Advertisement
  • মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
  • অক্টোবর ১২, ২০২২

বিজেপি–র অঙ্গুলি হেলনে সৌরভের ক্রিকেট প্রশাসকজীবন শেষের পথে

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিজেপি–র অঙ্গুলি হেলনে সৌরভের ক্রিকেট প্রশাসকজীবন শেষের পথে

ক্রিকেট প্রশাসনে সৌরভ গাঙ্গুলি অধ্যায় কি সমাপ্তির পথে?‌ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের মসনদ থেকে তাঁকে সরানোর পর প্রশ্নটা উঠতে শুরু করেছে। ভারতীয় ক্রীড়া প্রশাসনে রাজনীতির প্রভাব নতুন নয়। সব সংস্থার শীর্ষ পদাধিকারীরা সাধারণত কোনও না কোনও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকেন বা রাজনৈতিক দলের প্রভাবাধীন। সৌরভের ভারতীয় দলের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পেছনেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাত ছিল। ২০১৯ সালে কর্ণাটকের ব্রিজেশ প্যাটেলেন বোর্ড প্রেসিডেন্ট হওয়া একপ্রকার নিশ্চিত ছিল। শেষ মুহূর্তে পাশার দান উল্টে দেন অমিত শাহ।

যে বিজেপি তাঁকে ভারতীয় ক্রিকেট মসনদে বসিয়েছিল, সেই বিজেপি–র গুগলিতেই বোল্ড সৌরভ। কেন সৌরভকে সরিয়ে দেওয়া হল?‌ আসলে বাংলার রাজনীতিতে তাঁকে ব্যবহার করা পরিকল্পনা ছিল বিজেপির। ২০১৯ সালে বোর্ড প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে অমিত শাহর সঙ্গে দেখা করেছিলেন সৌরভ। শোনা যায়, সেই বৈঠকে অমিত শাহকে সৌরভ নাকি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি বঙ্গ বিজেপির মুখ হবেন। কিন্তু সৌরভ আর রাজনীতিতে যোগ দেননি। ফলে তিনি বিজেপি–র বিরাগভাজন হন। তাই তাঁকে আর বোর্ড প্রেসিডেন্ট পদে পুনরায় বসানোর ঝুঁকি নেননি অমিত শাহরা। তাঁর জায়গায় বেছে নেওয়া হয়েছে রজার বিনিকে। যদিও সচিব পদে থেকে যাচ্ছেন অমিতপুত্র জয় শাহ।

এখন প্রশ্ন হল, সৌরভের ভবিষ্যত কী। মুম্বইয়ের বৈঠকে সৌরভকে আইপিএলের চেয়ারম্যান হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। রাজি হননি সৌরভ। না হওয়ারই কথা। বোর্ড প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর কী করে কম গুরুত্বপূর্ণ পদে বসবেন?‌ একেবারে প্রধানমন্ত্রী থেকে ক্যাবিনেট মন্ত্রী করে দেওয়ার মতো ব্যাপার। এখন একমাত্র আশা আইসিসি চেয়ারম্যানের পদ। কিন্তু সেখানেও সম্ভাবনা ক্ষীণ। যেভাবে বোর্ড প্রেসিডেন্টের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হল, এরপর কি আর আইসিসি–তে তাঁকে পাঠানো হবে?‌

তাছাড়া আইসিসি–র চেয়ারম্যান পদের জন্য সৌরভের সঙ্গে লড়াইয়ে ঢুকে গেছেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর ও প্রাক্তন বোর্ড প্রেসিডেন্ট এন শ্রীনিবাসন। বিজেপি নেতৃত্ব যদি অনুমতি দেয়, তাহলে অবশ্যই অনুরাগ ঠাকুর এগিয়ে। দক্ষিণী লবি শ্রীনিবাসনের জন্য লড়াইয়ে নেমে পড়েছে। সৌরভ গাঙ্গুলিকে আইসিসি–তে পুনর্বাসন দেওয়া হয় কিনা, সেটাই দেখার। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সমর্থন না পেলেও সৌরভ আইসিসি–র চেয়ারম্যানের পদে লড়তেই পারেন। কারণ, নতুন নিয়মে আইসিসি–র চেয়ারম্যান পদে লড়তে গেলে কোনও দেশের ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধি না হলেও চলবে। এখন দেখার সৌরভের ভাগ্য কোনদিকে গড়ায়। ১৩ নভেম্বর টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালের দিনেই চূড়ান্ত হবে যাবে। আইসিসি–র চেয়ারম্যয়ান, না ক্রিকেট প্রশাসক হিসেবে জীবন শেষ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!