- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- অক্টোবর ১৬, ২০২৫
বিধানসভা ভোটে ভবানীপুরেও হবে তৃণমূলের পতন ! মুখ্যমন্ত্রীকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর। পাল্টা শাসক শিবিরের কটাক্ষ, ‘দিবাস্বপ্ন দেখছেন শিশির-নন্দন’
গত বিধানসভা ইলেকশনে নন্দীগ্রামের পর সবচেয়ে আলোচিত কেন্দ্র ছিল ভবানীপুর। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারির কাছে পরাস্ত হয়ে ভবানী-জনতার দরবারে হাজির হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জিতেও ছিলেন। তৃতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কুরশিতে বসেছেন। এবছর আবার রাজ্য রাজনীতিতে সেই নাম ঘুরপাক খাচ্ছে — ভবানীপুর।
ভবানীপুর কেন্দ্র নিয়ে এই মুহূর্তে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা। ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে দক্ষিণ কলকাতার এই অঞ্চল। দার্জিলিং থেকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, পরিকল্পিত ভাবে এলাকাটিকে বিজেপি বহিরাগত দিয়ে ভরিয়ে তুলছে। পাল্টা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী হুঙ্কার ছেড়েছেন, ‘এসআইআর শেষ হলে ভবানীপুরেও তৃণমূল লিড পাবে না, মুখ্যমন্ত্রীর পরাজয় নিশ্চিত।’ উত্তরবঙ্গের বন্যাপীড়িত এলাকায় দাঁড়িয়ে বৃহস্পতিবার শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘নন্দীগ্রামে হারিয়েছি, এবার ভবানীপুরেও হারাব। ২০২৬ সালের ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনীতিতে প্রাক্তন হবেন, তন্তত ২০ হাজার ভোটে হারবেন তিনি।’
শুভেন্দুর বক্তব্য, ‘ভবানীপুর তৃণমূলের জন্য কোনো দিনই নিরাপদ আসন ছিল না। সেখানে সংখ্যালঘু ভোট মাত্র ২০ শতাংশ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল চেতলার ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডের লিডে জিতেছিলেন। এবার এসআইআর-এর পর সে লিড কর্পুরের মতো উবে যাবে।’ বিরোধী দলনেতা আরো বলেছেন, ‘২০১৪ সালে তথাগত রায় ওই ওয়ার্ডে লিড পেয়েছিলেন। সেই ইতিহাসই বলছে, ভবানীপুর বিজেপির আসল শক্ত ঘাঁটি। ভুয়ো ভোটারদের নাম বাদ গেলে বিজেপির জয় নিশ্চিত।’ তাঁর আরো দাবি, গত লোকসভা ভোটে ভবানীপুরের ৮ টির মধ্যে ৫টি ওয়ার্ডে বিজেপি এগিয়ে ছিল। আগের সাফল্যের ভিত্তিতেই তিনি এ বার ঘোষণা করেন, ‘দল যদি চায়, আমি নিজেই ভবানীপুরে লড়ব। তবে বিজেপি যাকেই প্রার্থী করুক না কেন, জিতব আমরাই।’
উত্তরবঙ্গ থেকে ভবানীপুরের বিজয়া সম্মিলনীতে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে ভার্চুয়াল বার্তা পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফোনে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বার্তাও দেন তিনি। তৃণমূল সুপ্রিমোর অভিযোগ, ‘ভবানীপুর বহিরাগতদের দিয়ে ভরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ষড়যন্ত্র করে, আটঘাট বেঁধে, পরিকল্পনামাফিক এই কাজ চলছে। যাঁরা বাইরে থেকে এসে হঠাৎ টাকা খরচ করে জায়গা কিনে বড়ো বড়বাড়ি তৈরি করছেন, তাঁদের জন্য গরিব মানুষের বস্তি ভেঙে যাচ্ছে, আসল ভোটারদের তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।’ এরপর হুঁশিয়ারির সুরে মমতা ব্যানার্জি বলেন, ‘আউটসাইডার বলে আমি তাঁদের বোঝাচ্ছি না যারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলায় থাকেন। যাঁরা হঠাৎ এসে জায়গা কিনছেন, ফ্ল্যাট বানিয়ে চলে যাচ্ছেন, তাঁদের কারণেই এলাকার অব্যবস্থা বাড়ছে। জল, ড্রেনেজ সমস্যা বাড়ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ জানাচ্ছেন।’ ভবানীপুর নিয়ে তাঁর বার্তা, ‘এটা আমার নিজের কেন্দ্র। সারা বাংলার সঙ্গে একে আমি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখি। ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় প্রত্যেকে সতর্ক থাকবেন। বিএলএদের দায়িত্ব আরো বেড়েছে। আগে আমাদের কাছে গরিব মানুষ, তাঁরাই আমাদের সম্পদ।’
এদিকে, শুভেন্দুর মন্তব্যে পাল্টা তোপ দেগেছেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তাঁর মন্তব্য, ‘ভবানীপুর নন্দীগ্রাম নয় যে কারচুপি করে জয় পাওয়া যাবে। এখানে মানুষ সচেতনভাবে ভোট দেন। নিজের ভোট নিজেরাই দেন।’ তৃণমূল মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার আরো একধাপ এগিয়ে বলেন, ‘শুভেন্দু অনেক দূরের স্বপ্ন দেখছেন। স্বপ্নের বিরিয়ানিতে ঘি ঢালছেন। কিন্তু এই তথ্য আর গালগল্প দিয়ে ভোট জেতা যায় না।’ সূত্রের খবর, তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী ইতিমধ্যেই ভবানীপুর থেকে প্রার্থী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা করেছেন। বিজয়া সম্মিলনী মঞ্চ থেকে তিনি বলেছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীকেই প্রার্থী করা হবে। তাঁকে রেকর্ড ভোটে জিতিয়ে আনতে হবে।’ পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম আরো আশাবাদী, তিনি দাবি করেছেন ‘ভবানীপুর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১ লক্ষ ভোটে জয়ী করব।’
তবে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘এসআইআর’-এর প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী ও শুভেন্দু দু-জনের মন্তব্যই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভোটার তালিকা পরিমার্জনের সময় নতুন ভোটার কারা, আর কার নাম বাদ যাচ্ছে, তা নিয়ে সরাসরি প্রশাসন ও দলীয় নেতৃত্বকে সতর্ক করছেন মমতা। অন্যদিকে শুভেন্দুর হুঙ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে, ২০২৬ সালের ভোটে রাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক যুদ্ধক্ষেত্র হতে চলেছে ভবানীপুরই। বর্তমানে একদিকে শাসক শিবির যখন ভবানীপুরে রেকর্ড জয় নিশ্চিত করতে সর্বশক্তি নিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের নেতা শুভেন্দু অধিকারী মাঠে নামছেন একটাই লক্ষ্য নিয়ে— ‘মমতাকে ভবানীপুরে হারাতে হবে।’
❤ Support Us






