Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ৭, ২০২৫

হেরিটেজ ভবনের ‘গ্রেড’ নির্ধারণে আধুনিক উদ্যোগ, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কাজ শুরু কলকাতা পুরসভার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
হেরিটেজ ভবনের ‘গ্রেড’ নির্ধারণে আধুনিক উদ্যোগ, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কাজ শুরু কলকাতা পুরসভার

কলকাতার ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যগুলির সংরক্ষণ ও মূল্যায়নে এবার আরও পরিকল্পিত ও বৈজ্ঞানিক পথে হাঁটছে কলকাতা পুরনিগম। শহরের প্রতিটি হেরিটেজ ভবনকে নির্দিষ্ট ‘গ্রেড’-এ শ্রেণিবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ভবনের শ্রেণিবিন্যাসের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং এতে পরামর্শদাতা হিসেবে যুক্ত হয়েছেন শিবপুরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির বিশেষজ্ঞরা।

পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কলকাতায় মোট ১৩৯২টি হেরিটেজ তালিকাভুক্ত স্থাপত্য রয়েছে, যার মধ্যে ৭১৭টি রয়েছে ‘গ্রেড ওয়ান’-এ। তবে প্রায় ৩০৫টি ভবনের গ্রেড এখনও নির্ধারিত হয়নি। প্রথম পর্যায়ে সেই ভবনগুলির গ্রেড নির্ধারণের কাজ শুরু হয়েছে। এতদিন হেরিটেজ ভবনের গ্রেড ঠিক করার ক্ষেত্রে ঐতিহ্যগত ধারণা ও কিছু মূল্যের ভিত্তিতে কাজ চলত। এবার পুরসভা জানাচ্ছে, সম্পূর্ণ আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এই গ্রেড নির্ধারণ করা হবে। ভবনের স্থাপত্যগত বৈশিষ্ট্য, ঐতিহাসিক গুরুত্ব, বর্তমান আর্থিক মূল্যসহ নানা দিক বিবেচনা করে তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং একটি বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে গ্রেড নির্ধারণ করা হবে। পুরনিগমের এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক জানান, ‘এই প্রথম আন্তর্জাতিক মানের একটি স্বীকৃত ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে হেরিটেজ ভবনগুলিকে গ্রেড দেওয়া হচ্ছে। এটি বিশ্বজুড়েই স্বীকৃত একটি মডেল।’ পুর কমিশনারের উপস্থিতিতে সম্প্রতি হেরিটেজ কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এই উদ্যোগে আরও একটি উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত হল, গ্রেড ওয়ান হেরিটেজ ভবনগুলিতে কিউআর কোড বসানো। যাতে সাধারণ মানুষ ভবনের ইতিহাস ও গুরুত্ব সহজেই জানতে পারেন। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে শহরের সমস্ত হেরিটেজ ভবনের গ্রেড পুনর্মূল্যায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে পুরসভার। একই সঙ্গে, বাম সরকারের আমলে তৈরি করা হেরিটেজ তালিকায় যে সমস্ত ত্রুটি থেকে গিয়েছে, তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তালিকাটি হালনাগাদ না হওয়ায় অনেক বিতর্কিত সংযোজনও সেখানে রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, শুধুমাত্র কোনো বিখ্যাত ব্যক্তি এক সময় সেখানে গিয়েছিলেন বা খেয়েছিলেন, এমন ভবনও হেরিটেজ তালিকায় ঢুকে পড়েছে। অথচ ভবনের স্থাপত্যগত বা ঐতিহাসিক মূল্য তেমন কিছু নেই। মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেছেন, ‘বাম আমলে তৈরি করা হেরিটেজ তালিকায় বহু ত্রুটি রয়ে গিয়েছে। সে সব খতিয়ে দেখে সঠিক প্রক্রিয়ায় নতুন তালিকা তৈরির কাজ চলছে। এই কাজে রাজ্যের তিনটি প্রথম সারির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।’ পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, ৩টি মূল মানদণ্ডের ভিত্তিতে হবে ভবনের গুরুত্ব নির্ধারণ— স্থাপত্যগত ঐতিহ্য, ঐতিহাসিক মূল্য এবং পরিবেশগত প্রভাব। এই কাজে শিবপুরের পাশাপাশি সহায়ক ভূমিকা নিচ্ছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইআইটি খড়গপুরও।

পুরনিগমের তরফে থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিটি ভবনের উপর একটি স্কোরিং সিস্টেম চালু হবে। যেসব ভবন ১০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পাবে, তারা থাকবে গ্রেড-১-এ। এরপর নম্বর অনুযায়ী ভবনগুলিকে গ্রেড-২এ, ২বি এবং ৩-এ শ্রেণিবদ্ধ করা হবে। প্রথম ধাপে প্রায় ৪০০টি ভবন, যেগুলির কোনও গ্রেড নির্ধারণ হয়নি, সেগুলির উপর আলোচনা করে গ্রেড নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি যেসব ভবনের ঐতিহাসিক বা স্থাপত্যগত গুরুত্ব কম, সেগুলিকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কথাও ভাবছে পুরসভা। বর্তমানে প্রায় ১,৪০০টি হেরিটেজ ভবন রয়েছে কলকাতায়, যার মধ্যে প্রায় ১,০০০টির গ্রেড ইতিমধ্যেই নির্ধারিত। নতুন মূল্যায়নের পর সে সংখ্যা হয়তো আরো বাড়তে বা কমতেও পারে বলে অনুমান করছে পুরনিগম। এ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে শুধুমাত্র শহরের ঐতিহ্য সংরক্ষণই নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি দলিল হিসেবেও কাজ করবে এই তালিকা বলে মত নাগরিক সমাজের একাংশের।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!