- প্রচ্ছদ রচনা
- মার্চ ৪, ২০২২
বিশ্ব যুদ্ধের আশঙ্কা দূর অস্ত। গর্জে উঠবে বিশ্ব বিবেক। যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে। বিশেষ বিশ্লেষণে আরম্ভ ।
ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রুশ বোমার আগুন । বিশ্বকে জেলেনস্কির কাতর আর্তি । ইউরোপকে আহ্বান, দয়া করে জাগুন।
ইউক্রেনে অবস্থিত ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আগুন জ্বলছে । ইউক্রেন-এর অভিযোগ, রাশিয়া অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত ট্যাঙ্ক থেকে বোমা হামলা চালিয়েছে । একারণেই ভয়াবহ আগুন জেপোরোজিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে নয় । আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা দু’পক্ষকে সতর্ক করে বলে দিয়েছে— বিদ্যুৎ কেন্দ্রর আশেপাশে সংঘর্ষ থামান, না হলে আরও বড় বিপর্যয় ঘনিয়ে আসবে । হামলার ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর নেই । বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এখনও নিরাপদ। বিকিরণের মাত্রাও স্বাভাবিক।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিশ্বকে আহ্বান জানিয়েছেন । আর্তনাদের মতো তাঁর অনুনয়, ইউরোপীয়নরা দয়া করে জাগুন । আপনাদের রাজনীতিবিদদের বলুন, রুশবাহিনী ইউক্রেনের পারমাণবিক কেন্দ্রে গুলি চালিয়েছে ।জেলেনস্কির অনুনয়ের প্রতিক্রিয়ায় ন্যাটো সংশ্লিষ্ট বিশ্বনেতারা একজোট। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, পুতিনের বেপরোয়া হামলায় প্রত্যক্ষভাবে ইউরোপের নিরাপত্তা সঙ্কটের মুখে । মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মস্কোকে পরমাণু কেন্দ্রের আশপাশে সামরিক তৎপরতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তিন নেতাই গত কাল ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএ বলেছে, আগুন প্ল্যান্টের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামকে প্রভাবিত করেনি। বিকিরণের মাত্রাও বাড়ে নি ।
রুশ-ইউক্রেনের যুদ্ধ নিয়ে নানা ধরনের তথ্য আসছে । যুদ্ধের সময় যা স্বাভাবিক । খতিয়ে দেখে আরম্ভর বিশ্লেষকদের অনুমান, লাগাতার আক্রমণের পরেও রাশিয়া বেশিদূর এগোতে পারে নি । দুপক্ষের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে । রুশ সেনাদের কিয়েভ দখলের চেষ্টা অব্যাহত। লাগাতার গুলি চলছে । আতঙ্কিত মানুষ শহর ছেড়ে পালাচ্ছেন । রাশিয়া বিশ্বে প্রায় কোনঠাসা হলেও তার আগ্রাসন চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাইছে । ইউরোপ ও আমেরিকা সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করবে না। পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে, সিরিয়া কিংবা ইয়ামেনের মতো হতে পারে । দূর থেকে ইউরোপিয়ান রাষ্ট্রগুলি উসকানি দিয়ে যাবে। রাশিয়াকে যুদ্ধে জড়িয়ে তার অর্থনীতিকে, সামরিক শক্তিকে ‘রক্তশূন্য’ করে দেওয়ার প্রয়াস চালাবে। একগুয়ে পুতিন তার দেশবাসি এবং বিশ্ব জনমতকে উপেক্ষা করে যুদ্ধ অব্যাহত রেখে সর্বনাশা ঝুঁকির মুখে পড়বেন। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আবহ তৈরি হতে পারে । একথা যাঁরা বলছেন, তাঁরা ভুলে যাচ্ছেন বহু দেশ আজ পরমানু শক্তিধর। রুশ আগ্রাসন নিয়ে শক্তিধর দেশগুলির নড়বড়ে অবস্থানের সুযোগে কোনো কোনো রাষ্ট্র তলে তলে পরমানু বোমা বানিয়ে ফেলবে । পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে যুদ্ধবাজ নেতারা পাগলের মতো পরমাণু আঘাত হানবে না, তা নিশ্চিত নয়। একারণেই, রুশ-ইউক্রেনের যুদ্ধকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে মোড় নিলেই বিশ্ব বিবেক গর্জে উঠবে। গত দুই বিশ্বযুদ্ধের রক্তাক্ত দাগের স্মৃতি এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে । এর সঙ্গে আরেকটি যুদ্ধে যোগ হলে সভ্যতার গতি থমকে যাবে। চূড়ান্ত অব্যবস্থা ও ভাঙণের সম্মুখীন হবে মানুষের দিনযাপন । হামলে পড়বে দারিদ্র। নৈতিকতার জায়গা নেবে দুর্নিতী, ধর্ষন আর রাহাজানি । এমন ভবিষ্যত কে দেখতে চায়? অথএব যুদ্ধ থামবে । যুদ্ধবাজ রাশিয়া আর ন্যাটো হার মানতে বাধ্য হবে।
❤ Support Us








