Advertisement
  • প্রচ্ছদ রচনা
  • মার্চ ২২, ২০২২

আবার ভাঙনের মুখে পড়তে পারে রাশিয়া। ইউক্রেনে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের লক্ষণ ।

বাহার উদ্দিন
আবার ভাঙনের মুখে পড়তে পারে রাশিয়া। ইউক্রেনে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের লক্ষণ ।

কিয়েভের কাছেই রুশ সেনারা অবস্থান করছে। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন উল্টো কথা বলছেন যে, রাশিয়ার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।
সোমবার ওয়াশিংটন ডিসিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, বিপন্ন বোধ করে রাশিয়া এখন নতুন সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছে । বলছে, ইউক্রেনে জীবাণু ও রাসায়নিক অস্ত্র আছে । এসব ধ্বংস করতেই পুতিনও এরকম অস্ত্র ব্যবহারের ভাবনা চিন্তা করছেন।’ দিন কয়েক আগে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান মস্কোকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ইউক্রেনে রাসায়নিক বা জীবাণু অস্ত্র ব্যবহার করলে রাশিয়াকে চূড়ান্ত পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে।

ইউক্রেন অবশ্য রুশ হামলার মোকাবিলায় অসহয়তা প্রকাশ করছে। সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জানিয়েছেন, ক্রাইমিয়া উপত্যকার একটি স্থল করিডোর রাশিয়ান সেনারা দখল করে নিয়েছে । সমুদ্রের সঙ্গে ইউক্রেনের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ।এটাই বাস্তব চিত্র । ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হলেও রাশিয়ার আক্রমন অব্যাহত । ইউক্রেনকে ঘিরে সেনা সমাবেশের বিরতি নেই । দেশের সব অঞ্চল থেকে ফৌজ ইউক্রেনে ঢোকাচ্ছে। সেনাদের অবসরে যাওয়ার কার্যক্রম বাতিল করে দিয়েছে । সংবাদ সংস্থার এসব খবর কতটা নিরপেক্ষ আর গ্রহণযোগ্য তা বিচার করা এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। ইউক্রেন বিপর্যস্ত এবং ন্যাটো পাশে নেই, একথার সত্যতা অস্বীকার করা অসম্ভব। মরিয়া হয়ে লড়েও রুশ সেনাকে রুখতে সে ব্যর্থ। প্রেসিডেন্ট জেলেন্সকি ন্যাটোর ভূমিকা নিয়ে ক্ষুদ্ধ। সামরিক জোটটির সদস্যপদ না পেয়ে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাইছেন । তাঁর এই মনোভাব ন্যাটো এবং পশ্চিমী দেশগুলোর সামনে এক ধরণের হুমকি ছুঁড়ে দিয়েছে ।

সোমবার দেশের এক সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘হয় ন্যাটো বলুক তারা আমাদের সদস্যপদ দিচ্ছে না হলে মেনে নিক রাশিয়ার ভয়ে তারা আমাদের জোটে সামিল করছে না।’ তবে জোটে সামিল না করলেও যুদ্ধ শেষ করতে ন্যাটো দেশগুলির কাছেই আবার সামরিক সাহায্য চেয়েছেন ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট । রয়টার্স জানিয়েছে, পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য আবার আবেদন জানিয়েছেন জেলেনস্কি। দ্রুত বৈঠকে বসে সমস্যার সমাধান চাইছেন।

