Advertisement
  • ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
  • মে ২৪, ২০২২

হোলি স্পাইডার: কান-এ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ইরানি সিনেমার ‘যৌনসহিষ্ণুতা’ ।

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
হোলি স্পাইডার: কান-এ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ইরানি সিনেমার ‘যৌনসহিষ্ণুতা’ ।

কানে অফিশিয়াল শাখায় পাম ডি’ওর জন্য প্রতিযোগিতা করছে ‘হোলি স্পাইডার’ সিনেমাটি। ছবিটির নির্মাতা ইরানি বংশোদ্ভূত আলী আব্বাসি। সিনেমাটির বিষয়বস্তু ইরানের পবিত্র শহর হিসেবে খ্যাত মাশহাদ শহরের ১৬ পতিতা হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে । পতিতাদের নিয়ে সিনেমাটিতে যৌনদৃশ্য, যৌনসহিষ্ণুতা, নগ্নতাসহ একাধিক দৃশ্য দেখানোর কারণে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে করে পরিচালক বলেছেন, ‘ইরানকে ছোটো করতে বা কারও বিরুদ্ধেও এ ই ছবি কোনোও বার্তা দেয়না। সিনেমাটির সিরিয়াল কিলার ব্যক্তিটি ধার্মিক একজন মানুষ ছিলেন। এই হত্যাগুলো পবিত্র শহরে ঘটেছে। সেই সময় সিরিয়াল কিলার ইরানি সমাজে নিঃস্বার্থ নায়ক বনে গিয়েছিলেন। আমার দেখা ঘটনাই বাস্তবতার অনুপ্রেরণায় বানিয়েছি। ‘

হোলি স্পাইডার’ পরিচালক আলী আব্বাসি ইরানি সিনেমার ‘সমান্তরাল বাস্তবতা’ ব্যাখ্যা করেছেন ।

জানা গেছে, এ ছবিতে ঠোঁটে লিপস্টিক দেওয়া, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে শিস দেওয়াসহ বহু যৌনদৃশ্য, যৌন নির্যাতন দেখানো হয়েছে। ইরানি ‘হলি স্পাইডার’ সিনেমার প্রিমিয়ার শোতে এমনটা দেখেছেন দর্শক ও সমালোচকেরা। তার পর থেকে শুরু হয় বিতর্ক। কারণ, গত ৫০ বছরের ইরানি সিনেমায় এমন দৃশ্য দেখা যায়নি। অবশ্য আব্বাসি সিনেমার প্রিমিয়ার শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘গত ৫০ বছরে আমরা ইরানি সিনেমাকে প্যারালাল রিয়েলিটি দিয়ে উপস্থাপনা করছি। যেখানে নারীরা কখনোই তাঁদের পোশাক খোলেননি, তাঁরা কখনোই শারীরিক সম্পর্কে যাননি। একসঙ্গে শয্যার দৃশ্য থাকলেও নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখেই তৈরি হয়, চরিত্রগুলো কখনোই ভরপুর রোমান্সে যায় না। কিন্তু আমি এমন গল্প বলাতে অনুপ্রাণিত নই।’

সিনেমাটির গল্প নিয়ে আমি যখন ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করি—তাঁরা চিত্রনাট্য ও গল্প দেখে সেখানে শুটিংয়ের অনুমতি দেয়নি। আব্বাসি বলেন, প্রায় এক বছর অপেক্ষা করি অনুমতির পাওয়ার জন্য। পরে অবশ্য জর্ডান সরকারের অনুমতি নিয়ে জর্ডানের একটি শহরকে বানাই ইরানের মাশহাদ শহর। আব্বাসির কথায়, ‘আমি তখন ইরানে মাশহাদ শহরটিতেই থাকতাম। যেখানে ২০০০ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ১৬ জন পতিতাকে হত্যা করা হয়। সেই সিরিয়াল কিলিংই আমি পর্দায় তুলে ধরেছি। এটা আমার নিজের দেখা। তার সঙ্গে কিছু ফিকশন দেখানো হয়েছে। এটা পুরোটাই সত্য ঘটনা নিয়ে নয়, তবে সত্য ঘটনার ছায়া অবলম্বনে বলা যায়। সিনেমাকে আমি আর্ট হিসেবেই দেখি, এটা একটি বিনোদনমূলক কাজ। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশের অনেক সিনেমাতেই এমন ঘটনা দেখা যায়, যেগুলো ইউটিউবেও পাওয়া যায়। আর ইরানে যৌনকাজ চলে, ইরানের পতিতারাই তার প্রমাণ। এটা বিশ্বের অন্য বড় শহরগুলোর মতোই।’
এই সিনেমা দিয়ে ইরানি সমাজে বা নারীর সহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে কোনো বার্তা দেওয়ার ইচ্ছা আমার নেই। কিন্তু একটি বিষয় নির্মাতাকে ভাবায়, ইরানি সমাজে এখনো বেশির ভাগ নারী দারিদ্র্যতা নিয়ে বসবাস করেন। ১৪ বছর বয়সেই তাঁদের বিয়ে দেওয়া হয়। যখন ২৩ বছর বয়স দুই সন্তানের মা হতে হয়। আমার দেখা ঘটনাই বাস্তবতার অনুপ্রেরণায় বানিয়েছি। এমন না যে আমি থ্রিলার গল্প খুব পছন্দ করি।’


❤ Support Us
error: Content is protected !!