Advertisement
  • ন | গ | র | কা | হ | ন
  • জানুয়ারি ৮, ২০২৪

ইনসাফ চাইল সিপিএমের যুব ব্রিগেড, প্রাক্তন-বর্তমান যুব নেতাদের শপথ, এই আবেগ বুথে পৌঁছে দিতে হবে

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ইনসাফ চাইল সিপিএমের যুব ব্রিগেড, প্রাক্তন-বর্তমান যুব নেতাদের শপথ, এই আবেগ বুথে পৌঁছে দিতে হবে

জেলা থেকে শহর রবিবার ব্রিগেডে মিশল। জনপ্লাবনে উপচে পড়ল ইনসাফ ব্রিগেড। বুদ্ধদের ভট্টাচার্যর “ব্রিগপড ভালো হবে”, বার্তা নিয়ে লোকসভা নির্বাচনের আগে এই ব্রিগেড গা গরম করার উপাদান হবে কি এই ইনসাফ ব্রিগেড?

তখনও গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশন ভারতের গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশন হয়নি। সেই সময় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য শনিবারই বর্তমান ডিওয়াইএফআই নেত্রী মীনাক্ষী মুখেপাধ্যায়দের বার্তা দিয়েছিলেন, “ব্রিগেড ভালো হবে।” হ্যাঁ ব্রিগেড ভালো হল। একদিকে তারুণ্যের, যৌবনের উচ্ছাস অন্যদিকে ইনসাফের শপথ নিয়ে, সমস্ত রকম বাঁধা অতিক্রম করে ব্রিগেড হল। এই ব্রিগেড থেকে যুবরা শপথ নিলেন, সবার থালায় ভাত চাই, সবার হাতে কাজ চাই। পাশাপাশি বললেন, ভারতের অখন্ডতাকে রক্ষা করতে বামপন্থীদেরই পথে নামতে হবে। মীনাক্ষী বললেন, “এই ময়দান থেকে যে শপথ নিলেন তাকে বুথে পৌঁছে দিন।” মহম্মদ সেলিম বলেন, “ওরা বলেছিল, বাম হঠাও দেশ বাঁচাও। বাম সরেছে তবে দেশ বাঁচেনি। তাই দেশ বাঁচাতে বামেদেরই পথে নামতে হবে।” প্রাক্তন ডিওয়াই এই আই নেতা আভাস রায় চৌধুরী বললেন, “আদানি,আম্বানিদের মতো হাঙড়, রাঘব বোয়ালদের হাতে দেশটাকে তুলে দিচ্ছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। পশ্চিমবঙ্গের শিল্প সম্ভাবনাকে ধ্বংস করেছে তৃণমূল। এদের বিচার হবে তাই এই ইনসাফ ব্রিগেড।”

সৃজন ভট্টাচার্য থেকে আভাস রায় চৌধুরী, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, হিমগ্নরাজ ভট্টাচার্য, মহম্মদ সেলিম সবাই ব্রিগেডের ইনসাফ সমাবেশ থেকে একই বন্ধনীতে তৃণমূল ও বিজেপিকে রেখে সমালোচনা করলেন। দুর্নীতি, স্বজন পোষণ, রাজনীতির ধর্মীয়করণ সবেই তৃণমূল বিজেপি সমান দায়ী।

 

আভাস রায় চৌধুরী বলেন, “আদানি-আম্বানিদের মতো হাঙর, রাঘব বেয়ালদের হাতে দেশটাকে তুলে দিচ্ছে মোদি সরকার। বেকারদের মজুত বাহিনী করে রেখেছে কেন্দ্রের সরকার। দেশের সব বেচে দিচ্ছে আদানিদের হাতে। রাম-রহিম-গোপাল-ওসমানের নাম হারিয়ে সবার পরিচয় এখন একটাই– পরিযায়ী শ্রমিক। পশ্চিমবঙ্গে শিল্প সম্ভবনাকে যারা এই রাজ্যে ধ্বংস করেছে তাদের বিচার হবেই– তাই এই ইনসাফ ব্রিগেড।”

রাজ্যের ১০০ দিনের টাকা কেন্দ্র দিচ্ছে না বলে তৃণমূল সরকারের প্রতিবাদের সমালোচনা করে রাজ্য ও কেন্দ্রের শাসককে এক বন্ধনীতে ফেলে যুব আন্দোলনের প্রাক্তন কর্মী আভাস বলেন, ” কেন্দ্র বলছে রাজ্য টাকা চুরি করেছে, রাজ্য বলছে কেন্দ্র অকারণ টাকা আটকে রেখেছে, তাহলে কেন তোমরা পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে আদালতে যাচ্ছ না? আসলে সবাই চোর। তৃণমূল আসলে চলে নাগপুরের প্রেসক্রিপশনে। জানি না এই সভা শেষের পর সেই প্রেসক্রিপশনে কি হবে। তাই ইনসাফ আদায় করতে হলে তৃণমূল, আরএসএস,বিজেপিকে হারাতে হবে।”

