- প্রচ্ছদ রচনা
- মে ২০, ২০২২
‘কংগ্রেস ভাইবোনের দল, তৃণমূল পিসি-ভাইপোর’, বিরোধীদের বিঁধলেন বিজেপি সভাপতি ।
আবার পরিবারতন্ত্রকে হাতিয়ার করে একযোগে বিরোধী দলগুলিকে আক্রমণ শানালেন । কংগ্রেস, তৃণমূল, এনসিপি, ডিএমকের মতো দলগুলিকে একসারিতে বসিয়ে বিজেপি সভাপতি দাবি করলেন, এই দলগুলির কোনও নীতি-আদর্শ নেই। এরা যেনতেন প্রকারেণ ক্ষমতা দখল করতে চায়। আর সেটা করতে গিয়ে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলী দিয়ে দেয়।
বৃহস্পতিবার ‘পরিবারতান্ত্রিক দলগুলি গণতন্ত্রের বিপদ’ শীর্ষক একটি সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। সেখানেই তিনি কংগ্রেস-তৃণমূল-সহ বিরোধী দলগুলিকে বেনজির ভাষায় আক্রমণ করেন। নাড্ডার দাবি, ‘পরিবারতান্ত্রিক দলগুলি শুধুই পরিবারের কথা ভাবে । দেশের নয়। এদের সঙ্গে বিজেপির লড়াই চলবে। কাশ্মীর-তামিলনাড়ু থেকে মহারাষ্ট্র পশ্চিমবঙ্গ সব জায়গাতেই পরিবারতান্ত্রিক দলগুলি সক্রিয়’ নাড্ডার বক্তব্য, আজকের কংগ্রেস ভারতীয়ও নয়, গণতান্ত্রিকও নয়। বরং এটা ভাই-বোনের দলে পরিণত হয়েছে।
একযোগে কার্যত সব বিজেপি বিরোধী দলকে কটাক্ষ করে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি ওই সেমিনারে বলেন, ‘সব রাজ্যেই পরিবারতান্ত্রিক দলগুলি সক্রিয় রয়েছে। কংগ্রেস যেমন ভাই-বোনের দলে পরিণত হয়েছে, তেমনি পশ্চিমবঙ্গে পিসি-ভাইপো সরকার চালাচ্ছে। কাশ্মীরে পিডিপি এবং ন্যাশনাল কনফারেন্স, পাঞ্জাবে অকালি দল, হরিয়ানায় লোক দল, উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টি, বিহারে আরজেডি, ঝাড়খণ্ডে জেএমএম, ওড়িশায় বিজেডি, অন্ধ্রে ওয়াইএসএসআর কংগ্রেস সক্রিয় রয়েছে।’ নাড্ডার দাবি এই দলগুলিই সবচেয়ে বেশি মেরুকরণের রাজনীতি করে। কখনও জাতের নামে, কখনও ধর্মের নামে।
নাড্ডার এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের রাজ্যসভার মুখ্য সচেতক সুখেন্দুশেখর রায় এক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘বিজেপির বহু নেতা তো বিয়েই করেননি। তাঁদের পরিবার হবে কী করে। আর যে নাড্ডা এসব বলছেন, তিনি তো রাজ্যসভার সাংসদ। আর যে পিসি-ভাইপোর কথা তিনি বলছেন, সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২৫ বছর লোকসভার সাংসদ ছিলেন। আর তিনবার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে জিতে এসেছেন। আর ভাইপো অভিষেকও দু’বারের সাংসদ। একই পরিবারের দু’জন রাজনীতি করতে পারবে না, এমন বিধি নিষেধ তো নেই।’
আসলে দেশে আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি, তেলের দামে প্রথম দিকে ভারত, বেকারত্ব, সামাজিক অস্থিরতা ইত্যাদি নানা ইস্যু থেকে নজর ঘোরাতেই আবোলতাবোল বকছেন বিজেপি সভাপতি। গণতন্ত্র-পরিবারতন্ত্রের পরিবর্তে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বরং মন্তব্য করুন । তাতে যদি সরকারের টনক নড়ে। আমজনতার যদি তাতে সুরাহা হয়। ‘
❤ Support Us








