Advertisement
  • ধা | রা | বা | হি | ক
  • মার্চ ১৩, ২০২২

অন্য ভাষা ভিন্ন স্বর

অন্য ভাষা ভিন্ন স্বর

annya-bhasa-bhinnya-swr


 গত শতাব্দীর ত্রিশের দশক থেকে, বিদেশি ভাষার বহু স্বর, বহু সুর, নানা রকম ভাষাভঙ্গি আর বহুমাত্রিক বিষয়ের সংযোজনে ঋদ্ধ হয়েছে আমাদের কবিতা পাঠের মগ্ন চেতনা। কিন্তু এই উপমহাদেশের উত্তর আর দক্ষিণ, পূর্ব আর পশ্চিমের কবিতা, কবিতা ভাবনা দূরে পড়ে রইল এখনও । কেন ? ভারতীয় ভাষাচর্চায় অনীহা, না এক প্রতিবেশীর সঙ্গে আরেক প্রতিবেশীর, আরোপিত প্রকান্তরে অনুশাসিত দূরত্বই তৈরি করেছে অপরিচিতির চৌহদ্দি ? যুক্তিপ্রসূত জিজ্ঞাসা নিয়ে উপমহাদেশের বিভিন্ন ভাষার কবিতার ধারাবাহিক তরজমায় প্রতিস্পর্ধী, সমান্তরাল চিন্তার বিশিষ্ট সহযোগী অংশুমান কর


না ম দে ও  ধা সা ল

১৯৪৯, মহারাষ্ট্রের পুর-কানেস্বর গ্রামে মারাঠা সাহিত্যের প্ৰধান এই কবি (১৯৪৯-২০১৪)-এর জন্ম। মুম্বাই শহরে, ট্যাক্সির স্টিয়ারিং হাতে কেটেছে কৈশোর । একসময় দেহজীবী, মাদক পাচারকারী, চোরাচালানকারীদের সঙ্গে নিয়মিত ওঠাবসায় সখ্য বাড়ে অন্ধকার সমাজের সঙ্গে । ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’দের অনুকরণে গড়ে তোলেন মুম্বাইয়ে ‘দলিত প্যান্থার’ নামক বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী । সে বছরই কবিতায় তাঁর আত্মপ্রকাশ । মলাটবন্দী হয় প্রথম কাব্যগ্রন্থ “গোলপিঠা”। বইটি মারাঠি কবিতার প্রতিষ্ঠিত লব্‌জটিকেই আক্রমণ ও প্রতিস্থাপন করে। সাহিত্য অকাদেমি নামদেও ধাসালকে তাঁর আজীবনের কাব্যকৃতির জন্য সম্মান জানিয়েছে। পাঠক মহলে নামদেও ধাসাল বন্দিত কবিতার বিষয় ও শব্দ নির্বাচন এবং অসীম সাহসের জন্য। প্রতিবাদের কবিতা, বক্তব্যের স্বচ্ছতা সত্ত্বেও, তাঁর কলমে কখনওই একস্তরীয় হয়ে ওঠেনি।

দারিদ্র

আমাদের সমস্ত যন্ত্রণা থেকে জন্ম নিয়েছে মিষ্টি ছানা দারিদ্র।
আমরা ওর অন্নপ্রাশনের দিন প্রচুর টাকা খরচ করে একটা নৈশভোজ দিতে পারিনি
কেবলমাত্র এই কারণে, ভাইসব, প্রতিহিংসা মেটাবার জন্য প্রতিশোধ নিও না—

