Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ১০, ২০২৩

অনুব্রতহীন বীরভূমে কাল সভা করবেন অধীর-সেলিম

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
অনুব্রতহীন বীরভূমে কাল সভা করবেন অধীর-সেলিম

গত ১৪ এপ্রিল বীরভূম জেলার সিউরির বেণীমাধব স্কুলের মাঠে সভা করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।  আগামীকাল, ১১ মে,বৃহস্পতিবার, অমিত শাহর সভার ১ মাসের মধ্যেই সেই বেণীমাধব স্কুল মাঠে কংগ্রেস ও বামফ্রন্টের ডাকে যৌথ জনসভা হতে চলেছে। এই জনসভার মূল বক্তা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী এবং সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তীব্র গরমে এই সভা কংগ্রেস-সিপিএম যৌথ ভাবে করতে চলেছে। উভয় দলেরই এই সভা থেকে মূল আক্রমণের লক্ষ্য হবে তৃণমূল ও বিজেপি, তাতে সন্দেহ নেই।

প্রসঙ্গত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবারই সিউরির বিডিও অফিস গ্রাউন্ডে বীরভূম জেলার নবজোয়ার যাত্রার অধিবেশন করবেন টাত ৮টায় এবং এখানেই রাত্রি যাপন করবেন।

বীরভূম এখন অনুব্রত মণ্ডলহীন। ৪০ ডিগ্রি উত্তাপের চাইতে চড়াম চড়াম আওয়াজ করে বীরভূমের রাজনৈতিক উত্তাপ যতটা অনুব্রত বাড়িয়ে ছিলেন, সেই রাজনৈতিক উত্তাপ বীরভূমের আর এখন নেই। আর তাই অনুব্রতহীন বীরভূম হয়তো পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে বিজেপি, বাম-কংগ্রেস সবারই রাজনীতির মুক্তমঞ্চে পরিণত হয়েছে। তাই প্রথমে অমিত শাহ, তারপর অভিষেক আর অভিষেকের জনসংযোগ চলাকালীন এই জেলায় এবার যৌথ জনসভার উদ্যোগে ঝাঁপিয়ে পড়ছে বাম-কংগ্রেস।

একদা অনুব্রতর গড় বীরভূমে নিজেদের রাজনৈতিক ভিত তৈরি করতে এখন সবাই তৎপর হয়েছে এবং হচ্ছে। অনুব্রতহীন বূরভূমের এই গুরুত্বই প্রমাণ করছে বীরভূমের রাজনীতিতে অনুব্রত মণ্ডল কতটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়, এটা যে বাস্তব   তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই।
অমিত শাহ সিউরির এই বেণীমাধব স্কুলের মাঠে জনসভা করে ১৪ এপ্রিল তৃণমূলের দুর্নীতি ও  তোষণের রাজনীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। বাম-কংগ্রেসও যে সেই একই বক্তব্য বেণীমাধব স্কুলের মাঠের জনসভা থেকে রাখবে তাতে সন্দেহ নেই।
তবে অমিত শাহ যে জিনিসটা বলার সুযোগ পাননি সেটা হল অভিষেকের নবজোয়ার যাত্রা ও তাকে ঘিরে প্রায় রোজ রাতে অধিবেশন অর্থাৎ পঞ্চায়েতের প্রার্থী বাছাইয়ের সময়কার মারামারি, ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স ছেড়া ও ভাঙার রোমহষর্ক ও রুদ্ধশ্বাস কাহিনী। যে হুরোহুরি সামলাতে পুলিশ, কমব্যাট ফের্স হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে। বীরভূমের মুরারইয়ে ৮ মে রাতেও পঞ্চায়েতে দলীয় প্রার্থী নির্বাচনের ভোটে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল ও তা নিয়ে মারামারি হয়েছে অভিষেকের ঘটনাস্থলে পৌঁছবার খানিক্ষণ আগে। সিপিএম ও কংগ্রেস এই বিষয়টা নিয়ে বলার অতিরিক্ত সুবিধা বৃহস্পতিবারের সিউরির বেণীমাধব স্কুল মাঠ থেকে পাবে।
ইতিমধ্যেই সিপিএম, কংগ্রেস উভয় দলের তরফে প্রশ্ন উঠেছে কেন দলীয় সভার মারামারি রুখতে এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিরাপত্তা দিতে রাজ্য সরকারের পুলিশকে ব্যবহার করা হবে? দলীয় কর্মসূচিতে এতো বিশৃঙ্খলা আর তা ঠেকাতে এই হারে পুলিশ ও অন্যান্য খরচ করার টাকা আসছে কেথা থেকে সেই প্রশ্নও ইতিমধ্যে বাম- কংগ্রেস তুললেও সেই একই বিষয় বেণীমাধব স্কুলের মাঠের সভা থেকে অধীর, সেলিম করবেন তাতে সন্দেহ নেই।
গত ২০১৮ র পঞ্চায়েত নির্বাচনে অনুব্রতর কল্যাণে বীরভূমে বিরোধীের মুছে দেওয়া হয়েছিল। এখনও তৃণমূল নেতৃত্ব এমন কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পর্যন্ত বীরভূমে নিজেদের দলীয় সংগঠনকে চাঙ্গা রাখতে অনুব্রতকেই জায়গা দিয়ে চলেছে। এখনও তিহার জেলে থাকলেও অনুব্রতই বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি। কাজেই অনুব্রত মিথ বা অনুব্রত আতঙ্ক কাজে লাগিয়ে গ্রামের সাদামাটা গরিব মানুষগুলোকে নিজেদের অনুগত করে রাখার প্রচেষ্টা তৃণমূল চালিয়ে য়াচ্ছে। অভিষেক বীরভূমের সভা থেকে দলীয় কর্মীদের অভয় দিয়েছেন।
তবে এবার বোধহয় অনুব্রতহীন বীরভূম জেলায় তৃণমূল ততটা নিজেদের তুলে ধরতে পারবে মা। আর এই ফাঁকটা থেকেই নিজেদের রাজনৈতিক ফয়দা তুলে নিতে তৃণমূল বিরোধীরা বীরভূমে সরব হয়েছে।
ইতিমধ্যেই নিয়োগ দুর্নীতির দুটি মামলা অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের হাত থেকে অমৃতা সিনহার হাতে গেলেও তিনি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে যুক্ত করেছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। তাই এই ইস্যুটাকে আরও বেশি করে তুলে ধরে যে বাম-কংগ্রেস বৃহস্পতিবার চালাবে এবং এই বিষয়টি তুলে ধরে অভিঅেকের সমালোচনা করবেনই, তাতে কোনও দ্বিমত নেই৷
বীরভূম জেলা সিপিএম ও কংগ্রেস নেতৃত্ব চাইছে পঞ্চায়েতে বুথ আগলে থাকার কৌশল নিতে। এখন দেখার কংগ্রেস ও সিপিএম  দলের শীর্ষ রাজ্য ও জেলা নেতৃত্ব অনুব্রত বীরভূমকে কতটা নিজেদের দখলে পঞ্চায়েত নির্আাচনের আগে আনতে পারে।কেন না বীরভূমের অনুব্রত তিহার জেলে থাকলেও অনুব্রত ফোবিয়া বীরভূমকে ত্রস্ত করে রেখেছে। এবার কি সত্যিই মুক্তি পাবে বীরভূম?


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!