- এই মুহূর্তে দে । শ
- মার্চ ২৫, ২০২৬
ভবানীপুরে শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ রিটার্নিং অফিসার, কমিশনে অভিযোগ তৃণমূলের
রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মোট ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসারদের মধ্যে একসঙ্গে ৭৩ জনকে সরিয়ে দিয়ে নতুন অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
বিশেষ করে কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে। দীর্ঘদিন ধরেই এই কেন্দ্র থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন লড়েন এবং এবারও তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সেই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসারকে সরানো এবং তাঁর জায়গায় সুরজিৎ রায়কে নিয়োগ করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, নতুন নিযুক্ত রিটার্নিং অফিসার সুরজিৎ রায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর প্রভাবেই কাজ করছেন। ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় তৈরি হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, শুভেন্দু অধিকারী এবার নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের পাশাপাশি ভবানীপুর থেকেও নির্বাচনে লড়াই করছেন। সেই প্রেক্ষিতে ভবানীপুরে এই প্রশাসনিক পরিবর্তন রাজনৈতিকভাবে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছে। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোট ঘোষণার পর থেকেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে বদলি ও অপসারণের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকেও ভোট ঘোষণার রাতেই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
রিটার্নিং অফিসারদের ভূমিকা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রার্থীদের মনোনয়ন গ্রহণ থেকে শুরু করে ভোট পরিচালনার প্রাথমিক দায়িত্ব তাঁদের উপরই বর্তায়। সাধারণত এই পদে মহকুমাশাসক (এসডিও) পর্যায়ের আধিকারিকদেরই নিয়োগ করা হয়।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—নির্বাচন পরিচালনার স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই কি এই ব্যাপক বদলি, নাকি এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য? রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে এই ইস্যু যে আগামী দিনে আরও উত্তাপ বাড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।
❤ Support Us







