Advertisement
  • দে । শ
  • নভেম্বর ১৭, ২০২২

আগামীকাল বরাক বনধ, নস্যাৎ হুকুমের হুমকি, ময়দানে সংহতির অঙ্গীকার।

অভিযোগ, মেঘালয়ে অসামাজিকের হামলা।আসামে চাকরির নিয়োগে কুৎসিত বৈষম্য।

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
আগামীকাল বরাক বনধ, নস্যাৎ হুকুমের হুমকি, ময়দানে সংহতির অঙ্গীকার।

আগামীকাল, ১৮ নভেম্বর বরাকে বনধ। বনধের ডাক দিয়েছে বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট। সরাসরি সমর্থন করছে, বরাক উপত্যকার প্রথম সারির প্রতিটি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। ব্যতিক্রম একমাত্র বিজেপি ও তাদের বিভিন্ন গণমঞ্চ। বনধকে সমর্থন না করলেও তারা প্রতিরোধে নামছে না। যথাসম্ভব নির্লিপ্ত থাকার চেষ্টা করবে।

বিভিন্ন ইস্যুকে সামনে রেখে বনধ ডাকা হয়েছে–বলেছেন বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের আহবায়ক প্রদীপ দত্ত রায়। অতি সম্প্রতি মেঘালয়ের রাজধানী শিলংএ বাঙালিদের ওপর হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। বিজেপি সমর্থিত সাংমা সরকার দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

দ্বিতীয়ত, অসমের চাকরির জন্য বরাক উপত্যকায় প্রায় ২০ হাজার প্রার্থী পরীক্ষা দিয়েছিল। উত্তীর্ণ হয়েছে বড়ো জোর ৬জন। এটা এক জঘন্য বৈষম্য মূলক চক্রান্ত। তৃতীয়ত, বে-আইনি বারমিজ সুপারির ব্যবসাকে নিয়ন্ত্রিত করার নামে, বরাকের সুপারি ব্যবসায় হস্তক্ষেপ করছে পুলিস প্রশাসন।চতুর্থত, চাকরি ও ব্যবসা ছাড়াও বরাকবাসীকে কোণঠাসা করা হচ্ছে। বরাকের মানুষ ক্ষুদ্ধ।নিকটতম ভবিষ্যতে তাঁদের ক্ষোভের রাজনৈতিক বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। আগামীকালের বনধের বিস্তার সর্বাত্মক হয়ে উঠলে গণআন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

যে সব উস্যুতে বরাক বনধ ডাকা হয়েছে, সে ইস্যুগুলিকে কংগ্রেস, সিপিএম, সিপিআই, এইউডিএফ, আপ বিনা প্রশ্নে সমর্থন করছে। রাস্তায় নেমেছে তাদের বিভিন্ন গণসংগঠন। বরাক ডেমোক্রেটিক ফন্ট চাপা গণক্ষোভকে ঘিরে নির্নয় করছে তাদের রাজনীতির সামাজিক ভিত্। ফ্রন্টের সর্বোচ্চ নেতা একসময় কংগ্রেস করতেন।অগপর শাসনের প্রথম দফায় তাঁর নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিল আকসা আর বরাকের তৃতীয় ভাষা আন্দোলন। শিলচরে আসাম কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনের দাবিতেও সুদৃঢ়, সংশয়হীন অবস্থান নেয় আকসা। ৩৬বার বনধ ডেকেছিল তারা। যা ব্যর্থ হয়নি। আকসার উত্তরাধিকারী নেতৃত্ব আবার ময়দানে। কংগ্রেসের দুর্বল অস্তিত্ব আর স্থানীয় ভাবাবেগকে মূল্যহীন করে তুলতে বিজেপির টানাপোড়েন আর তথাকথিত বাধ্যতামূলক রাজনীতি থেকে ফায়দা তুলতে বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট মরিয়া। তাদের গণভিত্তিও দুর্বল। কৃষিভিত্তিক সমাজ এখনও বিশেষ সাড়া দেয়নি।কিন্তু চাকরি-বাকরি আর বাণিজ্যের ওপর সরকারি বেসরকারি বৈষম্য যেভাবে ছড়ি ঘোরাচ্ছে, তাতে বরাকে আন্দোলনময় অতীতের প্রত্যাবর্তন ঘটতে পারে। একারণেই চাপ বাড়াচ্ছে পুলিস প্রশাসন। বনধ প্রত্যাহারের ‘হুকুম’ দিয়ে হুমকি দিয়েছে। বনধের সক্রিয় কারিগর আর সমর্থক দলগুলি ছাড়বে না সূচাগ্রমেদিনী। তলেতলে সঙ্ঘবদ্ধ বৃহত্তর সমর্থনের অঙ্গীকার।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!