- এই মুহূর্তে দে । শ
- জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ, পরিকল্পনা নাইডু সরকারের
১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা করছে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার। অপ্রাপ্তবয়স্কদের অনলাইন থেকে সুরক্ষিত করার লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা। শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, অনলাইন নিরাপত্তা এবং ক্ষতিকারক ডিজিটাল সামগ্রীর সংস্পর্শে আসার ওপর সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যেই এই পদক্ষেপ নিতে চলেছে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার। অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক আইনি কাঠামো থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই এই পরিকল্পনা।
ডাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তৃতাকালে রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী নারা লোকেশ বলেন, ‘সরকার অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব ১৬ বছরের সোশ্যাল মিডিয়া আইনটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আমরা ওই আইন ভালভাবে দেখেছি। আমি মনে করি আমাদেরও ওইরকম একটা শক্তিশালী আইনি কাঠামো তৈরি করা দরকার, যা একটা উদীয়মান জনস্বাস্থ্য এবং শিশু সুরক্ষা সমস্যা হিসাবে বিবেচিত বিষয়গুলি মোকাবিলা করতে পারবে।’
২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করার জন্য একটা আইন প্রণয়ন করেছে। ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে এই আইন কার্যকর হয়েছে। এই বিধিনিষেধ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলির ওপর বয়স যাচাই ব্যবস্থার মাধ্যমে বয়সসীমা কার্যকর করার দায়িত্ব অর্পণ করেছে। শিশুদের মধ্যে অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সঙ্গে উদ্বেগ, বিষণ্ণতা, সাইবার বুলিং, আসক্তিকর আচরণের যোগসূত্রের প্রমাণ পাওয়ার পর এই নীতি চালু করা হয়। চালু হওয়ার পর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় লক্ষ লক্ষ কিশোর-কিশোরীর অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশের কর্মকর্তারা বলছেন যে একই ধরণের উদ্বেগ রাজ্যেও দেখা দিচ্ছে। তেলুগু দেশম পার্টির (টিডিপি) জাতীয় মুখপাত্র দীপক রেড্ডি বলেছেন যে, মন্ত্রী অনলাইনে তরুণ ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা সম্পর্কে গুরুতর উদ্বেগ তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার অস্ট্রেলিয়ার ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া আইন পরীক্ষা করেছে। আমাদের রাজ্যেও চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার ভারতের বর্তমান আইনি ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে এই ধরণের নিয়ম বাস্তবায়ন করা যাবে কিনা তা খতিয়ে দেখছে। যদিও সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ সাধারণত কেন্দ্রীয় সরকারের আওতাধীন। অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য স্তরের হস্তক্ষেপের জন্য উপায় খুঁজে বার করার চেষ্টা করছে। যদি এই পরিকল্পনা কার্যকর হয়, তাহলে অন্ধ্রপ্রদেশ ভারতের প্রথম রাজ্য হবে, যারা অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে অবাধ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সংস্পর্শের সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে।
❤ Support Us









