- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মে ৮, ২০২৩
মণিপুরে মানবিক সঙ্কট, অনুপস্থিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা ! নবান্ন থেকে, নয়াদিল্লির সমালোচনায় মুখ্যমন্ত্রী
“মণিপুরের ঘটনা মানম্যাড”, সোমবার নবান্ন থেকে বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বাংলাতেও একই ভাবে সমস্যা তৈরী করার চেষ্টা চলছে। জাতের নাম, ধর্মের নাম, সম্প্রদায়ের নাম রাজনীতি করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগের তীর যে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের দিকে সেটা তিনি তাঁর কথায় সোমবার নবান্ন থেকে স্পষ্ট বুঝিয়ে দেন। এদিন সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করেন, কর্ণাটকের নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব যাচ্ছেন। বাংলায় আসছেন রবীন্দ্র জয়ন্তীতে অমিত শাহ, এদের কি মণিপুরে যাওয়া উচিত ছিল না? এই প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ভোট আসবে ভোট যাবে। তবে মণিপুরে যে রক্তের বন্যা বয়ে যাচ্ছে, সেখানে যাওয়া বেশি জরুরি বলে আমি মনে করি।” মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, “আমি কারও নাম নিয়ে কিছু বলতে চাই না। বাংলায় আসছেন আমি তাঁকে স্বাগত জানাচ্ছি। কিন্তু বুঝতে হবে গুরুত্বপূর্ণ কোনটা বেশি। বাংলায় কিছু হলেই কেন্দ্রের টিম চলে আসে। ১৪৪ ধারা যে রাজ্যে হয়, সেখানে কটা কেন্দ্রের টিম যায়?”
Relieved to inform that, after receiving distress calls at the Nabanna Control Room, 18 Students of West Bengal studying at College of Agriculture, Central Agricultural University, Imphal have been specially evacuated by us at GOWB cost. They have been flown in to Kolkata by… pic.twitter.com/51UMy0402Q
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) May 8, 2023
এদিন মণিপুর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মনিপুরের জন্য আমি নবান্নে কন্ট্রোল রুম তৈরী করেছি। নবান্নতে কন্ট্রোল রুমের দুটো হেল্প লাইন নাম্বার হচ্ছে ০৩৩২২১৪৬৫২৬ এবং ০৩৩২২৫৩৫১৮৫। এখনও মণিপুরের ১৮৫ জনের সঙ্গে রাজ্য যোগাযোগ করতে পেরেছে। মণিপুর সরকারের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। আমাদের রাজ্য থেকে বলা হয়েছে,ম যে সব মানুষ, ছাত্র-ছাত্রী একটু দূরবর্তী জায়গায় আছেন, যাঁরা বিমান বন্দরে পৌঁছতে পারছেন না, ওখানে দেখা মাত্র গুলির নির্দেশ জারি আছে। তাদের যাতে মণিপুর সরকার বিমানবন্দরে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে। কারণ অনেকেই এই সমস্যার জন্য মণিপুর থেকে নিজের রাজ্যে ফিরতে পারছেন না। রাজ্যের ২৫ জনকে এনেছি। এর মধ্যে ১৮ জন ছাত্র। এদের ভাড়া দিয়ে নিয়ে এসেছি আমরা। ৬৪জন ছাত্র এখনও ওখানে আছে।
কলকাতা হয়ে যারা যাঁরা তাদের রাজ্যে ফিরতে চাইছেন তাঁদের বিমান থেকে নেমে ট্রেন ধরার মধ্যেকার সময়টুকু আমরা কলকাতার বিভিন্ন স্টেডিয়ামে থাকার ও অন্যান্য ব্যবস্থা করে দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। এদের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ ৩০ জন, রাজস্থানের ৩০ জন ছেলে-মেয়ে আছে। অন্ধ্রপ্রদেশের ছাড়াও তেলেঙ্গালার ২৬ জন, রাজস্থানের ৩০ জন মানুষ আছেন , যাঁরা বিমানে মণিপুর থেকে এসেছেন, তাঁদের কলকাতা হয়ে নিজেদের রাজ্যে যাওয়ার ট্রেন ধরার জন্য বিমান থেকে নামার পরের সময়টা আমরা থাকার ও অন্যান্য ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। রাজ্য সাধ্যানুযায়ী মণিপুরের মানুষের পাশে আছে।”
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, “মণিপুরের জন্য আমার মন কাঁদে। উত্তর পূর্বের রাজ্য জ্বলছে,আমরা উদ্বিগ্ন। আমাদের রাজ্য থেকে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যসচিবদের সঙ্গে যোযাযোগ রাখা হচ্ছে। মনিপুর সরকার, অসম রাইফেলস-এর সঙ্গে রাজ্য যোগাযোগ রেখে চলছে।”
এদিন মুখ্যমন্ত্রী দ্য কেরালা স্টোরি সিনেমা নিয়ে বিজেপি ও সিপিএমকে এক বন্ধনীতে রেখে সমালোচনা করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন কাশ্মীর ফাইলস, দ্য কেরালা স্টোরি সিনেমা তৈরী করে এই সব রাজ্যের নাম, রাজ্যের মানুষের নাম কুৎসা করা হচ্ছে। বাংলাকে নিয়েও বেঙ্গল ফাইলস করার কথা বলেছিল। বিকৃত তথ্য দিয়ে সিনেমা হচ্ছে।” মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেন বিজেপি ও তাদের মদতে সিনেমার নাম রাজনৈতিক কুৎসা ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চক্রান্ত চলছে।
এদিন সাংবাদিকরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করেন, মোদি,শাহ মণিপুর নিয়ে কিছু বলছে না, টুইট করছে না, এই প্রসঙ্গে আপনার প্রতিক্রিয়া কি? উত্তরে মমতা বলেন, “যত দোষ নন্দ ঘোষ। ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি ভোট শেষ হলেই হাহাকার। গণতন্ত্রের প্রথম ও শেষ কথা মানবিকতা। মানবিকতা যেখানে কুৎসিত আচরণ করে সেখানে রাজনীতির নেতার দরকার নেই।”
রবীন্দ্রভারতীর সমাবর্তনে রাজ্যপালের মন্তব্য প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “উনি চুপচাপ হয়ে বসে থাকবেন না তো কি সবার চাকরি খাবেন ? আগে রাজ্যপাল যখন আচার্য ছিলেন তখন ১০/১২টা বিশ্ব বিদ্যালয় ছিল এখন ৪২টা বিশ্ববিদ্যালয় রাজ্যে। সবার ক্ষমতার একটা সীমাবদ্ধতা আছে। রাজ্যপাল সাতদিন অন্তর হিসাব চাইছেন উপাচার্যদের কাছে। কাজ বন্ধ করে উপাচার্যরা এসব করবেন?” এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীকে আচার্য করার যে বিল রাজ্যওপালের কাছে পরে আছে এই বিল রাজ্যপাল পাশ না করলে ফেরত পাঠান। তাহলে আবার বিধানসভায় আমরা ওই বিল পাশ করাতে পারি।”
❤ Support Us






