Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৫

কংগ্রেসের রাজ্য সদর দফতরে ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেফতার বিজেপি নেতা রাকেশ সিং

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কংগ্রেসের রাজ্য সদর দফতরে ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেফতার বিজেপি নেতা রাকেশ সিং

অবশেষে গ্রেফতার বিজেপি নেতা। কংগ্রেসের রাজ্য দফতরে ভাঙচুর ও রাহুল গান্ধীর কাটআউট নষ্ট করার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বিজেপি নেতা রাকেশ সিংহকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে পূর্ব কলকাতার ট্যাংরার একটি আবাসন থেকে তাঁকে পাকড়াও করে লালবাজারের গোয়েন্দারা। সূত্রের খবর, রাত প্রায় ২টো নাগাদ ওই ফ্ল্যাটে হানা দিয়ে তাঁকে হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়।

গত শুক্রবার, কলকাতার রাজ্য কংগ্রেসের সদর দফতর বিধান ভবনে হঠাৎ চড়াও হয় একদল বিজেপি কর্মী। নেতৃত্বে ছিলেন রাকেশ সিংহ। অভিযোগ, রাহুল গান্ধী ও অন্যান্য নেতার ছবিতে কালি লেপে দেওয়া হয়, দলীয় পতাকা ছিঁড়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং দফতরের ভিতরে ঢুকে ভাঙচুর চালানো হয়। সে ঘটনার পরেই এন্টালি থানায় দায়ের হয় একাধিক ধারায় এফআইআর। কংগ্রেস দাবি করে, এটা ‘সাংবিধানিক রাজনীতির উপর পরিকল্পিত আক্রমণ।’ বিহারে রাহুল গান্ধীর ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রয়াত মাকে লক্ষ্য করে কটূক্তি করা হয়েছে—এই অভিযোগ সামনে আসতেই বিজেপির তরফে জোরদার প্রতিক্রিয়া আসে। বিহারে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে কংগ্রেস ও বিজেপি কর্মীরা। ঘটনার আঁচ লাগে কলকাতাতেও। কংগ্রেস কার্যালয় বিধান ভবনের সামনে রাকেশ সিংয়ের নেতৃত্বে আয়োজিত হয় বিক্ষোভ, যা পরে হিংসাত্মক রূপ নেয়। কংগ্রেস ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানায়।

কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ দায়েরের পর, বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী ও রাকেশের এক সহযোগীকে গ্রেফতার করলেও, মূল অভিযুক্ত বিজেপি ছিলেন অধরা। তাঁর খোঁজে পুলিশের একের পর এক তল্লাশি চলছিল, কিন্তু তিনি ছিলেন লাপাত্তা। অথচ, সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি একাধিক ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে পুলিশকে কার্যত কটাক্ষ করেন। এমনকি একটি ভিডিওতে পুলিশকে হুমকিও দেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ব্যক্তিগত আক্রমণ করতে ছাড়েননি। এর মধ্যেই সোমবার গ্রেফতার করা হয় তাঁর ছেলে শিবম সিংকে। অভিযোগ, বাবাকে গা-ঢাকা দিতে তিনি সক্রিয়ভাবে সাহায্য করেছিলেন। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি ওঠে, ‘পুলিশ ইচ্ছে করেই রাকেশকে ধরছে না, কারণ এতে কংগ্রেসকে রাজনৈতিক সুবিধা হচ্ছে।’ পাল্টা রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে থাকে কংগ্রেস।

অবশেষে মঙ্গলবার গভীর রাতে ট্যাংরার একটি বহুতলে চলে কলকাতা পুলিশের গোপন অভিযান। গ্রেফতার হয় রাকেশ। পুলিশের গাড়িতে তোলার প্রধানমন্ত্রী মোদির নামে জয়ধ্বনি দিয়ে বলেন, ‘রাকেশ সিং কাউকে ভয় পায় না।’ বুধবার তাঁকে শিয়ালদহ আদালতে তোলা হবে। পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে। কলকাতা পুলিশের দাবি, বিধান ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিওগুলি, সব কিছু মিলিয়ে রাকেশ সিংহের বিরুদ্ধে শক্তপোক্ত তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। লালবাজার সূত্রে খবর, আরো কিছু বিজেপি কর্মীর নাম উঠে আসছে তদন্তে, তাঁদেরও তলব করা হতে পারে। এ ঘটনার পর ফের একবার রাজ্য বিজেপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, ‘যাঁরা বিরোধিতার নামে কংগ্রেস দফতরে হামলা চালান, তাঁদের সঙ্গে ফ্যাসিবাদী মানসিকতা জড়িত। বিজেপি নেতাদের আসল মুখ আরো একবার সামনে এল।’ অন্যদিকে, বিজেপির একাংশের মতে, ‘রাহুল গান্ধীর ভাষণ ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দলীয় কর্মীরাই প্রতিবাদ করেছেন।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!