Advertisement
  • প্রচ্ছদ রচনা
  • মে ২৪, ২০২২

জুলাইতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দৌড়ে বিরোধীরা, সূচাগ্র মেদিনীও ছাড়বে না বিজেপি।

নাড্ডার বাড়িতে বৈঠকে সতর্ক গেরুয়া শিবিরের উচ্চ নেতৃত্ব ।

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জুলাইতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দৌড়ে বিরোধীরা, সূচাগ্র মেদিনীও ছাড়বে না বিজেপি।

সামনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন । তার আগেই পায়ের তলার জমি শোক্তপোক্ত করতে তড়িঘড়ি বৈঠকে বসল গেরুয়া শিবির। বিনা যুদ্ধে সূচাগ্র মেদিনীও গেরুয়া শিবির, এদিনের বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যেন এমনটাই বার্তা দিলেন বিরোধীদের। চার ঘন্টার ম্যারাথন বৈঠক করে বিরোধীদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে বিজেপি।

বিজেপি নেতৃত্বধীন জোট এবং বিরোধীরা উভয় পক্ষই ভারতের নতুন রাষ্ট্রপতির জন্য তাদের নিজস্ব প্রার্থী দাঁড় করানোর পরিকল্পনা করেছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে ১০ জুন রাজ্যসভার ৫৭টি আসনের জন্য মনোনয়ন শুরু হবে। তার দুমাস পরেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন । সোমবার সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার বাড়িতে বিজেপি নেতারা মিলিত হয়ে বৈঠক সারলেন ।
রাজ্যসভার নির্বাচনেরও প্রভাব পড়বে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ওপর। বর্তমান রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৫ জুলাই। বিরোধীরা এখনও রাষ্ট্রপতির জন্য একটি যৌথ প্রার্থী ঘোষণা করতে পারেনি এবং ঐক্যমত্য গড়ে তোলার জন্য বৈঠকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও বা কেসিআর এবং মহারাষ্ট্রের নেতা শরদ পাওয়ার ।

সমস্ত সাংসদ এবং বিধায়কের ভোটের মধ্যে ৪৮.৯ শতাংশ রয়েছে বিজেপি জোটের দখলে। বিরোধী দল ও অন্যান্য দলগুলোর ভোট ৫১.১ শতাংশ। তাদের প্রার্থীকে সমর্থন করার জন্য বিজেপির কেবলমাত্র ২ শতাংশ সমর্থন দরকার। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়কের বিজেপি (বিজু জনতা দল) বা অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জগমোহন রেড্ডির ওয়াইএসআর কংগ্রেসের সমর্থন পেলেই তারা উতরে যাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে।

২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের জন্য একটি নন-কংগ্রেস ও অ-বিজেপি ফ্রন্টের হয়ে কাজ করছেন কেসিআর। তার জন্য মুখ্য বিরোধী নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে তিনি ভারত ভ্রমণে বেরিয়েছেন । কেসিআর দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে দেখা করেছেন । তার আগে উদ্ধব ঠাকরে, শারদ পাওয়ার, অখিলেশ যাদবের সঙ্গে দেখা করেন তিনি এবং এম কে স্টালিন আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন । তিনি বাংলায় আসবেন এবং কর্ণাটকে গিয়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবগৌড়ার সঙ্গেও দেখা করবেন বলে জানিয়েছেন । এমনকী কেসিআর বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এবং বিরোধী নেতা তেজস্বী যাদবের সঙ্গেও দেখা করবেন ।
নীতীশ কুমারও এনডিএ ছাড়বেন? এমন জল্পনা তীব্র হচ্ছে । সোমবার সংযুক্ত জনতা দল (জেডিইউ) সুপ্রিমো নিজেই সেই জল্পনাকে উস্কে দিয়েছেন। যে দাবি মোদি সরকার কিছুতেই মেনে নিতে রাজি নয়, সেই জাতিভিত্তিক জনগণনার দাবিতে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকতে চলেছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। আগামী ২৭ মে বিধানসভায় তিনি এই দাবির পক্ষে প্রস্তাবও পাশ করাবেন বলে স্থির করেছেন। নীতীশ কুমারের এই পদক্ষেপের কারণ কী? তিনি কি ক্রমেই বিদ্রোহ তুঙ্গে তুলছেন? রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাঁকে কি পাশে পাবে না বিজেপি? এখন এই প্রশ্নই বারবার ঘোরাফেরা করছে রাজনীতির অঙ্গনে । যদি এমন হয় তবে সেক্ষেত্রে বড়সড় শঙ্কা তৈরি হবে গেরুয়া শিবিরে।

