- এই মুহূর্তে বৈষয়িক
- অক্টোবর ৪, ২০২৫
বাংলার দুর্গাপুজোয় ৫০ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা
মহালয়ায় যে উৎসবের শুরু বিজয়ায় সেই উৎসবের ইতি। আবার এক বছরের প্রতীক্ষা। পুজোর চারটি দিন কাশফুলের শোভা, ধুনোর গন্ধ, ঢাকের আওয়াজ আর রাতভর ঠাকুর দেখার আনন্দ—সব মিলিয়ে শারদোৎসব যেন এক মহামিলনের তীর্থক্ষেত্রে পরিণত করেছিল বাংলাকে ! দশমী সেই উৎসবের সুরটা কিছুটা কেটে দেয়।
তবে এই পুজো এখন আর শুধু আবেগের বিষয় নয়। বাঙালির দুর্গা পুজো এখন রাজ্যের অর্থনীতির পেছনে থাকা একটি ‘ শক্তিমান জ্বালানী ইঞ্জিন’ বললেও ভুল হবে না।
২০২৫ এর দুর্গা পুজোয় ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি টাকার ব্যবসা হয়েছে। ভাবলে সত্যি অবাক হতে হয়।
একটি রিপোর্টে ব্রিটিশ কাউন্সিল দাবি করেছে, এবছর বাংলার দুর্গা পুজো ঘিরে রাজ্য জুড়ে ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যবসা হয়েছে!
এই পরিমাণ রাজ্যের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (GSDP) প্রায় ২.৬ শতাংশ। অর্থাৎ একা দুর্গাপুজোই রাজ্যের অর্থনীতিতে রাখছে বড়সড় প্রভাব।
শুধু মণ্ডপ নয়, হাজার হাজার মানুষের রুটি-রুজির উৎস এই দুর্গা পুজো। এই উৎসব ঘিরে যেভাবে অর্থনীতির চাকা ঘোরে, তা অনন্য
প্রতিমা তৈরির কারিগর থেকে শুরু করে ঢাকি, প্যান্ডেল নির্মাতা, আলো লাগানো কর্মী, নিরাপত্তাকর্মী, হকার, ছোট দোকান, চায়ের ঠেলাগাড়ি
অস্থায়ী হলেও, হাজার হাজার মানুষ এই ক’দিনে রোজগার করেন এমন পরিমাণ যা বহু মাসে সম্ভব নয়।
ব্রিটিশ কাউন্সিল জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় ২০২৫ এর দুর্গা পুজোয় জিনিস বিক্রির হার প্রায় দ্বিগুণ! হিসেবে দিয়ে ব্রিটিশ কাউন্সিল জানিয়েছে কোন কোন জিনিসের বিক্রি কত শতাংশ বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে ।
সোনার গয়না: ২৫% বিক্রি বৃদ্ধি
পোশাক: ২২% বিক্রি বৃদ্ধি
জুতো: ২০% বিক্রি বৃদ্ধি
খাদ্য ও পানীয়: ১৮% বিক্রি বৃদ্ধি
শুধু বড় ব্র্যান্ড নয়, লাভের মুখ দেখেছে পাড়ার মিষ্টির দোকান থেকে মোড়ের চা-ওয়ালাও, ফুচক, ঝালমুড়ি বিক্রেতারাও।
পুজোর আন্তর্জাতিকতাও এবার নজরকাড়া! লন্ডন, নিউ ইয়র্ক, টোকিও, দুবাই—বিশ্বের নানা প্রান্তে প্রবাসী বাঙালিরা দুর্গাপুজোর আয়োজন করেছেন। অনেকে আবার কলকাতার পুজোমণ্ডপের সঙ্গে লাইভ ডিজিটাল সংযোগ রেখেছেন পুজোর দিনগুলোতে। ফলে দুর্গাপুজো এখন বিশ্বজনীন রূপ নিয়েছে।
বিদ্যুৎচাহিদায়ও রেকর্ড পরিমান বেড়েছে পুজোর দিনগুলোতে! এই পুজোয় রাজ্যে বিদ্যুতের চাহিদা ছুঁয়েছে ১২,০৫০ মেগাওয়াট, যা গত বছরের ৯,৯১২ মেগাওয়াটের তুলনায় অনেকটাই বেশি। এই তথ্য প্রমাণ করে, পুজোকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যিক লেনদেন যথেষ্ট বেড়েছে।
পর্যটন শিল্পে পুজোয় এক কথায় বড় সাফল্য এসেছে। ২০২১ সালে ইউনেস্কো স্বীকৃতির পর কলকাতার পুজো এখন এক আন্তর্জাতিক আকর্ষণ।
দেশ-বিদেশ থেকে আসা পর্যটকদের ভিড়ে লাভবান বাংলার বাজার। হোটেল, বিমান সংস্থা, স্থানীয় পরিবহণ সবাই লেভার মুখ দেখেছে।
তাই বলা যায় পুজো এখন আর শুধুই উৎসব নয়, একটি বাণিজ্যিক উদ্যোগ। যাতে সারা বছর বহু মানুষের রুটি-রুজির সংস্থান হয়।
পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতির এক বড় চালক শক্তি দূর্গা পুজো বললেও অত্যুক্তি হয় না।
❤ Support Us







