- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মে ৪, ২০২৩
জলে গেল হাজার কোটি ! আক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রীর
প্রশাসনিক বৈঠকে গরহাজির গনি, ওয়াকফ বোর্ডের কাজকর্মে নেত্রী অসন্তুষ্ট। সুজাপুরের দায়িত্ব সাবিনাকে
মালদায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে আমলা আর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সবাই হাজির। নেই শুধু একজন, তিনি সুজাপুরের বিধায়ক আব্দুল গনি। ওজনদার ব্যক্তি! প্রাক্তন বিচারপতি। ওয়াকফ বোর্ডেরও চেয়ারম্যান। অভিযোগ, এলাকায় তাকে দেখা যায় না। ওয়াকফ বোর্ডের তদারকিতেও নজর নেই। মমতার বৈঠকেও আমল দেননি। ‘গরহাজির’ হয়েও নিস্তার পেলেন না। বার বার উঠল তাঁর প্রসঙ্গ। ক্ষোভ চেপে রাখলেন না মুখ্যমন্ত্রী। সরাসরি প্রশ্ন তুললেন জনমুখী নেত্রী, ওয়াকফ বোর্ডের কাজ ঠিকঠাক হচ্ছে না। ওয়াকফ বোর্ডের কাজের দায়িত্ব আমি আধিকারিকদের হাতে সঁপে দিলাম। তাঁরাই যাবতীয় কাজকর্ম করবেন। ওয়াকফের জমিতে এনক্রোচমেণ্ট হচ্ছে। আমি এর বিরুদ্ধে। জমি আগ্রাসন রুখতে হবে। জন প্রতিনিধি হিসেবে, প্রাক্তন বিচারপতির গা-ছাড়া মনোভাব নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তীব্র অসন্তুষ্ট। সুজাপুরের দেখভালের দায়িত্ব আর জনসংযোগ রাখার ভার দিলেন সেচ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনকে। কর্মঠ, বুদ্ধিমতী মহিলা। গনির বিধানসভা কেন্দ্র সুজাপুরের দায়িত্ব তাঁর কাঁধে তুলে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিলেন, জনপ্রতিনিধিকে জনসেবা করতেই হবে। ঢিলেমি চলবে না। মানুষের সঙ্গত দাবি, অভিযোগ শুনতেই হবে। জনপ্রতিনিধি মানেই নিবিড় জনসংযোগ।
প্রাক্তন বিচারপতি এসব ব্যাপারে কতটা আন্তরিক, কতটা জনমুখী, তা তিনিই বলতে পারবেন। তাঁকে নিয়ে কেন প্রশ্ন ওঠে, কেন তিনি মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেননি, প্রশ্নময় এ রহস্যের জবাব দেবে কে?
মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক জুড়ে আজ বহু প্রশ্ন উঠে আসছে। নদী ভাঙন আর প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেছেন, ভাঙন রুখতে আমরা এ পর্যন্ত ১০০০ কোটি টাকা খরচ করেছি। বোল্ডার ফেলে দিয়েই কেউ কেউ দায়িত্ব শেষ ভেবেছে। সব টাকা জলে গেছে। শক্তপোক্ত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার। গ্রামবাসীদের সতর্ক করে দিয়ে বলতে হবে, নির্দিষ্ট এলাকার ভেতরে বাড়ি-ঘর বানানো যাবে না। ভাঙনে, বন্যার তোড়ে তাঁদের বসত স্থাপন ভেসে যাবে। প্রশাসনকে সমস্যাটি দেখতে হবে। ভাঙন রুখতে আন্তর্জাতিক সাহায্য কীভাবে মিলতে পারে , খোঁজ-খবর নেওয়া দরকার।
নদী ভাঙন বঙ্গীয় সমতট উত্তর-পূর্বাঞ্চলের স্থায়ী সমস্যা। প্রতিবছর বানের জল আর দুর্গত জনতার অশ্রু একাকার হয়ে যায়। প্রান্তিক কৃষক, ভূমিহীন মজুরদের বেঁচে থাকার সমস্যা দুষ্ট রাজনীতির উস্কানি আর সাম্প্রদায়িক অপপ্রচারকে বাড়িয়ে দেয়। অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের উৎস যে নদীভাঙন আর বন্যা তা এড়িয়ে গিয়ে বিভাজনের রাজনীতি চিৎকার করে বলতে থাকে, অনুপ্রবেশ বাড়ছে। সরকারি জমিতে বসতি বাড়াচ্ছে ঘুসপেটিয়ারা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মানবিক বোধ-বুদ্ধিকে বিসর্জন দিয়ে বিপন্নমানুষকে ছারপোকা বলতেও দ্বিধা করেন নি। বন্যা আর ভাঙনের তাঁরা খেয়ে বারবারব মানুষের নতুন গৃহ সন্ধান আর গৃহবদলের মূল কারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, তা অভীষ্ট রাজনীতির সঙ্গে গুলিয়ে দিলেন ক্ষমতামত্ত অমিত। তাঁদের ডবল ইঞ্জিন সরকারও সুযোগ পেলেই আগুন ঢালে অভ্যন্তরীণ অভিবাসীদের দগদগে ক্ষতচিহ্নে। অসমে কংগ্রেসের শাসনও এরকম অপবুদ্ধির ব্যবহারিক রাজনীতিকে বারবার প্রশ্রয় দিয়েছে, নিজের ভুলকে চাপা দিতে এনআরসি (নাগরিকপঞ্জি) তৈরির সুপারিশ করেছে। কতিপয় ভাগ্যবানের রাজধর্ম কত বীভৎস, কত রহস্যময় এবং মানবিকতাশূন্য হতে পারে, তার জঘন্যতম দৃষ্টান্ত নাগরিকপঞ্জি নির্মাণের ঘৃণিত কর্মসূচি। বিভেদ তৈরিরও এ আরেক কূটকৌশল।
❤ Support Us







