Advertisement
  • দে । শ
  • এপ্রিল ২৬, ২০২৩

দান্তেওয়াড়া থেকে মুটিয়া — প্রাতিষ্ঠানিকতার বিরুদ্ধে জোরালো হচ্ছে মানুষের প্রতিরোধ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দান্তেওয়াড়া থেকে মুটিয়া — প্রাতিষ্ঠানিকতার বিরুদ্ধে জোরালো হচ্ছে মানুষের প্রতিরোধ

মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা চিরকালীন। তা আধ্যাত্মিক হতে পারে কিংবা বৈষয়িক। প্রাতিষ্ঠানিকতার বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিস্পর্ধা নতুন ঘটনা নয়। নিত্যদিনের রুজি রোজগারের সংগ্রামে যারা প্রতিনিয়ত লিপ্ত থাকেন অভাব-অভিযোগ,বঞ্চনার শিকার হলে তা থেকে নিষ্কৃতির পথ তাঁরা খুঁজে নেবেনই । সে অন্বেষণের বহিঃপ্রকাশ ভিন্ন প্রকারের হতে পারে। কখনও তা ব্যক্তিগত ভাবে বিচ্ছিন্ন উপায়ে,কখনও বা তা গোষ্ঠীবদ্ধ স্বতঃস্ফূর্ত উপায়ে। পরিকল্পিত রাজনৈতিক উদ্যোগও বিরল নয়। কিন্তু কারণ যাই হোক মানুষের প্রতিরোধের সম্মুখীন হতে হয় পুলিশ সেপাইদের, যারা রাষ্ট্রব্যবস্থার রক্ষক রূপে কাজ করেন। কালিয়াগঞ্জ হোক বা মুচিয়া বা ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়াড়া— এ চিত্রে খুব বেশি বদল দেখা যায় না।

ছত্তিশগড়ের আদিবাসী অধ্যুষিত দান্তেওয়াড়া সুদীর্ঘকাল ধরেই শাসক শ্রেণীর বঞ্চনার শিকার। মানুষের মতো বাঁচতে গেলে যে ন্যূনতম শর্তগুলো পূরণ করা উচিত তা পূরণে রাষ্ট্রের অনীহা আজকের নয়। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছে উগ্রপন্থীরা। বারে বারে মাওবাদী ও সেনা জওয়ানদের সংঘর্ষে রক্তাক্ত হয়েছে সেখানকার মাটি বিস্ফোরণে। বুধবারেও ব্যতিক্রম ঘটল না। আইইডি বিস্ফোরণে মৃত্যু হল দশ ১০ পুলিশ কর্মীর। মানুষের ক্ষোভ রূপ পেল সংগঠিত প্রতিরোধে।

কালিয়াগঞ্জ বা মুটিয়াতেও চিত্র মোটামুটি একই। ব্যক্তিগত হোক বা সমষ্টিগত ক্ষোভের নিশানায়  সেই রাষ্ট্র। নাবালিকা ধর্ষণ এবং তার সঙ্গে পুলিশের অমানবিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় মানুষ। তাঁদের বিক্ষোভের জেরে অগ্নিদগ্ধ হয়েছে থানা। গ্রামবাসীদের তাড়া খেয়ে কোনো রকমে একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন পুলিশ কর্মীরা। তারপরেও রেহাই মেলেনি। মুটিয়াতে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন তার পারিবারিক সমস্যা নিয়ে থানায় প্রতিকার জানিয়েছেন কিন্তু কোনো সুরাহা মেলেনি। প্রতিবাদ জানানোর জন্য বিদ্যালয় প্রাঙ্গনের মতো জনপরিসরে নিজের নাটকীয় উপস্থিতিকে উজ্জ্বলতর করে তুলেছেন। পুলিশ সময়মতো উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু যে প্রতিষ্পর্ধার আগুন জনসাধারণের মধ্যে দিনের পর দিন বেড়ে চলেছে তাকে সামলাবে রাষ্ট্রের কোন বেয়নেট?

আসলে রাষ্ট্রের উদাসীনতা, বঞ্চনা ও নিপীড়ন সহনশীলতার সব সীমাকে যখন অতিক্রম করে যায় তখন অসংগঠিত জনগণ  ক্রমে নিজেই  তার প্রতিকারের পথ খুঁজে নিতে চায়।  রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের মুখাপেক্ষী থাকতে চায় না। মানতে চায় না দেশের আইন ব্যবস্থাকে। আস্থা হারায় বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতায়। সাম্প্রতিকতম দৃষ্টান্তগুলো রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তথাকথিত সহায়সম্বলহীন আম জনতার অনিয়ন্ত্রিত প্রত্যাঘাতকে সামনে তুলে ধরছে। ফাঁপা ও  নিরেট  করে  তুলছে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের ঢক্কানিনাদকে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!