- বি। দে । শ
- জানুয়ারি ৩, ২০২৫
খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের
বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন সেদেশের সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তাই নিয়ে সরগরম বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল।
রাত সাড়ে ৮ টায় খালেদা জিয়ার বাড়ি ‘ফিরোজায়’ সস্ত্রীক পৌঁছে যান তিনি। পৌনে ১ ঘন্টা ধরে চলে আলোচনা। উপস্থিত ছিলেন এসময় বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহি আকবর। আকবর বলেন, “সেনাপ্রধান খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতেই তাঁর বাড়িতে এসেছিলেন।” বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, গতকালের বৈঠকে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সেনাপ্রধান। বিএনপি সুপ্রিমোর দ্রূত সুস্থতা কামনা করেছেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহি আকবর, যিনি খালেদার নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা।
কিন্তু তাতে এই বৈঠকটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা কমেনি বরং এর পেছনে কি ধরনের আলোচনার সূত্রপাত হতে পারে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষত, ভোটের আবহে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের উত্তেজনা এবং জামায়াতের ঘনিষ্ট প্রভাবের সময়ে এই বৈঠকটি আরও গুরুত্ব পায়।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে বাংলাদেশের রাজনীতি নানা সময়ে নানান জটিল ও সংকটপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। একদিকে যেমন বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতবিরোধ যেমন রয়েছে। গত কয়েক বছরে রাজনৈতিক দলে সেনাবাহিনীর প্রভাব এই নিয়ে সরগরম ঠেকেছে বাংলাদেশের রাজনীতি।
এমন এক সময়ে এই বৈঠকটি হয়েছে, যখন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবং বিএনপির মধ্যে ফাটল বাড়ছে। অন্তর্বর্তী সরকারে জমাতের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তোলা হয়েছে বিএনপির তরফে ।অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা পদে জামায়াতের ঘনিষ্ঠদের নিয়োগ এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে থালেদার দল অসন্তুষ্ট। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভি সরাসরি দাবি করেছেন , “জামাত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সেনার পক্ষ নিয়ে কাজ করেছে এবং রাজাকার বাহিনীর সদস্য হিসেবে গণহত্যায় অংশ নিয়েছিল।” এপ্রসঙ্গে আগেও বিনপির তরফে বলা হয়েছে ‘জামাত তাদের রাজনৈতিক মিত্র, তবে মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ‘
ওয়াকার-উজ-জামান বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পরও সেদেশের তদানীন্তন বিরোধী নেত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন তিনি । সেবিষয়েও সীমান্তের ওপারে কম জলঘোলা হয়নি । আগষ্ট-জুলাইয়ে বাংলাদেশে গণআন্দোলনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গত ২১ নভেম্বর সেদেশের সমারিক বাহিনীর অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়াকে যোগ দিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
সেনাপ্রধানের সঙ্গে বিনপি নেত্রি খালেদার বৈঠক, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বিনপির সম্পর্ক সুধরে নেওয়ার একটি পরিসর বলেও অভিহিত করছেন কেউ কেউ ।
❤ Support Us