মঞ্চে ভারতের জাতীয় পতাকা উড়ছিল এদিন শুরু থেকেই, আভাস সেই পতাকার দিকে তাকিয়ে বলেন, “ভারতের বহুত্ববাদ আজ বিপন্ন, তেরঙাকে রক্ষা করতে হবে বামপন্থীদের।”

এদিন এসএফআই নেতা সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, “এক-দু-তি-চার শান্তুনিকেতনে ডাকাত, শান্তিকুঞ্জে বাটপার।” বোঝাই যাচ্ছে সৃজনের এই বক্তব্যের লক্ষ্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী।

 

ইনসাফ যাত্রাকে যিনি ব্রিগেডে পৌঁছপ দিলেন, সেই ইনসাফের নামে লড়াইয়ে নামা মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় বলেন, “লাল সেলাম, লড়তে এসেছি তো? গোটা রাজ্যের যে মাঠে ওরা রাজনীতিকে নিয়ে বলেছিল খেলা হবে, সেই মাঠের জিম্মা আমরা নিয়েছি। এই মাঠে আমরা সংবিধান পড়ে তারপর আমরা মাঠের প্রতি ইঞ্চি জমি ছাড়ব, লড়াইয়ের শপষ দেখে ছাড়াব।”

মীনাক্ষী এদিন বলেন, “অনেক পথ এখনও চলতে হবে, তবে কারও হক নেই এই মাঠের দখল আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেবে। বামপন্থারা একটা পাড়ায় পার্টি করতে গুতোগুতি করে না। আমরা পঞ্চায়েত, মেয়র হওয়ার রাজনীতি করি না। যতদিন পিছিয়ে পড়া মানুষের টুঁটি চেপে ধরা থাকবে ততোদিন বামপন্থীরা থাকবে লড়াইয়ের ময়দানে। ২১১০ কিলোমিটার এই প্রথম হাঁটেনি বামপন্থীরা। এই হাঁটা আমাদের নতুন নয়, কখনও কলেজ, কখনও বিশ্ববিদ্যালয়, কখনও হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যাল বানাতে আমরা পথে হেঁটেছি, তাই আমাদের এই হাঁটা নতুন কিছু নয়।”

জাতের নামে রাজনীতি নয়, লড়াইয়ের শর্ত হবে কাজ, রুটি,স্বচ্ছতা, এভাবেই ধর্ম ও রাজনীতিকে মিশিয়ে ফেলার বিজেপির চক্রান্তের সমালোচনা করেন মীনাক্ষী।

যুবনেত্রী বলেন, “কোন মুর্খ বলে বামপন্থীরা শূন্য? গোটা রাজ্যের মানুষ আজ রুটি-রুজির কথা বলছে। আমি অনেক ছোট থেকে বাবার হাত ধরে ব্রিগেডে এসেছি। মঞ্চটা ওই দিকে হত। আমরা যখন বাবার হাত ধরে, নেতাদের হাত ধরে ব্রিগেডে এসেছি, তখন কেউ শেখায়নি, এই ময়দানে রাজনীতি করতে গেলে চুরি করতে হবে, শেখানো হয়েছে হাতে হাত ধরতে হবে। তাই এখনও সুদীপ্ত গুপ্ত, মইদুল মিদ্যাদের মুখগুলো, গায়ের গন্ধগুলো এখনও আমাদের সঙ্গে আছে। তাই আমরা কথা দিতে পারি, লড়াইয়ের ময়দান আমরা ছেড়ে দেব না। অনেকে অনেক কথা বলে। আমরা পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলকে চ্যালেঞ্জ করছি, যাঁরা বিধানসভার ভেতরে বিজেপি বাইরে দিদিমনির কোলে দোল খাচ্ছে বিধানসভার স্পিকারের কাছে গিয়ে পারলে তার বিধায়ক পদ বাতিল করান। এই সরকারের অপদার্থতার জন্য শিক্ষিকার চাকরি না পেয়ে এখনও চাকরি প্রার্থীরা রাস্তায়৷ শরীরের সবচেয়ে সুন্দর চুল একজন মহিলা কেটে ফেলেন। আমরা রাস্তায় আছি। জানি এটা টেস্ট ম্যাচ, ওয়ান ডে, টি-২০ নয়।”