২০০৫ সাল থেকে কখনও ইউপিএ, কখনও এনডিএর অংশ নীতীশ কুমারের দল। নিখুঁত ভারসাম্যের রাজনীতি করে তিনি একটানা বিহারের মুখ্যমন্ত্রী কুর্সিতে বসে রয়েছেন। বেশ কিছুদিন ধরে শোনা যাচ্ছিল, এবার সেই পদ থেকে সরে গিয়ে রাজনৈতিক ইনিংসের অন্যতম শীর্ষ আসনে বসে অবসর নেওয়াই তাঁর মনোবাসনা। অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হওয়া। তিনি অবশ্য নিজের মুখে এই বাসনার কথা প্রকাশ্যে বলেননি। তবে সংযুক্ত জনতা দলের পক্ষ থেকে একাধিকবার এই বার্তা পাঠানো হয়েছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে। কিন্তু কেন্দ্রের শাসকদলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, শুধু রাষ্ট্রপতি নয়, জুলাই মাসে নির্বাচন হতে চলা উপ রাষ্ট্রপতি পদেও নীতীশ কুমারের কথা ভাবা হচ্ছে না। কারণ, উপ রাষ্ট্রপতি পদাধিকারবলে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান। বিল পাশ হওয়া, ভোটাভুটি, সংসদীয় কার্যকলাপে যাঁর ভূমিকা সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিজের দলের কোনও একনিষ্ঠ সদস্যকেই ওই পদে প্রার্থী করতে চায় বিজেপি। সূত্রের খবর, এই আভাস পেয়েই আর নীরব না থেকে এবার স্পষ্ট বিদ্রোহের বার্তা দিয়েছেন নীতীশ কুমার।
কেন্দ্রীয় সরকারকে দীর্ঘদিন ধরেই জেডিইউ সুপ্রিমো চাপে রাখছেন একটি ‌ইস্যুতে—জাতিভিত্তিক সেন্সাস। সাধারণ জনগণনার পাশাপাশি এটিও করার দাবি তাঁর। সমাজবাদী পার্টি, তেজস্বী যাদবের রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) এই দাবির সমর্থক। মোদি সরকার অবশ্য সাফ জানিয়েছে, জাতিভিত্তিক সেন্সাস হবে না। সাধারণ নিয়মে যে জনগণনা হয় প্রতি ১০ বছর পর, এবারও তাই হবে। সেই সেন্সাসেই তফসিলি জাতি, উপজাতিদের পরিসংখ্যান থাকে। এবারও থাকবে। কিন্তু তাতে খুশি নন নীতীশ কুমার। তেজস্বী যাদবকে সঙ্গে নিয়ে পুনরায় এই দাবিতে তিনি প্রয়োজনে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এমনকী রাজ্যসভার নির্বাচনে বিজেপির গুডবুকে থাকা আর সি পি সিংকেও জেডিইউ সুপ্রিমো প্রার্থী করবেন কি না, সেব্যাপারে সংশয় তৈরি হয়েছে। তেলুগু দেশম থেকে শিরোমণি অকালি দল অথবা শিবসেনা, একের পর এক জোটশরিক গত কয়েক বছরে বিজেপির হাত ছেড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ দল হিসেবে অবশিষ্ট রয়েছে শুধু নীতীশ কুমারের জেডিইউ। সেখানে বিদ্রোহের ইঙ্গিত মেলায় জাতীয় রাজনীতিতে জোর চর্চা, এবার কি তাদেরকেও হারাচ্ছে এনডিএ?

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) প্রার্থীকে সমর্থন করবে কি না, তা নিয়ে সংশ থেকেই যায়।
এই পরিস্থিতিতে বিজেপি নেমে পড়েছে আসরে। সবাইকে একত্রিত করার কাজ শুরু করেছে বিজেপি। কেন্দ্রীয়মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং জিভিএল নরসিমা রাও অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জগনমোহন রেড্ডির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন । এদিকে কংগ্রেস এবং আঞ্চলিক দলগুলির মধ্যেও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে রাজনীতির ময়দান টানটান উত্তেজনা শুরু হয়েছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রাক্কালে।


❤ Support Us
error: Content is protected !!