শিশুদের পোশাকে মোড়া ছোট্ট ছানাটিকে দেখো, কী মিষ্টি,
প্রস্ফুটিত হতে পারার আগেই ও ঝরে পড়তে পারে
মন্দ লোকেদের দৃষ্টি থেকে ওকে রক্ষা করতে ওর কপালে রক্তের একটা কালো ফোঁটা দিয়ে দাও।
সস্তাদরে তোমাদের দুঃখকষ্টগুলোকে বিক্রি করে দাও যাতে বাচ্চাটা তোমাদের আশ্লেষে জড়িয়ে ধরতে পারে, তোমাদের কোলে শুয়ে খেলতে পারে
তোমাদের চোখ ওকে প্রদীপ শিখার মতো জ্বালাতে পারবে না,  তোমাদের দু-বাহুর  দোলনায় তোমরা ওকে দোলাতে পারবে না
কিন্তু ভাইসব তোমরা গাইতেই পারো
“আমাদের যা আছে তার বেড়ে-ওঠাকে সাহায্য করতে–চলো মাটিতে পড়ে যাই আর উঠে দাঁড়াই !”
বাচ্চাটার একটা বিশ্রী সর্দি জ্বর হয়েছে বলে তোমরা এমন ভেঙে পড়তে পারো না ।
ওর কি পেট কামড়াচ্ছে নাকি ? হতেই পারে যে, ওর পেটে হয়তো ব্যথা করছে ।
ও কি জলের মতো পায়খানা করছে ? হতে পারে যে, ওর রিকেট হয়েছে ।
ও কি খুব বেশি কান্নাকাটি করছে ?  চিল-চিৎকার ওকে আরও শক্তপোক্ত করবে ।

এসো, ও গাই, গোয়ালে এসো !
আমাদের বাচ্চাটার পেয়ালা ভরে দাও তোমার দুধে !
দূর হটো, দূর হটো কুত্তী! ভাগো, তোমার চার পায়ে !
আমার সোনাটা কত্ত না ভালোবাসে দুধের ওপর সর !

ও ছোট্ট মেয়ে, আমার পেয়ারী, আমার সোনার কুচি,
ও সোনামনা, তোমার হাত আর পা নিখাদ রুপোয় বানানো !
ঘরের বাইরে যেও না সোনা, সাবধান,
বাইরে গেলেই কিন্তু ওই ছেলেগুলো ধরবে তোমায় আর দেবে মার !

ভাইসব, পৃথিবীর সমস্ত যত্নআত্তিকে একত্র করে এই ছোট্ট সোনাকে দু-হাতে ওপরে তুলে ধরো
তবে সাবধান, ও কিন্তু তোমাদের জামায় মুতে দেবে।
আমাদের সমস্ত যন্ত্রণা থেকে জন্ম-নেওয়া বাচ্চা, মিষ্টি ছানা দারিদ্র।

চিত্র: দেব সরকার

 

খিদে

খিদে;

আমরা আমাদের দাবি-দাওয়া পেশ করেছি।
তোমার আমাদের প্রয়োজন হোক।
আমরা কি কখনও  মাটির গভীরে শেকড় পুঁতে দেব না?
চলো আমরা মাটিতে শেকড় চারিয়ে দিই।
সূর্য সকাল-হওয়াকে ভুলে যেতে পারে;
নদী সময়কে ভুলে যেতে পারে।
আলোকিত জীবনের চেয়ে আরও একটু বেশি কিছুই
আমরা আলোর থেকে চাইব ভেবেছিলাম
কিন্তু আলো আমাদের হতাশ করেছে।

খিদে;
উদাসীন স্তম্ভগুলির মতো  আমাদের দরজায় মেঘেদের নিছক দাঁড়িয়ে থাকতে
কোনও অনুমতি আমরা আর দেব না।
আর কত দীর্ঘ সময় ধরে
আমরা আমাদের দুঃখের জন্য কৃতজ্ঞ থাকব ?
কৃতজ্ঞ থাকব সেই সংগীতের জন্য যাকে ধারণ করে রেখেছে আমাদের দুঃখ ?
যখন আমরা এমনকি ঘর বাঁধতে পর্যন্ত পারছি না
তখন আমাদের ফুলেদের সঙ্গে যুদ্ধ করার কী অধিকার আছে ?
আমরা আর কতদিন ধরে আমাদের দুঃখের কেটে-যাওয়া ফিউজটিকে
জ্বালাবার চেষ্টা করব ?
আর কতদিন ধরে আমরা নিজেদের পোড়াতেই থাকব ?
আর কতদিন ধরে এই আগুনের শিখাগুলিকে ধরবার চেষ্টা করে যাব আমরা ?
সূর্যের এই জ্বলন্ত প্রবাহের মধ্যে
আমরা যদি আমাদের চৈতন্য খুঁজে না-পাই
পরাজিত সৈনিক হিসেবে আমরা তোমাকে স্যালুট করব।
কে বলেছে যে, একটি সৈন্যবাহিনীর সমস্ত সৈন্যরাই
নায়কের মতো লড়াই করে ?