জেলেনস্কির ন্যাটো সামরিক জোটে যোগদানের চেষ্টাই এই যুদ্ধের অন্যতম কারণ। রাশিয়া শুরু থেকেই বিরোধিতা করে আসছে । বাড়ির পাশে ন‌্যাটোর অবস্থান মস্কোর নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জের সামনে ফেলে দেবে । এ জন্যই রাশিয়া আক্রমন করেছে এবং মরনপণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। বিপর্যস্ত ইউক্রেন বেশিদিন অটল থাকতে পারবে না। কারণ এক. সে ভৌগলিক দিক থেকে রাশিয়ার সীমান্ত দিয়ে ঘেরা। জলে-স্থলে-আকাশে সর্বত্র মস্কোর কঠোর পাহারা আর অবস্থান । দুই. সামরিক শক্তিতে রাশিয়া পূথিবীর দ্বিতীয় বূহতম শক্তি। তুলনায় ইউক্রেন অত্যন্ত দুর্বল । ইউরোপ ও পূর্ব ইউরোপের নেট্যোভুক্ত দেশগুলি শুধু আশ্বাস দিয়েছে, কার্যত কিছুই করে নি। আমারিকাও সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চাইছে না। এরকম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের পক্ষে দীর্ঘদিন গেরিলা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া হয়ত সম্ভব, কিন্তু ‘কনভেনশনাল ওয়ার’ অব্যাহত থাকলে গোটা দেশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে। বিশ্ব অতিরিক্ত সঙ্কটে পড়বে, দ্রব্যমূল্যের বূদ্ধি এবং কর্মহীনতার শিকার হবে ।

আন্তর্জাতিক বিশ্ব উদ্বিগ্ন হলেও প্রবল যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন কোথায়? বিশ্বের বিবেকও স্তিমিত । বিভিন্ন বূহৎ শক্তির কৌশলি ভূমিকা সন্দেহাতীত নয়। চিন রাশিয়ার পাশে থাকলেও সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণে তার অনীহা ইতিমধ্যে জানিয়ে দিযেছে। বলেছে, আপাতত মস্কোকে অস্ত্র সাহায্য করবে না । অস্ত্র ব্যবসায়ীরা চুপ করে বসে নেই। তাদের বিভিন্ন লবি চাইছে দীর্ঘদিন যুদ্ধ অক্ষুণ্ণ থাক।

ইতিমধ্যে ইউক্রেন থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতিবেশি দেশগুলিতে আশ্রয় নিয়েছেন । যুদ্ধবিধ্বস্ত বড়ো বড়ো শহরের বাসিন্দারা আক্ষরিখ অর্থে উদ্বাস্ত। জনজীবন ও কর্মজীবন স্তব্ধ । এরকম অবস্থা চলতে থাকলে ইউক্রেন আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হবে। দ্বিতীয়ত, রুশ অর্থনীতিও ভেঙে পড়বে। আফগানিস্তানে রুশ হামলার পরিণতির প্রত্যাবর্তন অবশম্ভাবী হয়ে উঠতে পারে। আবার ভাঙনের মুখে দাঁড়াবে রাশিয়া । যুদ্ধবাজ আর স্বৈরতান্ত্রিক পুতিনের হাত ধরেই কি রাশিয়া দ্বিতীয় ভাঙনের মুখোমুখি হবে? এটা এই মুহূর্তের আরেক জটিলতম প্রশ্ন । এক দেশ আক্রান্ত হয়ে চরম দুর্যোগের সম্মুখীন । আরেক দেশ প্রতিবেশির উপর হামলা চালিয়ে নিজের বিপর্যয় ডেকে আনছে। দেশের ভেতরে যুদ্ধের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই নেমে আসছে খড়্গ। তবুও রাশিয়ার অসংখ্য শহরে গর্জে উঠছে যুদ্ধ বিরোধী মিছিল।

জনমতের চাপে বাইডেনকে বলতে হচ্ছে রাশিয়ার পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হয়ে জেলেনস্কি বলতে বাধ্য হচ্ছেন, আমরা অসহায়। ন্যাটো পাশে নেই। অথএব পুতিনের সঙ্গে বৈঠক চাইছি । কিন্তু রাশিয়ার আগ্রাসনের ধ্বংসাত্মক চেহারা এবং ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের আগ্রাসন বিরোধী জেদ ও যুদ্ধের প্রস্তুতি অন্য এক চিত্রও তুলে ধরছে । তা হল এই যে, ইউক্রেনের যুদ্ধ সহজে থামবে না, গেরিলা কায়দায় সশস্ত্র আন্দোলন মাথা তুলতে পারে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!