Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জানুয়ারি ২৯, ২০২৬

আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ড: ১৬৩ ধারা জারি, দূর থেকে ঘটনাস্থল দেখলেন শুভেন্দু

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ড: ১৬৩ ধারা জারি, দূর থেকে ঘটনাস্থল দেখলেন শুভেন্দু

আনন্দপুরের নাজিরাবাদে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে পৌঁছান রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে ছিলেন বিজেপির কয়েকজন বিধায়ক। তবে শুভেন্দু সরাসরি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থলে যাননি। তিনি গাড়ি থেকে নেমে বলেন, ‘আমরা আইন মেনে চলি। ১০০ মিটার দূর থেকে পরিস্থিতি দেখব।’

নাজিরাবাদ এলাকায় গত রবিবার ২টি গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। তার মধ্যে একটি ওয়াও মোমোর এবং অন্যটি ডেকরেটর্সের। অগ্নিকাণ্ডের পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য বারুইপুর আদালতের অনুমতি নিয়ে পুলিশ ১৬৩ ধারা জারি করেছে। ধারা অনুযায়ী ৫ জনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের চারপাশে পুলিশের গার্ডরেল স্থাপন করা হয়েছে। শুভেন্দু বলেন, ‘এখনো ২০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন। মৃতের সংখ্যা ৪০ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে আসেননি। তাঁর বাড়ি এখান থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটারের মধ্যে।’ শুভেন্দুর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের প্রতি সরকারের দায়িত্ব পালন হয়নি।

অগ্নিকাণ্ডে এ পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। ২১টি দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। ২৭ জনের নামে নিখোঁজ ডায়েরি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক তদন্তে আগুনের সূত্রপাত ডেকরেটর্সের গুদাম থেকে। গোডাউনের অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ না থাকার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবারের জন্য হাইকোর্টের শর্তসাপেক্ষে মিছিলের অনুমতি পেয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আদালত জানিয়েছে, গড়িয়া শীতলা মন্দির বা শহিদ ক্ষুদিরাম মেট্রো স্টেশন থেকে বাঁদিকের রাস্তা ধরে বাইপাস হয়ে নরেন্দ্রপুর থানার ২০০ মিটার আগে পর্যন্ত মিছিল করা যাবে। সর্বাধিক ২০০০ কর্মী-সমর্থক অংশ নিতে পারবেন। থানায় স্মারকলিপি জমা দিতে পারবেন মাত্র ৫ জন।

অন্যদিকে, তৃণমুল কংগ্রেসের দাবি, রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে যথাযত ভাবে দাঁড়াচ্ছে। নিহতদের পরিবারকে রাজ্যের পক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এছাড়া ওয়াও মোমো এবং ডেকরেটর্স সংস্থা ৫ লাখ টাকা করে দেবে। এছাড়া মৃতদের পরিবারের একজনকে সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে চাকরি দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাল্টা, শুভেন্দু অধিকারী প্রশ্ন তুলেছেন পুলিশের ভূমিকা নিয়েও। তিনি বলেন, ‘যা হয়েছে তার জন্য পুলিশও দায়ী। নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ না থাকায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে আমাদের আটকানোর জন্য, যাতে সত্যিটা প্রকাশ পায় না।’ অগ্নিকাণ্ডের পর আনন্দপুরের ওই অঞ্চলটি এখন ধ্বংসস্তূপ আর পোড়া গন্ধে ভরা। প্রিয়জনের খোঁজে নিখোঁজদের পরিবারগুলোর উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। প্রশাসন ডিএনএ ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে মৃতদেহ শনাক্তের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!