খিদে;
কোনটা প্রথম—
গাছ না বীজ ?
খিদে; তুমি এই প্রশ্নটাকে বদলে নাও একটা ধাঁধাতে।
খিদে; আমদের স্রেফ এইটা বলো যে, এই বাঁদরটা কোন জাতের।
যদি এই প্রশ্নটার উত্তর দিতে না-পারো, আমরা তোমার সতেরো পুরুষকে
চুদব।
খিদে, তোমার মাকে চুদব…

 

একটি জামাকে নিয়ে জল্পনা

একটি যন্ত্রণাক্লিষ্ট ভালোবাসাবাসির কালকে অতিক্রম করে
চলো আমরা নিয়মাবলির ঐতিহ্যশালী বাগানটিকে প্রত্যাখ্যান করি।

চলো আমরা ইভের সঙ্গে  আমাদের লিঙ্গ-পরিচয় পালটে নিই।
চলো আমরা আদমকে গর্ভবতী করি।
চলো, জল্পনা করি প্রাণীদের উদ্বেগের বাইরের অন্য কিছু নিয়ে।
নরক একটা জলাভূমি।
মানুষের প্রতিশ্রুতি রক্ষার ইতিহাসে
চাঁদ একটা কুটনির মতো কাজ করে।
একটা বিদেহী ঊষর প্রান্তরে
যৌন বাসনার ষাঁড়টি জাবর কাটে।
আমরা একটা ডুবতে-থাকা জাহাজে যাত্রা করি
আর হয়ে যাই বর্বর।
এমনকি সাদামাটা লবঙ্গও আমাদের জিভ পুড়িয়ে দেয়;
আর আমরা আলোকে ভয় পাই।
ঠিক এভাবেই মুক্তি নিজেই একজন মানুষকে শাস্তি দেয়।

একজন মানুষের অতখানি নিষ্কলঙ্ক হওয়া উচিত নয়।
একজন মানুষের উচিত তার জামায় কতগুলো দাগ রেখে দেওয়া।
একজন মানুষের উচিত তার শরীরে একটুখানি পাপ বহন করা।

 

♦–♦–♦

 

 

 


❤ Support Us
Advertisement
Hedayetullah Golam Rasul Raktim Islam Block Advt
Advertisement
homepage block Mainul Hassan and Laxman Seth
Advertisement
শিবভোলার দেশ শিবখোলা স | ফ | র | না | মা

শিবভোলার দেশ শিবখোলা

শিবখোলা পৌঁছলে শিলিগুড়ির অত কাছের কোন জায়গা বলে মনে হয় না।যেন অন্তবিহীন দূরত্ব পেরিয়ে একান্ত রেহাই পাবার পরিসর মিলে গেছে।

সৌরেনি আর তার সৌন্দর্যের সই টিংলিং চূড়া স | ফ | র | না | মা

সৌরেনি আর তার সৌন্দর্যের সই টিংলিং চূড়া

সৌরেনির উঁচু শিখর থেকে এক দিকে কার্শিয়াং আর উত্তরবঙ্গের সমতল দেখা যায়। অন্য প্রান্তে মাথা তুলে থাকে নেপালের শৈলমালা, বিশেষ করে অন্তুদারার পরিচিত চূড়া দেখা যায়।

মিরিক,পাইনের লিরিকাল সুমেন্দু সফরনামা
error: Content is protected !!