Advertisement
  • দে । শ
  • মে ২৩, ২০২৪

লক্ষ ছাড়াল জমায়েত, অস্ত্রমেলার তকমা মুছতে মরিয়া পূর্বস্থলীর বুড়োরাজ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
লক্ষ ছাড়াল জমায়েত, অস্ত্রমেলার তকমা মুছতে মরিয়া পূর্বস্থলীর বুড়োরাজ

পূর্বস্থলীর জামালপুরের বুড়োরাজ ঠাকুরের বাৎসরিক পুজো ও  মেলা হোক ‘অস্ত্রমুক্ত’। এই দাবিতে ১ মাস ধরে সচেতনতার প্রচার চালাচ্ছে মন্দির ও মেলা কমিটি। শুধু মাইকিংই নয়, জেলায়-জেলায় এই মর্মে লিফলেট বিলি ও সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমেও মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। প্রচার সফল। বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া তিনদিনের উৎসব ও মেলায় এবার চোখে পড়ল না অস্ত্রের ঝনঝনা। কালনার এসডিপিও রাকেশ কুমার সিং জানান, ‘শুধু বলিদানের খড়্গ ছাড়া কোনও অস্ত্র যাতে মেলায় না ঢোকে সেজন্য মন্দিরে ঢোকার সমস্ত রাস্তায় এন্ট্রি পয়েন্ট করা হয়েছে। বেশকিছু অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।’ সবমিলিয়ে হাজারের কাছাকাছি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বসানো হয়েছে ২৫টি সিসিটিভি। পুলিশের খাতায় জমায়েত হয়েছে দেড় লাখের উপর ভক্ত, সন্ন্যাসী ও সাধারণ মানুষজনের।

পূর্বস্থলী ২নং ব্লকের জামালপুরে রয়েছে বুড়োরাজের প্রাচীন মন্দির। নিত্যপূজা হলেও বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন বাৎসরিক পুজো ও মেলা উপলক্ষ্যে লাখো মানুষের সমাগম হয়। এবারও তিনদিনের পুজো শুরু হয়েছে বুধবার রাত থেকে। এখানে সংশ্লিষ্ট পূর্ব বর্ধমান জেলার পাশাপাশি নদীয়া, হুগলী, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ-সহ বিভিন্ন জেলা থেকে বহু ভক্ত, সন্ন্যাসী ও সাধারণ মানুষ ভিড় জমান। মেলার পরম্পরা হল ভক্তরা দল বেঁধে বাদ্যি বাজিয়ে রামদা, ভোজালি, গুলি-বোমা-আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে শোভাযাত্রা করতে করতে হাজির হন। এই মেলার যত না পরিচিতি ‘বুড়োরাজের মেলা’ হিসেবে, তার থেকেও বেশি পরিচিতি ‘অস্ত্রমেলা’ হিসেবে। তবে কয়েকবছর ধরে অস্ত্র নিয়ে শোভাযাত্রায় লাগাম পরাতে পুলিশ ও প্রশাসনের তৎপরতা চোখে পড়ার মত। হাজারের উপর বলিদান হয়।

এবার ভোটের আবহে মেলা ও পুজো হচ্ছে বলে অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ করতে আগেভাগেই মাঠে নেমেছিল পুলিশ-প্রশাসন ও পুজো কমিটি। ১০ হাজার লিফলেট বিলি ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতা প্রচার হয়েছে বলে জানালেন মন্দির ও মেলা কমিটির সম্পাদক প্রবীর বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রবীরবাবু জানান, ‘ভক্তের দল বলির সামগ্রী হিসাবে যে খড়্গ নিয়ে আসবেন, তাও পুলিশের অনুমতি সাপেক্ষে আনবেন। আমরা চাই অস্ত্রমুক্ত উৎসব।’ বিষয়টি নিয়ে পুলিশ-প্রশাসন ও মন্দির কমিটির মধ্যে একটি বৈঠকও হয়। সেখানে গৃহীত ব্যবস্থা হিসেবে, ছাতনি, নিমদহ, পলাশবেড়িয়া, জামালপুর, সানঘোষপাড়া, কুবাজপুর মোড়ের মত বিভিন্ন এলাকায় ড্রপ গেট তৈরি হয়েছে। এই প্রচন্ড গরমে ভক্তদের জন্য ৫টি সাবমার্সিবল পাম্প, ৬ টি চাপাকল ও জলট্যাঙ্কের মাধ্যমে পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানান বিধায়ক তপন চ্যাটার্জি।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!