- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মে ১৮, ২০২৩
হাইকোর্টে খারিজ অভিষেক ও কুন্তলের আবেদন। অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদে বাধা নেই, দুজনকেই ২৫ লক্ষ টাকা করে জরিমানার নির্দেশ
তৃণমূল সূত্রে খবর রায়ের কপি হাতে পেলে আজ বা কাল হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কের্টে যেতে পারেন অভিষেক
অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কুন্তলের মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে আর কোন বাধা রইল না।বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুন্তল ঘোষের আবেদন খারিজ করে দিলেন। পাশাপাশি আদালতের সময় নষ্ট করানোর জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুন্তল ঘোষকে ২৫ লক্ষ টাকা করে জরিমানা দেওয়ারও নির্দেশ দিলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। এর ফলে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কুন্তলের চিঠি সংক্রান্ত বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুন্তল ঘোষকে মুখোমুখি বসিয়ে ইডি এবং সিবিআই জেরা করতে পারে বলে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, অমৃতা সিনহার বৃহস্পতিবারের এই মামলায় রায়দানের ফলে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশই বহাল রইল।
এর আগে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় যখন বলেছিলেন কুন্তল ঘোষ চিঠি লিখে অভিযোগ করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম বলার জন্য তার ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে। তাহলে অভিষেক আর কুন্তলকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হোক। এর পরই অভিষেক শীর্ষ আদালতে চলে যান অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এই রায়ের বিরুদ্ধে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে পদ্ধতিগত ত্রুটির জন্য এই মামলা অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাস থেকে সরিয়ে দেয় শীর্ষ আদালত। তার পর এই মামলা চলে আসে অমৃতা সিনহার এজলাসে।
প্রসঙ্গত কুন্তল ঘোষ অভিযোগ করেছিলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম বলার জন্য তার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। চিঠি লিখে আদালতে ও থানায় যেদিন কুন্তল এই চিঠি দেয়, তার ঠিক আগের দিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতার একটি সভা থেকে বলেছিলেন এর আগে কুণাল ঘোষ ও মদন মিত্রকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর নাম বলার জন্য বিচার চলাকালীন চাপ সৃষ্টি করেছিলেন।
অমৃতা সিনহা এদিন রায়দানে বলেন, কুন্তলের চিঠি ও অভিষেকের বক্তব্যে সম্পর্ক আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা অভিষেক ও কুন্তলকে জেরা করতে পারে, জিজ্ঞাসাবাদে কোনও অসুবিধা নেই। এর ফলে সিবিআই, ইডির তরফে অভিষেককে ডাকায় আর কোনও প্রতিবন্ধকতা রইল না।
বিচারপতি অমৃতা সিনহার এই মামলার রায়ের পর সিপিআইএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, “অভিষেক তো বলেছিলেন তাঁর কোনও ভয় নেই। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রমাণ হলে তিনি নিজেই ফাঁসির দড়িতে ঝুলে যাবেন। তাহলে সিবিআই ডাকতে পারে শুনে ভয়ে ঠ্যাং কাঁপছিল কেন?কেন তিনি সুপ্রিম কোর্টে তাহলে জেরা না করার জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন? তিনি যে যাত্রা করার জন্য রাজ্য জুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সেই টাকা কোথা থেকে আসছে? এসব জানতে হবে তো। তিনি কোন লাটেরবাট যে তাঁকে ইডি, সিবিআই ডেকে জেরা করতে পারবেনা? তিনি কি ভাবছেন মোদি বহাল থাকলেই অভিষেক বহাল থাকবপন?”
বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, “তৃণমূল ইচ্ছে করে এই নিয়োগ মামলায় কোন দলকে দিয়ে অভিষেকের নাম ঢুকিয়েছে। এক সময় কুণাল ঘোষ যখন জেলে ছিলেন তখন আপনি কিছু বলতে চাইলে তাকে বলতে দেওয়া হতো না। এখন কুন্তল ঘোষ কে দিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করার মতো করে অভিষেকের নাম বলানো হচ্ছে। জিরার মুখে বসতে অভিষেকের ভয় কিসের? তবে নিয়োগ কবে হবে সেটাই আসল প্রশ্ন।”
এদিন মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি অমৃতা সিনহা জানতে চান সংশোধনাগারে কোন টেলিভিশন সেট আছে কিনা? উত্তরে তাঁকে জানানো হয় সর্বসাধারণের জন্য একটি টেলিভিশন সেট আছে। এই তাৎপর্যপূর্ণ প্রশ্নটি অমৃতা সিনহা করার অন্যতম কারণ, যেহেতু অভিষেকের ভাষণের পরেই কুন্তল চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন যে তাঁকে চাপ দেওয়া হচ্ছে অভিষেকের নাম বলার জন্য সেই কারণেই অভিষেকের বক্তব্য এবং কুন্তলের চিঠি এই দুয়ের মধ্যে মিসিং লিংক খুঁজতেই অমৃতা সিনহা এই প্রশ্ন করেছেন, বলেই মমে করছেন আইনজ্ঞরা।
তৃণমূল সূত্রে খবর রায়ের কপি হাতে পেলে আজ বা কাল হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কের্টে যেতে পারেন অভিষেক।
❤ Support Us





