Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মার্চ ২৫, ২০২৬

২৪ আকবর রোড ছাড়ার নির্দেশ, কংগ্রেসের ঐতিহ্যবাহী সদর দফতর নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
২৪ আকবর রোড ছাড়ার নির্দেশ, কংগ্রেসের ঐতিহ্যবাহী সদর দফতর নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে

দিল্লির ২৪ আকবর রোডে অবস্থিত ধবধবে সাদা বাংলো—যা প্রায় পাঁচ দশক ধরে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সদর দপ্তর হিসেবে পরিচিত—সেটি শনিবারের মধ্যে খালি করার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। বুধবার সকালে এই মর্মে নোটিস পাঠানো হয়। একইসঙ্গে ৫ নম্বর রাইসিনা রোডে অবস্থিত ভারতীয় যুব কংগ্রেসের অফিস খালি করতেও বলা হয়েছে। এই পদক্ষেপ ঘিরে ইতিমধ্যেই দিল্লির রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে ২৪ আকবর রোডের গুরুত্ব অপরিসীম। ব্রিটিশ আমলের এই বাংলোতেই ১৯৭৭ সালে ইন্দিরা গান্ধির নেতৃত্বে কংগ্রেস নতুন করে সংগঠিত হয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই শুরু করে। এর আগে ১৯৪৭ সাল থেকে দলের সদর দপ্তর ছিল ৭ যন্তরমন্তর রোডে। পরে নানা রাজনৈতিক উত্থান-পতন ও ভাঙনের পর আকবর রোডে স্থানান্তরিত হয় কংগ্রেসের অফিস।

এই নতুন ঠিকানা পাওয়ার পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তৎকালীন রাজ্যসভার সাংসদ জি ভেঙ্কটস্বামী, যিনি ইন্দিরা গান্ধির ঘনিষ্ঠ অনুগামী ছিলেন। গত প্রায় ৪৮ বছর ধরে এই ঠিকানাই কংগ্রেসের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করেছে। এই অফিস সাক্ষী থেকেছে রাজীব গান্ধির সময়কাল, পাশাপাশি পি ভি নরসীমারাও  ও মনমোহন সিংয়ের প্রধানমন্ত্রিত্বের নানা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের।

গত বছর ৯ এ কোটলা মার্গে ‘ইন্দিরা ভবন’ নামে নতুন সদর দপ্তরের উদ্বোধন হলেও, ২৪ আকবর রোডের অফিস রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে ধরে রাখতে চাইছিল কংগ্রেস। তবে সূত্রের খবর, ২৮ মার্চের মধ্যে অফিস খালি করার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন, যা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

কংগ্রেস নেতা ও সাংসদ অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি অভিযোগ করেছেন, এই উচ্ছেদের নোটিস বেআইনি এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি জানিয়েছেন, দল এই বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেবে। কংগ্রেসের তরফে আরও দাবি করা হয়েছে, আকবর রোডের বাংলোর জন্য বাজারমূল্য অনুযায়ী ভাড়াও নিয়মিত পরিশোধ করা হয়ে থাকে।
এই পরিস্থিতিতে ২৪ আকবর রোডের ভবিষ্যৎ এবং এর রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!