- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ১১, ২০২৫
৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি ! গ্রেফতার রিলায়েন্স পাওয়ার লিমিটেড-এর শীর্ষ কর্মকর্তা
চিত্র সংগৃহিত
ভুয়ো ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি এবং নকল ইনভয়েসের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ অনিল আম্বানির সংস্থা রিলায়েন্স পাওয়ার-এর বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতে সংস্থার প্রধান আর্থিক আধিকারিক অশোক কুমার পালকে গ্রেফতার করল ইডি। দিল্লিতে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে সূত্রের খবর। আজই তাঁকে আদালতে পেশ করে হেফাজতের আবেদন জানাবে তদন্তকারী সংস্থা। সূত্রের দাবি, প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির মামলায় মূলচক্রীদের অন্যতম অশোক কুমার। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ইয়েস ব্যাঙ্ক থেকে অনিল আম্বানি গোষ্ঠীর একাধিক সংস্থায় যে ঋণ দেওয়া হয়, সে অর্থ কীভাবে অন্যত্র ঘুরিয়ে ফেলা হয়, তার নেপথ্য কুশলী ছিলেন ধৃত রিলায়েন্স কর্মকর্তাই, এমনটাই দাবি কেন্দ্রীয় সংস্থার।
তদন্তে উঠে এসেছে নানান চাঞ্চল্যকর তথ্য। সৌরবিদ্যুৎ সংস্থা এসইসিআই (সোলার এনার্জি কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া) –এর একোটি টেন্ডারে অংশ নিতে গিয়ে রিলায়েন্স পাওয়ারের তরফে জমা পড়ে বিতর্কিত ভুয়ো ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি, যার মূল্য ৬৮ কোটিরও বেশি। রিয়ালেন্সের তরফে অশোক কুমার পাল এবং আরো কয়েকজনকে এ সংক্রান্ত যাবতীয় নথি চূড়ান্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হয় বলে দাবি ইডির। কিন্তু সেই গ্যারান্টি যে সম্পূর্ণ ভুয়ো— তা পরবর্তীকালে প্রকাশ্যে আসে। জানা গেছে, ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে ফার্স্টর্যান্ড ব্যাঙ্ক -এর ফিলিপিন্সের ম্যানিলা শাখা থেকে। অথচ, ওই ব্যাঙ্কের কোনো শাখা-ই নেই ফিলিপিন্সে। বিশাল এ জালিয়াতিতে সহযোগী সংস্থা হিসেবে উঠে এসেছে বিসওয়াল ট্রেডলিঙ্ক প্রাইভেট লিমিটেড (বিটিপিএল) নামের একেবারে অজানা, ছোটো এক সংস্থার নাম। যাদের দফতরই একটি আবাসিক ঠিকানায়। ব্যাঙ্ক গ্যারান্টির কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা তাদের নেই। তবুও তাদের মাধ্যমেই গ্যারান্টি বানানো হয়েছে। বিটিপিএল-এর ডিরেক্টর পার্থ সারথি বিশ্বাসাল আগেই গ্রেফতার হয়েছেন। এবার অশোক কুমার ধরা পড়লেন।
তবে শুধু ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি নয়, ভুয়ো পরিবহণ ইনভয়েস তৈরি করে সংস্থার টাকা অন্যত্র পাঠানোর ছকেও অন্যতম ভূমিকা ছিল অভিযুক্ত ব্যক্তির। সংস্থার স্বাভাবিক ভেন্ডর সিস্টেম এড়িয়ে টেলিগ্রাম, হোয়াটস অ্যাপ-এর মাধ্যমে অনুমোদন, নথিপত্র চালাচালি করতেন তিনি। তদন্তকারীদের দাবি, এ কাজের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা ঘোরানো হয়েছে। সবচেয়ে বিপজ্জনক তথ্য হলো, জাল ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি কেলেঙ্কারিতে ব্যবহার করা হয়েছে একাধিক ভুয়ো ব্যাঙ্ক ডোমেইন। উদাহরণস্বরূপ, এসবিআই-এর জায়গায় ব্যবহৃত হয়েছে sbi.17313@s-bi.co.in—যেখানে ‘এসবিআই’-এর মাঝে একটি হাইফেন ঢুকিয়ে আসল ডোমেইনের ছায়া ডোমেইন তৈরি করা হয়েছে। শুধু এসবিআই নয়, একই ছক চলেছে ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্ক, ইনডাসইন্ড ব্যাঙ্ক, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্ক -এর ক্ষেত্রেও। কোথাও ছোট হাতের ‘এল’ বসিয়ে দেওয়া হয়েছে ‘আই’-এর জায়গায়, কোথাও বানান বিকৃত করে তৈরি হয়েছে নকল ডোমেইন। ইডি-র আধিকারিকরা বলছেন, এই র্যাকেটের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল ব্যাঙ্কের নামে মিথ্যে ই-মেল ও চিঠিপত্র পাঠিয়ে ভুয়ো গ্যারান্টিকে আসল বলে দেখানো।
প্রসঙ্গত, ধৃত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট আশোক কুমার পালের আর্থিক জগতে অভিজ্ঞতা দুই দশকেরও বেশি। কেরিয়ারের শুরু ২০০৩ সালে। ২০১৮ সালে যোগ দেন রিলায়েন্স পাওয়ারে। ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে ২০২৩ সালে হন সিএফও। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে হন কার্যনির্বাহী পরিচালক। সংস্থায় ফিনান্স, অ্যাকাউন্টস, ট্যাক্সেশন, এমআইএস সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব তাঁর কাঁধে ছিল। এদিকে, গোটা ঘটনায় রিলায়েন্স পাওয়ার-এর পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, ‘রিলায়েন্স পাওয়ার একটি স্বাধীন তালিকাভুক্ত সংস্থা। এর কোনো ব্যবসায়িক বা আর্থিক সংযোগ নেই মূল সংস্থার সঙ্গে। অনিল আম্বানিও সংস্থার বোর্ডে নেই। তাই অন্য সংস্থার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ রিলায়েন্স-এর কার্যক্রমে কোনো প্রভাব ফেলবে না।’ তবে তদন্তকারীরা থেমে থাকতে নারাজ। সূত্র বলছে, অনিল আম্বানিকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে। আপাতত আশোক পালকে জেরা করেই আরো তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
❤ Support Us







