Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ৩, ২০২৩

টেট নিয়ে শীর্ষ আদালতে রিপোর্ট জমা দিল সিবিআই। সব জানতেন মানিক, দাবি সিবিআই-এর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
টেট নিয়ে শীর্ষ আদালতে রিপোর্ট জমা দিল সিবিআই। সব জানতেন মানিক, দাবি সিবিআই-এর

রাজ্যে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলার রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টে জমা দিল সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন বা সিবিআই। এই রিপোর্টে সিবিআই তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য উল্লেখ করেছে। এই রিপোর্টে উঠে এসেছে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যের নাম।

সিবিআই-র তরফে শীর্ষ আদালতে দেওয়া রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি প্রসঙ্গে মানিক ভট্টাচার্য সবই জানতেন। পর্ষদ সভাপতি হিসাবে পর্ষদের কাজে তাঁর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল। তাই তাঁর সম্মতিতেই বেআইনিভাবে নিয়োগ হয়েছে প্রাথমিকে। অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদেরও টেট-এ উত্তীর্ণ হিসাবে দেখানো হয়েছে।

শীর্ষ আদালতে সিবিআই যে রিপোর্টে তাতে সিবিআই টেট উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের জেলাভিত্তিক একটি দীর্ঘ তালিকা প্রকাশও করেছে। টেট পাশের জন্য সংরক্ষিত প্রার্থীদের দরকার ৮২ নম্বর। অসংরক্ষিত প্রার্থীরা ৯০ পেলে পাশ করেন। অথচ  দেখা সেখানে দেখা গিয়েছে, প্রার্থীদের কারও নামের পাশে রয়েছে ৫, কারও প্রাপ্ত নম্বর ৩ করোও  ১২, ১৩, ৩৩, ৪৫ নম্বর লেখা রয়েছে। এই নম্বর পাওয়ার পরেও টেট  পাশ করেছেন ওই সব প্রার্থীরা। মুর্শিদাবাদের ২৬ জন, উত্তর চব্বিশ পরগনার ১১ জন, বীরভূমের ১৩ জন সিবিআইয়ের তালিকায় রয়েছেন। অভিযোগ, তাঁরা টেট উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য প্রাপ্ত নম্বরের চেয়ে অনেক কম নম্বর পেয়েছেন।

সিবিআই শীর্ষ আদালতে যে রিপোর্ট জমা দিয়েছে তাতে এ ছাড়াও কলকাতা, পুরুলিয়া এবং কোচবিহারের আরও ৩৬ জন প্রার্থীর নামের তালিকাও রয়েছে। এঁদেরও বেআইনি ভাবে পাশ করিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে সিবিআই তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে। এই  তালিকায় দু’জন উর্দু মাধ্যমের চাকরিপ্রার্থীও রয়েছেন।

প্রাথমিকে দুর্নীতি বিষয়ে মামলাকারীদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম জানান, তাঁরা আগে থেকেই বিরাট দুর্নীতির অভিযোগ করে এসেছেন। সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া সিবিআইয়ের এই রিপোর্টে তাঁর কিছুটা অন্তত প্রকাশ পেল।

২০১৪ সালের টেটে ২৭৩ জন চাকরিপ্রার্থীকে বাড়তি ১ নম্বর দিয়ে পাশ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই অভিযোগে মামলা হয়েছিল কলকাতা হাই কোর্টে। সিবিআই জানিয়েছে, বাড়তি ১ নম্বর করে দেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষা দফতরের সম্মতি ছিল। কিন্তু ৩ বা ৫ নম্বর পেয়ে যাঁরা পাশ করেছেন, তাঁদের টেট উত্তীর্ণ হিসাবে দেখানোর জন্য শিক্ষা দফতরের অনুমতি নেওয়া হয়নি।

মানিক ভট্টাচার্য ২০১১ সালে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের দায়িত্বে এসেছিলেন। তাঁর মেয়াদ  ২০১৬ সালে শেষ হয়েছে। ওই বছর তাঁর অবসরের বয়স ৬২ থেকে বাড়িয়ে ৬৫ করা হয়। ২০১৮ সালে সেই মেয়াদ আবার বৃদ্ধি করা হয় ৬৮ বছর পর্যন্ত করা হয়। সিবিআইয়ের দাবি, কোনও বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্যই এ ভাবে মানিক ভট্টাচার্যের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছিল।

বর্তমানে মানিক ভট্টাচার্য প্রেসিডেন্সি জেলে রয়েছেন। তাঁকে সেখানেই এই অকৃতকার্য প্রার্থীদের প্রসঙ্গে জেরা করা হয়। সিবিআইয়ের অভিযোগ, এই মামলায় অন্য অভিযুক্তদের বয়ানের সঙ্গে মানিকের বয়ান অসঙ্গতি রয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!