- প্রচ্ছদ রচনা
- মে ৩১, ২০২২
অভিযোগ, রাষ্ট্রদ্রোহিতা । আদালতের সাজা প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর । কারাদণ্ড একাধিক মৌলবাদী নেতাকে।
মিশরে ভূতপূর্ব প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীসহ একাধিক ব্রাদারহুড নেতার কারাদণ্ড কায়রোর একটি বিশেষ আদালত মিশরেরে ভূতপূর্ব প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী আবুল ফতুহ সহ মুসলিম ব্রাদার হুডের (ইখওয়া নুল মুসলিম ইন) কয়েকজন নেতাকে দীর্ঘ কারাবাসের সাজা দিয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, জনগণের মধ্যে ভুল খবর রাষ্ট্র করে বিভ্রান্তি তৈরি করছিলেন এবং রাষ্ট্র দ্রোহিতার জড়িয়ে পড়েছিলেন । আলজাজিরার খবর, ২৯ মে আবুল ফতুহকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বয়স তাঁর ৭০। ফতুহর পরিবার পরিবার জানিয়েছে, তিনি নানা শারিরীক সমস্যার শিকার, এরকম অবস্থায় তাঁকে দীর্ঘ কারাদণ্ডের সাজা দিয়ে ঘোরতর অন্যায় করা হয়েছে।
ভূতপূর্ব প্রেসিডেন্ট প্রার্থী আবুল ফতুহ । ছবি -এপি
আবুল ফতুহ ছিলেন স্ট্রং ইজিপ্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান। তাঁর দলের উপ-প্রধান মোহাম্মদ আল-কাসাসকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মুসলিম ব্রাদারহুড প্রায় ১০০ বছর ধরে মৌলবাদি চিন্তার প্রবক্তা । হাসানাল বাননা এবং সৈয়দ কুতুব ছিলেন এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। ইসলামি শাসন ব্যবস্থায় কায়েম করাই তাঁদের লক্ষ্য। শতবর্ষের লাগাতার চেষ্টার পর গত কয়েক বছর আগে জাস্টিস পার্টির ব্যানারে তারা ক্ষমতায় আসেন। আল মুরশি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ক্ষমতায় তাঁর উত্তোরনে উৎসাহিত বোধ করেন মৌলবাদিরা। কোনও কোনও অংশে, বিশেষ করে আলেকজান্দ্রিয় অঞ্চলে সন্ত্রাস ছড়িয়ে পড়ে। দাঙ্গার শিকার হন কপ্টিক খ্রিস্টান। এরকম পরিস্থিতিতে পশ্চিম দুনিয়ায় অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। মুরশিকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়। তাদের সংগঠনে ১০০ বছররে রাজনৈতিক অর্জনে ধস নামে। প্রেসিডেন্ট প্রধান সরকার ক্ষমতায় আসে। মিশর এখনও মৌলবাদ মুক্ত নয়। মুসলিম ব্রাদার হুডের সদস্যরা সক্রিয়। করোন-উত্তর পর্বে অর্থনৈতিক সঙ্কটে মিশর ধুঁকছে। এ অবস্থায় মৌলবাদি সন্ত্রাসবাদী জোট তৎপর হয়ে উঠতে পারে। মিশরের আর্থিক উৎপাদন যথেষ্ট নয়। পর্যটন এবং পশ্চিমএশিয়ার সাহায্যের উপর নির্ভরশীল। দেশকে আসন্ন সঙ্কট থেকে বাঁচাতে মরিয়া শাসক । বিচার ব্যবস্থা কতটা নিরপেক্ষ, বোঝা মুশকিল । আদালতে রায় কী পরিস্থিতি তৈরি করে, তা ভাববার বিষয়।মিশরের মানবিক অধিকার রক্ষার বিভিন্ন সংগঠন সরকারের তীব্র সমালোচনা করে সুবিচারের দাবি জানিয়েছে।
আধুনিক মিশরেরে স্থপতি।হিউম্যান রাইটস এর অনুমান, আদালতের রায় কেবল ইসলামপন্থী রাজনৈতিকদের বিরুদ্ধে নয় । গণতন্ত্রপন্থী সাংবাদিক ও সহিষ্ণু চিন্তায় আঘাত হানছে।
মিশর গামাল আবদুল নাসিরের আমল থেকে একধরণের স্বৈরতন্ত্র আর স্বেচ্ছাচারিতার শিকার। শক্তিধর সামরিক বাহিনী রাষ্ট্র আর প্রতিবেশি দেশগুলির নিরাপত্তার ভরসা। আরব ইসরাইল যুদ্ধে মিশরকে বারবার আক্রমণাত্মক হতে দেখা গেছে। সেই মিশরকেই ক্যাম্প ডেভিড শান্তি চুক্তির মাধ্যমে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় অন্যতম মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠত করে দেয় পশ্চিম দুনিয়া । গামাল নাসিফ থেকে আনোয়ার সাদাত পর্যন্ত বর্হিবিশ্বে মিশরি নেতূত্বের গ্রহণযোগ্যতা নিযে প্রশ্ন ওঠে না। পরে শাসনতন্ত্রের অবক্ষয় দেখা দেয়। দুষ্কৃতীর গুলিতে সাদাত নিহত হন। তাঁরই উত্তরাধিকার নিয়ে ক্ষমতায় বসেন হোসনি মুবারাক। নামে মাত্র গণতান্ত্রিক। কার্যত স্বেচ্ছাচারী স্বৈরতন্ত্রিক। তাঁরই ভুলের খেসারত দিতে হয়েছে মিশরকে। একশো বছরের পরিত্যার্জ মুসলিম ব্রাদার হুড বিপুল ক্ষমতা নিয়ে ক্ষমতায় চলে আসে। জনগণের ইচ্ছা আর পশ্চিমি অনিচ্ছায় তাদেরও বিদায় নিতে হয়।
তাহা হুসেন, মুক্ত চিন্তার আপোসহীন প্রবক্তা । নাগিব মাহফুজ নোবেল বিজয়ী কথাশিল্পী ।
আরব বিশ্বের অন্যতম আধুনিক রাষ্ট্র মিশর, শিক্ষা-দীক্ষায় উনিশ শতকের নবজাগরণ মিশরবাসীদের উদ্ভুদ্ধ করেছে। তার সাহিত্য ও শিল্প কীর্তি প্রাচীন কাল থেকে গগনচুম্বী । শুধু ফ্যারাও শাসকদের ঐতিহ্য আর হৃদয়ের বিত্ত নয়, মিশরের শিল্পাঙ্গনে নানা দেশের—গ্রিক ও আরবসম্পদ প্রবেশ করেছে। ঋদ্ধ করেছে তার চিন্তাকে। জন্ম দিয়েছে তাহা হুসেন, হাসান হাইকেল, নাগিব মাহফুজ-এর মতো বটবৃক্ষ তুল্য শিক্ষকও লেখকদের। সেই মিশরে বার্হিক আধুনিকতা এসেছে। কিন্তু গণতন্ত্রের নির্মাণ এখনও অসমাপ্ত। উসমানিয়া রাজারা যে আধুনিকতার সূচনা করেছিলেন, তা আজ বিচূত, শিল্প ও চিন্তাবলয়ের আদর্শ থেকে স্খলিত। মিশরের এইরকম পরিস্থিতিতে মিশরকে গণতন্ত্রের পরীক্ষায় অবতীর্ন হতে হবে বারবার। হাঁটবে হবে দূর, অনেক দূর। সুয়েজ থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত।
❤ Support Us











