Advertisement
  • দিন-দুনিয়া
  • নভেম্বর ১৬, ২০২১

‘আগুন পাখি’-র স্রষ্ঠা দুই বাংলার জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক প্রয়াত 

‘আগুন পাখি’-র স্রষ্ঠা দুই বাংলার জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক প্রয়াত 

‘আগুনপাখি’র স্রষ্টা সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক প্রয়াত। সোমবার রাত ন’টা নাগাদ বাংলাদেশে রাজশাহীর বাসভবনেই মৃত্যু হয় তাঁর। বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। গত সেপ্টেম্বর মাসে  অসুস্থতার কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, পরে সুস্থ হয়ে বাড়িও ফেরেন। কিন্তু শেষরক্ষা হল না!

ওপার-এপার দুই বাংলাতেই হাসান আজিজুল হক সমান ভাবে জনপ্রিয়। তাঁর লেখা উপন্যাস, ছোটোগল্প নিয়মিত বহু পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। হাসান আজিজুল হক-এর জন্ম অবিভক্ত বাংলার (১৯৩৯ সালে) বর্ধমান জেলার যবগ্রামে। শুধু শৈশব নয়, ম্যাট্রিকুলেশন পর্যন্ত এই বাংলাতে থেকেই পড়াশোনা করেছিলেন। এরপর ছাত্রাবস্থাতেই রাজনীতিতে যোগ দেন, পাক সেনার হাতে নির্যাতিতও হয়েছেন তিনি। পরবর্তী সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন নিয়ে স্নাতকোত্তর পাশ করেন। পরবর্তীতে অধ্যাপক হিসাবে যোগ দেন এই বিশ্ববিদ্যালয়েই।

ছয়ের দশকে বাংলা সাহিত্যে তাঁর  কলমের আর্বিভাব। ‘সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য’, ‘আত্মজা ও একটি করবী গাছ’, ‘জীবন ঘষে আগুন’র মতো গ্রন্থের গল্পগুলো পাঠকের মনে আলোড়ন তোলে।  হাসান আজিজুল হকের উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ— নামহীন গোত্রহীন, পাতালে হাসপাতালে, আমরা অপেক্ষা করছি, রোদে যাবো, রাঢ়বঙ্গের গল্প। ‘আগুন পাখি’ রাঢ় বঙ্গের প্রেক্ষাপটে লেখা এই  উপন্যাসের জন্য ২০০৮ সালে আনন্দ পুরস্কারে তিনি সম্মানিত হন। ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে একুশে পদক সম্মানে সম্মানিত করে।  ২০১৯ সালে সেদেশের সর্বোচ্চ অসমারিক সম্মান, স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন হাসান আজিজুল হক।

তাঁর প্রয়াণে দুই বাংলায় শোকের ছায়া।  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোক প্রকাশ করে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের বিশিষ্ট সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের প্রয়াণে সাহিত্য জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি হল। আমি হাসান আজিজুল হকের আত্মীয় পরিজন ও অনুরাগীদের আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি’।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!