- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- এপ্রিল ২৭, ২০২৩
কালিয়াগঞ্জে নাবালিকা মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্য পুলিশের কাছে রিপোর্ট চাইল আদালত
কালিয়াগঞ্জে নাবালিকাকে খুন ও ধর্ষণের অভিযোগের মামলায় এবার রাজ্য পুলিশের কাছে রিপোর্ট চাইল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবারের মধ্যে এই রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ময়নাতদন্তের ভিডিও ফুটেজ যত্ন সহকারে সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজাশেখর মান্থা এ নির্দেশ দিয়েছেন।
বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে সিবিআই তদন্তের দাবিতে কালিয়াগঞ্জের মৃতা নাবালিকার বাবা মামলা করেছিলেন। সেই মামলার শুনানিতে বৃহস্পতিবার মৃতার আইনজীবী আদালতে বলেন, ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ ও নির্যাতন করে খুন করা হয়েছে। কুড়ি এপ্রিল এই ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ মৃতদেহ নৃশংসভাবে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গেছে রাস্তা দিয়ে। এমনকি এখনও পর্যন্ত কোনও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পরিবারের হাতে দেওয়া হয়নি। এরপর কিভাবে রাজ্য পুলিশের ওপর ভরসা রাখা যাবে?
এদিকে রাজ্য সরকারের পক্ষের আইনজীবী পাল্টা তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ এনেছে মৃতার পরিবারের বিরুদ্ধে। আদালতে রাজ্যের তরফে জানানো হয় ২০ তারিখ থেকে এক যুবক ও এক নাবালিকা নিখোঁজ ছিল। অভিযোগ পাওয়ার পর থেকে পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে এবং পরের দিন স্থানীয় একটি পুকুর পাড়ে একটি মৃতদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়া যায়। এই ঘটনায় অপহরণ ধর্ষণ এবং খুনের অভিযোগ আনা হয়। পুলিশ দেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যেতে চাইলে পরিবারের তরফে পুলিশকে বাধা দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে জিজ্ঞাসাহাদ শুরু করলেই আরম্ভ হয়ে যায় বিক্ষোভ। রাজ্যের তরফে আরও জানানো হয় ময়নাতদন্তের রিপোর্টে নাবালিকার শরীরে বিষের উপস্থিত পাওয়া যায়, যদিও ধর্ষনের কোনও চিহ্ন তার শরীরে ছিলনা। এরপর বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি শেষে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা বলেন তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট রাজ্য পুলিশকে আদালতে মঙ্গলবারের মধ্যে জমা করতে হবে। আদালতের তরফে আরও জানানো হয় এখনই দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের বিষয়টি বিবেচনায় থাকছে না। তবে প্রথমবার ময়নাতদন্তের ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ করে রাখতে হবে, প্রয়োজনে তা আদালতে জমা দিতে হবে। বৃহস্পতিবার আদালত আরও নির্দেশ দিয়ে বলে, জাতীয় শিশু সুরক্ষা কমিশন এবং পরিবারের হাতে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পুলিশের জমা দিতে হবে। এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ২ মে।
প্রসঙ্গত নাবালিকার দেহ টেনে নিয়ে যাওয়ার ভিডিওটি ভাইরাল হয়। এইদৃশ্য প্রকাশ্যে আসার পর কালিয়াগঞ্জ সহ গোটা রাজ্যে একটা ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়। রাজ্য রাজনীতিতেও শাসক-বিরোধী উভয়পক্ষের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়ে যায়। পুলিশের বিরুদ্ধে কালিয়াগঞ্জের মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
ঘটনা প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার আদালতে রাজ্যের তরফের আইনজীবী বলেন, মৃতার দেহ কিছু দূরে নিয়ে যাওয়ার পরই কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়। উত্তেজিত জনতার থেকে দেহ একপ্রকার ছিনিয়ে আনতে হয়। তবে এই ভাবে দেহ নিয়ে যাওয়ায় জন্য পুলিশের চার জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত পুলিশ যাতে এভাবে মৃতদেহ এরপর থেকে আর নিয়ে না যার তার জন্য পুলিশকে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার ব্যগ দেওয়া হবে বলে বুধবার নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন।
❤ Support Us







