্গে ভুয়ো তথ্য ছড়ানো নিয়েও সতর্ক করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর অভিযোগযাচাই না করা ভিডিয়ো এবং নানা ধরনের দাবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে। এমনকি বাংলাদেশ থেকেও কিছু ভিডিয়ো বা দাবি ছড়ানোর কথা উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতেএ ধরনের প্রচার শুধু বিভ্রান্তিই তৈরি করে নাদেশের মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক এবং সেনাবাহিনীর মনোবল নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। সীমান্তে পরিকাঠামো নিয়ে পুরনো বিতর্কও এ দিন সামনে এনেছেন রিজিজু। তাঁর বক্তব্যচিন বহু বছর আগেই সীমান্তবর্তী এলাকায় রাস্তা সহ অন্যান্য পরিকাঠামো তৈরি শুরু করেছিল। ভারত সে দৌড়ে এতদিন পিছিয়ে ছিল। এ প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে তিনি ২০১৩ সালে তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ কে অ্যান্টনির সংসদে দেওয়া বক্তব্যের উল্লেখ করেন। রিজিজুর দাবি, ‘সে সময় কংগ্রেস ক্ষমতায় ছিল। তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ কে অ্যান্টনি সংসদে জানিয়েছিলেনসীমান্তে পরিকাঠামো তৈরি না করাই ভারতের নীতি ছিল।’ তাঁর অভিযোগভারত সীমান্তে রাস্তা তৈরি না করলেও চিন সে কাজ চালিয়ে গিয়েছে। ফলে সীমান্তবর্তী উচ্চ পার্বত্য এলাকায় পরিকাঠামোগত সুবিধা তৈরি করে কৌশলগত সুবিধা পেয়েছে চিনা সেনা । তবে কংগ্রেসের দাবি, রিজিজুর এই তথ্য সঠিক নয়, ইউপিএ সরকারগুলিও সীমান্তবর্তী এলাকায় রাস্তা ও অন্যান্য পরিকাঠামো তৈরিতে একাধিক পদক্ষেপ করেছিল।

অন্যদিকে, কিরেন রিজিজুর বক্তব্য২০১৪ সালের পর সীমান্ত পরিকাঠামো উন্নয়নে গতি বহুগুণ বেড়েছে। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় যে সব প্রত্যন্ত সীমান্ত এলাকায় কার্যত কোনো উন্নয়ন হয়নিসেখানে রাস্তা তৈরি থেকে শুরু করে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার কাজ হয়েছে। তাঁর মতেঅতীতে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিলএখন তা পূরণ করার চেষ্টা চলছে। চিনা সেনার সাম্প্রতিক গতিবিধি প্রসঙ্গে রিজিজুর ব্যাখ্যাও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘এমনটা নয় যে, তারা আমাদের কোনো গ্রাম দখল করে নিয়েছে। সীমান্ত যেখানে নির্ধারিত নয়সেখানে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় তারা শিবির তৈরি করেছে।’ তাঁর বক্তব্যভারতীয় দিকের গ্রামবাসীরা মনে করেন তাঁদের জমি আরও ভিতর পর্যন্ত বিস্তৃত। অন্যদিকে, চিনা পক্ষও ওই সব এলাকার উপর নিজেদের দাবি জানায়। এ বিরোধের জেরেই নানান সময় সীমান্তবর্তী এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়।

 সীমান্ত উন্নয়নকে কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’ বলে দাবি করেছেন। অরুণাচল পশ্চিমের সাংসদ রিজিজুর দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকার পরিস্থিতি কঠিন হলেও মোদি সরকার সেখানে পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি নিজে মাজাগালেমো এবং তাকসিং এলাকায় গিয়ে পরিকাঠামো সংক্রান্ত কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেছেন বলেও জানান। অরুণাচল নিয়ে ভারত-চিন টানাপড়েন অবশ্য নতুন নয়। সীমান্তে চিনা তৎপরতার পাশাপাশি অরুণাচলের বিভিন্ন জায়গার নাম বদলের চেষ্টাও দিল্লির সঙ্গে বেজিংয়ের বিরোধের অন্যতম বিষয়। চলতি মাসের গোড়াতেই অরুণাচলের ২৭টি জায়গার নাম সরকারি মানচিত্রে প্রমিত নামে চিহ্নিত করে ভারত। চিন ওই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছিল। পাল্টা দিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং জায়গাগুলির নাম বদলের কোনো একতরফা প্রচেষ্টা ভারতের অবস্থান বদলাতে পারবে না। এ আবহেই ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকও বার বার সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার উপর জোর দিয়েছে। ১১ গস্ট বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেনচিনের সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকার পরিস্থিতিকে ভারত অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় থাকা ভারত-চিন বৃহত্তর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছিল বিদেশ মন্ত্রক।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!