- দে । শ
- সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৫
বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ারে লুকিয়ে, কাবুল থেকে দিল্লিতে আফগান কিশোর
রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি বিমান অবতরণের পর অদ্ভুত বিপজ্জনক এক ঘটনা সকলকে চমকে দিল। মাত্র ১৩ বছর বয়সী আফগান কিশোর একাই বিমানবন্দরের রানওয়েতে ঘুরছিল। বিমানকর্মীরা দ্রুত তাকে আটক করেন এবং কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে হস্তান্তর করেন। পরে জানা যায়, কাবুল থেকে আসা কাম এয়ার বিমানটির চাকার ল্যান্ডিং গিয়ার কূপে লুকিয়ে ওই কিশোর দিল্লি পৌঁছেছে। এবং বিস্ময়করভাবে সে সম্পূর্ণ অক্ষত।
সূত্রের খবর, কিশোরটি উত্তর আফগানিস্তানের কুন্দুজ শহরের বাসিন্দা। জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরটি জানায়, সে কাবুল বিমানবন্দরে প্রবেশের পর যাত্রীদের পিছু নিয়ে বিমানটিতে ঢুকে পড়েছিল। তার উদ্দেশ্য ছিল ইরান যাওয়া, কিন্তু ভুলক্রমে দিল্লিগামী বিমানে লুকিয়ে পড়ে। সঙ্গে তার একমাত্র সামগ্রী ছিল একটি ছোট লাল রঙের স্পিকার, যা পরে বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ার কূপ থেকে উদ্ধার করা হয়। দিল্লি এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ বিমানটি সম্পূর্ণভাবে পরীক্ষা করে দেখে। নিরাপত্তা দফতর নিশ্চিত করেছে, বিমানটিতে কোনো নাশকতার চিহ্ন নেই। তবে এই ঘটনার মাধ্যমে বিমানবন্দর এবং এয়ারলাইন্সের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপরও প্রশ্ন উঠেছে। বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে কিশোরটির বেঁচে থাকাটাই অলৌকিক ঘটনা।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ল্যান্ডিং গিয়ারের কূপে লুকিয়ে থাকা অত্যন্ত বিপজ্জনক। চাকার ভেতরে স্থান খুবই সীমিত, এবং বিমানের উচ্চতায় তাপমাত্রা মাইনাস ৫০ ডিগ্রির নিচে নামতে পারে। অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায় যাত্রী অনেক সময় চেতনাহীন হয়ে পড়ে। বিমান অবতরণের সময় চাকা নামার সঙ্গে সঙ্গে প্রাণহানির ঝুঁকিও থাকে। বিমান বিশেষজ্ঞ ক্যাপ্টেন মোহন রঙ্গনাথন বলেছেন, ‘ওড়ার পর হুইল বে দরজা বন্ধ হয়ে যায়, চাকাটি পিছনের দিকে চলে যায়। সম্ভবত কিশোরটি এমন একটি স্থানে লুকিয়েছিল যেখানে যাত্রী কেবিনের মতো চাপ এবং তাপমাত্রা বজায় থাকে। বেঁচে থাকার জন্য সে বিমানের অভ্যন্তরীণ কাঠামো আঁকড়ে ধরেছিল।’
২০২২ সালে আমস্টারডামে এক কার্গো বিমানের চাকার ঘরে এক ২২ বছর বয়সী কেনিয়ান যুবককে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে এ ধরনের ঘটনা খুবই বিরল। রোববার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে একই বিমানে কিশোরটিকে ফেরত পাঠানো হয় কাবুলে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার সঙ্গে কোনো গুরুতর সমস্যার ঘটনা ঘটেনি। তবে এই ঘটনার মাধ্যমে কিশোরের ‘কৌতূহল’ কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তা স্পষ্টভাবে চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো হলো। তবে এ ঘটনা শুধু এক আফগান কিশোরের দুঃসাহসিক অভিযান বা বিমান নিরাপত্তার বড়ো প্রশ্নই তুলেছে না, বরং তালিবান শাসনের আফগানিস্তানের বহু মানুষ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছেন সে ছবিও তুলে ধরেছে। ভারতীয় সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে।
❤ Support Us





