- দে । শ
- মার্চ ২১, ২০২৩
ফাঁসির বিকল্প খুঁজতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ।বিশেষজ্ঞ কমিটি গড়তে হবে কেন্দ্রকে
ফাঁসিতে চড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড কি বন্ধ হতে চলেছে ভারত? এখনই বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে মঙ্গলবার দেশের শীর্ষ আদালত কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে ফাঁসি ছাড়া কম যন্ত্রণাদায়ক ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এমন পদ্ধতি সম্পর্কে শীর্ষ আদালতে তথ্য পেশ করতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে। এদিন শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় ও বিচারপতি পিএস নরসীমার ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্রকে এই নির্দেশ দিয়েছে।
প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় এবং বিচারপতি পিএস নরসীমার ডিভিশন বেঞ্চ এ সংক্রান্ত বিষয় খতিয়ে দেখার জন্যে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের কথাও বলেছে। ওই বিশেষজ্ঞ কমিটি অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্যে ভারতে যে পদ্ধতি রয়েছে, তা ফের খতিয়ে দেখবে।
এব্যাপারে প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় বলেছেন, এই বিশেষজ্ঞ কমিটি জাতীয় আইন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির বিশেষজ্ঞ, আইনের অধ্যাপক, চিকিৎসক ছাড়াও বিজ্ঞানীদের নিয়ে গঠন করতে হবে। এই কমিটি খতিয়ে দেখবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে তুলনায় মানবিক আর কোনও পদ্ধতি রয়েছে কিনা।
এদিন কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে শীর্ষ আদালতে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল আর বেঙ্কটরামানি। এদিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এও বলেছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির নিরিখে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে মর্যাদাসম্পন্ন অন্য কোনও পদ্ধতি আছে কিনা তা জানতে চায় শীর্ষ আদালত।
ফাঁসিতে চড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার যে পদ্ধতি ভারতে চালু রয়েছে, তা চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন আইনজীবী ঋষি মালহোত্রা। মালহোত্রা দাবি করেছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ক্ষেত্রে এদেশে ফাঁসিতে চড়ানোর যে পদ্ধতি চালু রয়েছে, তা প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ড্ দেওয়ার তুলনায় নিষ্ঠুর এবং বর্বর পদ্ধতি। প্রসঙ্গত, প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ব্যবস্থা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আছে।
এদিন ডিভিশন বেঞ্চের আরেক বিচারপতি নরসীমা বলেছেন, প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড সবক্ষে্ত্রে সফলভাবে কার্যকর হয়নি। এজন্য বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি কী হতে পারে, তা খতিয়ে দেখতে হবে। এছাড়াও দেখতে হবে, কোন পদ্ধতি কম যন্ত্রণাদায়ক এবং তুলনায় বেশি মানবিক। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে কেন্দ্রীয় সরকার এফিডেভিট পেশ করে মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে ফাঁসিতে চড়ানোর পক্ষেই অবস্থান নেয়। কেন্দ্রের তরফে এও জানানো হয়েছিল, প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশন দিয়ে কিংবা ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার চেয়ে ফাঁসিতে চড়ানোই শ্রেয়। ২০১৮ সালে কেন্দ্রীয় সরকার আরও জানিয়েছিল, ফাঁসিতে চড়ানো অমানবিক, নিষ্ঠুর কিংবা বর্বর বলে মনে করে না কেন্দ্র।
❤ Support Us