বিজেপি-তৃণমূলকে বিঁধে মীনাক্ষী বলেন, “কে বিজেপি? তৃণমূলের পচা সব বিজেপিতে ভিড়েছেন। নতুন বোতলে পুরনো মদ। এখন ওরা বলবে আমি দেখতে সুন্দর, ফর্সা, ঠোটে লিপস্টিক দিই তাই আমাদের ভোট দাও। অনেক তৃণমূল,বিজেপি সমর্থক ভাবছেন তৃণমূল এমন করল? আপনাদের বলি আপনাদের প্রতি বলি আমাদের হাত বাড়ানো রইল, বেঁচে থাকতে আমাদের হাত ধরুন। কারা যাবে সংসদে? যাঁরা কাজ দিতে চায়, ঘামের মিনিময়ে টাকা যারা রোজগার করতে চায়, তাদের কথা যারা বলে, তাঁদের সংসদে, বিধানসভায় পাঠাতে হবে।”

 

মীনাক্ষীর পর প্রাক্তন ডিওয়াইএফআই নেতা ও সিপিএম রাজ্য সম্পদাক মহম্মদ সেলিম বলেন, “মীনাক্ষী বলতে বলতে বিদ্রোহী কবির কবিতার লাইন ভুলে গিয়ে বলেছেন, আমি ভুলে গিয়েছি। আচ্ছা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, নরেন্দ্র মোদি পারবেন ভুল করে ভুল স্বীকার করতে? ফ্যাসিস্টরা এসব বলে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাই ডহরবাবুকে খোঁজেন।”

সেলিম এদিন বলেন, “আমরা যদি এককাট্টা হই তাহলে আমরা পারব। আজ এই জমায়েত নব যৌবনের ডাকে হয়েছে। বাংলার যৌবন নিজের পথ ঠিক করে নেওয়ার জন্য এই লাল তারাকে দেখে এগিয়ে যান।” মঞ্চের ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল একটি লাল তারা, তাকে দেখিয়ে এই মন্তব্য করেন মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, “যুবরা বাংলার ভূতকে তাড়াবে। যাদের মাথায় ছাদ নেই, যেখানে রাস্তা নেই, যাদের চাকরি নেই তাদের জন্য লড়তে হবে। বামপন্থা কোনও ফাঁকা আওয়াজ দেয় না। নীল-সাদা রং করে আমাদের সব ভুলিয়ে দিতে চাইছে। ১০০ দিনের কাজের টাকা পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে আদায়ের কথা বলেছিলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেথায় গেল সেই প্রতিশ্রুতি? এখন প্রশ্ন করছি, কত পেলেন? কত খেলেন?”

এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেঁপো বলে কটুক্তি করে মহম্মদ সেলিম বলেন, “ওই ভাইপো, ডেঁপো ছেলেটা ক্লাসের খারাপ ছেলেরা যেমন পড়া পেরে বেঞ্চে বেঞ্চে যায়, দাঁড়িয়ে থাকে, তেমন বিভিন্ন বেঞ্চে দৌড়চ্ছে। এই চুরি দেখে রাজ্যের মানুষ রাগান্বিত হচ্ছে। তারা এই যৌবনকে দেখে বলছে, হ্যাঁ, তোমরা এককাট্টা হও, তোমরাই পারবে।”


  • Tags:

Read by:

❤ Support Us
Advertisement
homepage block Mainul Hassan and Laxman Seth
Advertisement
Hedayetullah Golam Rasul Raktim Islam Block Advt
Advertisement
শিবভোলার দেশ শিবখোলা স | ফ | র | না | মা

শিবভোলার দেশ শিবখোলা

শিবখোলা পৌঁছলে শিলিগুড়ির অত কাছের কোন জায়গা বলে মনে হয় না।যেন অন্তবিহীন দূরত্ব পেরিয়ে একান্ত রেহাই পাবার পরিসর মিলে গেছে।

সৌরেনি আর তার সৌন্দর্যের সই টিংলিং চূড়া স | ফ | র | না | মা

সৌরেনি আর তার সৌন্দর্যের সই টিংলিং চূড়া

সৌরেনির উঁচু শিখর থেকে এক দিকে কার্শিয়াং আর উত্তরবঙ্গের সমতল দেখা যায়। অন্য প্রান্তে মাথা তুলে থাকে নেপালের শৈলমালা, বিশেষ করে অন্তুদারার পরিচিত চূড়া দেখা যায়।

মিরিক,পাইনের লিরিকাল সুমেন্দু সফরনামা
error: Content is protected !!