Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ২০, ২০২৬

বন্যাপ্লাবিত ছয় জেলা, সবং পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী, ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের আশ্বাস

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বন্যাপ্লাবিত ছয় জেলা, সবং পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী, ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের আশ্বাস

বৃষ্টি কমলেও পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক জেলার বন্যা পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। বাঁকুড়া, দুর্গাপুর, হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত। কোথাও কোথাও একতলা বাড়ির সমান জল জমে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। তবে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির আশা তৈরি হয়েছে। রাজ্য সেচ দফতর সূত্রে খবর, দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ অনেকটাই কমানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে ৩৭,৮২৫ কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে। পাশাপাশি মাইথন জলাধার থেকে ৬,০০০ কিউসেক এবং পাঞ্চেত জলাধার থেকে ৩৬,০০০ কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে।

প্রশাসনের আশা, নতুন করে ভারী বৃষ্টি না হলে এবং উচ্চ অববাহিকার জলাধারগুলি থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ না বাড়লে দামোদর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের জেলাগুলিতে বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে। অন্যদিকে, অতিবৃষ্টির কারণে পশ্চিম মেদিনীপুরের পরিস্থিতি এখনো যথেষ্ট উদ্বেগজনক। খড়গপুর মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবনে বিপর্যস্ত। ঘাটালে ঝুমি নদীর জলস্তরও বাড়তে শুরু করেছে। কেলেঘাই, কপালেশ্বরী ও সুবর্ণরেখা নদীর জল উপচে সবং, নারায়ণগড় ও দাঁতন-সহ খড়গপুর মহকুমার প্রায় ৪১টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল। বর্তমানে কোথাও কোথাও জল নামতে শুরু করলেও দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি।

এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সবংয়ে আকাশপথে প্লাবিত বিস্তীর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরিদর্শনের পর তিনি জানান, সবংয়ে প্রায় ৩,২০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি বাড়ির জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে সাহায্য দেওয়া হবে। তাঁর দাবি, মেদিনীপুরের দুটি ব্লক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং দু-জনের মৃত্যু হয়েছে।

সবংয়ের পরিস্থিতি পরিদর্শন করতে এসে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৮৬-র পর কোনো মুখ্যমন্ত্রী প্লাবনের সময় সবংয়ে এলেন। আগের মুখ্যমন্ত্রীরা গ্রামের মানুষকে মানুষ মনে করতেন না।’ আকাশপথে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শনের পর সবংয়ের একটি অস্থায়ী হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে তিনি সরাসরি সবং বিডিও অফিসে যান এবং সেখানে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলার জেলা শাসক, পুলিশ সুপার, বিপর্যস্ত ব্লকগুলির বিডিও, স্থানীয় বিধায়ক এবং স্বাস্থ্য ও ত্রাণ দফতরের প্রতিনিধিরা।

বৈঠকে বন্যা পরিস্থিতির বিস্তারিত খোঁজ নেন মুখ্যমন্ত্রী। ত্রাণ বণ্টন সঠিকভাবে হচ্ছে কি না, কত মানুষ এখনও জলবন্দি রয়েছেন এবং তাঁদের কাছে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দিতে প্রশাসনের তরফে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে তিনি আধিকারিকদের কাছ থেকে রিপোর্ট নেন। সবং পরিদর্শন ও প্রশাসনিক বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী আরামবাগের উদ্দেশে রওনা দেন। সেখানেও তিনি আকাশপথে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতির খোঁজ নেন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!